Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার , ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

বরিশাল-ফরিদপুর জাতীয় মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরন প্রকল্প শুরুর আগেই জটিলতা

প্রকল্প ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকা দাতা চূড়ান্ত হয়নি

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ২ অক্টোবর, ২০১৯, ৫:২৫ পিএম

পায়রা সমুদ্র বন্দর সহ দক্ষিণাঞ্চলের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষে বরিশালÑফরিদপুর জাতীয় মহাসড়কটি ৪লেনে উন্নীত করন প্রকল্পটি নিয়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক-এর সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এ মেগা প্রকল্পটির জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ডিটেইলড ডিজাইন সহ প্রাথমিক ডিপিপি তৈরী সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে দাতা চূড়ান্ত না হবার মধ্যেই মহাসড়কটির বরিশাল মহানগরীর অভ্যন্তরের প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলাকায় নতুনকরে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

বরিশাল-ফরিদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের লক্ষে ১৯৬০-৬৫সালে ১২০ফুট প্রসস্ত ১২৪কিলোমিটার দীর্ঘ ভূমি অধিগ্রহন করা হয়েছিল। কিন্তু ৪ লেন রাস্তা নির্মান করতে গিয়ে বিদ্যমান মহাসড়কটির দুপাশে আরো প্রায় ৩ হাজার একর ভূমি হুকুম দখলের প্রক্রিয়া শুরু হতেই নগরবাশী ফুসে উঠেছে। তাদের দাবী মহানগরীর গড়িয়ার পাড় থেকে দপদপিয়াতে শহিদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতু পর্যন্ত ১৬কিলোমিটার মহাসড়ক ৪লেনে উন্নীত করতে দুপাশের বিপুল সংখ্যক বাড়ীঘর সহ সরকারী-বেসরকারী স্থাপনা ভেঙে ফেলতে হবে। এ ১৬ কিলামিটারের মধ্যে অন্তত ৩০টি মসজিদ ছাড়াও একাধীক মন্দির ও সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ স্থাপনার ভবনও ভেঙে ফেলতে হবে। অথচ গড়িয়ার পাড় থেকে দপদপিয়া পর্যন্ত সাড়ে ১১কিলোমিটার বইপাস সড়ক নির্মান করলে এসংকট এড়ান সম্ভব। নগরবাশী ইতোমধ্যে এলক্ষে ব্যাপক আন্দোলনও গড়ে তুলেছে।

২০০২সালে বরিশাল-ফরিদপুর-মহাসড়কটি ৪লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। অথচ ১৯৯৮ সালে বরিশাল বাইপাস নির্মনের একটি ডিপিপি যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ে জমা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা আর আলোর মুখ দেখেনি। কারিগড়ি বিশেষজ্ঞদের মতে আরো অনেক আগেই এবিভাগীয় শহরে বাইপাস নির্মনের প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকেও ইতোপূর্বে সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়।

সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফরিদপুর থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটি ৪লেনে উন্নীত করার লক্ষে ভূমি অধিগ্রহনে ইতোমধ্যে প্রায় ১হাজার ৮শ কোটি টাকা বরাদ্ব দেয়া হয়েছে। এ কর্মসূচীর আওতায় ফরিদপুরে প্রায় ৭১ একর, মাদারীপুরে ৪৬ একর, বরিশালে ৯১ একর ও পটুয়াখালীতে ৯৬ একর ভূমি হুকুম দখল আগামী জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা।

একটি দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, সরকার ফরিদপুর থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২৩২ কিলোমিটার মহাসড়কই ৪ লেনে উন্নীতকরার পরিকল্পনা সহ এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রাথমিক নকশা প্রনয়ন সম্পন্ন করে জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা লাভ সহ নানা কারণ বিবেচনা করে তা দুই পর্যয়ে বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে বরিশাল থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত ১২৬কিলোমিটার মহাসড়ক ৪লেনে উন্নীত করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি’র আর্থিক সহায়তার চেষ্টা চলছে। পরবর্তিতে দাতা পাওয়া গেলে বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ১০৮কিলোমিটার মহাসড়ক ঐ প্রকল্পের আওতায় আসবে। কলাপাড়া থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত প্রায় ৮কিলোমিটার সংযোগ সড়কটি বন্দরের নিজস্ব অর্থে ৪লেন-এ উন্নীত করনের কাজ প্রায় শেষের পথে। অরসিসি প্রযুক্তিতে ঐ সড়কটি নির্মান করছে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী।

এদিকে গত দুই দশকে বরিশাল-ফরিদপুর মহাসড়কে যানবাহনে চাপ দ্বিগুনেরও বেশী বেড়ে গেছে। ২০২১সালের মধ্যে পায়রা বন্দরের বানিজ্যিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলে এমহাসড়কে ভাড়ী যানবাহনের সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে। ফলে বরিশাল মহানগরীর মধ্যে দিয়ে এসব যানবাহন চলাচলে জানমালের ঝুকি আরো বাড়বে। নগরীর রূপাতলী থেকে নথুল্লাবাদ হয়ে গড়িয়ারপাড় পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার রাস্তায় সৃষ্টি হবে তীব্র যানযট। উপরন্তু সরকারী-বেসরকারী বহু স্থাপনা ভেঙে ৪লেনের জন্য নতুন ভূমি অধিগ্রহনে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতার সৃষ্টি হবে বলেও মনে করছেন বিশষজ্ঞমহল।

এসব বিচেনায় গড়িয়ার পাড় থেকে দপদপিয়া সেতুর সংযোগ সড়ক পর্যন্ত নতুন জমি অধিগ্রহনের পরিবর্তে পূর্বের হুকুম দখলকৃত ১২০ফুট প্রসস্ত জমিতেই ৪লেন মহাসড়ক নির্মান সম্ভব বলেও মনে করছেন কারিগরি বিশেষজ্ঞ মহল। তবে নগরীর যানযট নিরশন সহ নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষে নথুল্লাবাদ, নবগ্রাম রোড-চৌমহনী ও আমতলাতে ৩টি ফ্লাইওভার নির্মানেরও সুপারিশ করেছে কারিগরি বিশেষজ্ঞগন।

তবে যেকোন উপায়ে যানযট মূক্ত বরিশাল মহানগরীর জন্য বাইপাস নির্মানের কোন বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন একাধীক কারিগরি বিশেষজ্ঞ। বাইপাস নির্মানে বরিশালের জেলা প্রশাসনেরও সুপারিশ রয়েছে। বিষয়টি গত বছর ডিসি সম্মেলনে উথাপিত হবার পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকেও এ নিয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বরিশাল সড়ক জোন-এর ২০১৭সালের এক সভায় এ বাইপাস নির্মানের সুপারিশ জানান হয়।

তবে একটি বিশ্বস্ত সূত্রের মতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ইতোমধ্যে ‘টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্স ফর সাব-রিজিওনাল রোড ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট প্রিপারেটরি ফেসিলিটিজ’এর আওতায় ফরিদপুর-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রাথমিক নকশা প্রনয়ন সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মহাসড়কটির বরিশালÑফরিদপুর অংশের ১২৬ কিলোমিটারে ৪ লেন-এর নির্মান কাজ শুরুর লক্ষে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি ইতিবাচক ভাবেই এগুচ্ছে বলেও জানা গেছে। এ প্রকল্পে ব্যায় হবে প্রায় ২০ হাজার কেটি টাকা।

বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রিয়াজ উদ্দিন আহমদ-এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, দক্ষিণাঞ্চলের এ জাতীয় মহাসড়কটি ৪ লেনে উন্নীত করনে সম্ভব্যতা সমিক্ষা, নকশা ও ডিপিপি তৈরী হয়েছে। তবে বরিশাল মহানগরীর অভ্যন্তর দিয়ে ৪লেন নির্মিত হবে, না বাইপাস হবে, তানিয়ে পুনরায় পরিক্ষা নিরক্ষা চলছে। তবে স¤প্রতি এক সভায় সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয়ের সচিব বরিশাল মহানগরীর যে ১৬ কিলোমিটার এলাকায় ৪ লেন নিয়ে জনগনের আপত্তি রয়েছে, সেখানে ১৯৬০ সালে অধিগ্রহনকৃত ১২০ ফুট প্রশস্ত ভূমি পুনরুদ্ধার করে সীমানা চিঞ্হিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গছে। পরবর্তিতে পুরো বিষয়টি পরিক্ষা নিরিক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছে একাধীক সূত্র।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মহাসড়ক

২১ অক্টোবর, ২০১৯
৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
২৯ আগস্ট, ২০১৯
২৮ আগস্ট, ২০১৯
২২ আগস্ট, ২০১৯
২০ আগস্ট, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন