Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

কাশ্মীরে আদালতের অচলাবস্থা, ভোগান্তিতে বন্দিরা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ অক্টোবর, ২০১৯, ৫:২১ পিএম

ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর থেকেই উপত্যকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যা নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এবার অঞ্চলটিতে আদালতের অচলাবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে কাশ্মীরি বন্দিরা। খবর এনডিটিভি।

সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, এক দিকে অঞ্চলটিতে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে সেখানকার হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে আর অপর দিকে শ্রীনগরের উচ্চ আদালতে কমানো হয়েছে বিচারকের সংখ্যা। এবার যার সঙ্গে যোগ হয়েছে আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচিও। সব মিলিয়ে এক রকম ভোগান্তিতে পড়েছেন কাশ্মীরি বন্দি, বিচার প্রার্থীসহ তাদের স্বজনেরা। এমনকি কবে নাগাদ এই ভোগান্তির অবসান হবে তারও কোনো ইঙ্গিত নেই।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি নিউজ জানায়, রাজ্যের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী খ্যাত শ্রীনগরের উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে বসে থাকা আলতাফ হোসেন লোন ভীষণ উদ্বিগ্ন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরবর্তী বারামুল্লাহ শহরের নিজ বাড়ি থেকে আদালতে এসেছেন তিনি। উদ্দেশ্য তার ভাই সাব্বিরের জন্য একজন আইনজীবীর খোঁজ করা। সম্প্রতি চরম বিতর্কিত জননিরাপত্তা আইনে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে মূলত গ্রেফতারকৃতদের কোনো ধরনের অভিযোগ গঠন ছাড়াই অন্তত দুই বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যায়।

সাব্বিরের জন্য কোনো আইনজীবীর সন্ধান পাচ্ছিলেন না তার ভাই আলতাফ। কেননা জম্মু ও কাশ্মীর বার অ্যাসোসিয়েশন তাদের সাবেক সভাপতি মিয়া আবদুল কাইয়ুম ও নাজির আহমেদ রোঙ্গাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ৫০ দিনেরও বেশি সময় যাবত আদালত বর্জন করেছে। যদিও তাদের দুজনকেই এই জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের পৃথক কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যে কারণে একদমই আইনজীবী ছাড়া কিভাবে ভাইকে মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করবেন তা নিয়ে এখন সংশয়ে পড়েছেন তিনি। আইনজীবীদের দাবি, সহকর্মীদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এই আদালত বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এ দিকে শ্রীনগর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা তারিক নামে আরেক ব্যক্তি জানান গত ৭ আগস্ট গ্রেফতার হওয়া শ্বশুরের জন্য তিনি আইনজীবী খুঁজছেন। তার ভাষায়, ‘৬৩ বছর বয়সী আমার শ্বশুরকে কিছুদিন আগে মধ্যরাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। পরে সেখানকার থানায় তাকে কয়েক দিন আটকে রাখার পর এখন এই কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছে।’ তারিক বলেন, ‘আমার শ্বশুর জামাত-ই-ইসলামির (কাশ্মীরে দিল্লির শাসনের বিরোধিতা করে দলটি) মতাদর্শ অনুসরণ করেন; কিন্তু গত পাঁচ বছর আগেই তিনি সেই দল ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা একমাস যাবত আদালতে দৌড়ে বেড়াচ্ছি। তিনি বেশ অসুস্থ, তার দুটো অপারেশন হয়েছে।’

অপর দিকে শ্রীনগর উচ্চ আদালতের এমন অচলাবস্থার দৃশ্য এরই মধ্যে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে উত্থাপিত হয়েছে। এমনকি প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে যে রকম বাজে পরিস্থিতির খবর প্রকাশিত হচ্ছে আসলে তা সত্যি কিনা এবার সেটাই প্রত্যক্ষ করতে হবে। তাই আমি খুব শিগগিরই শ্রীনগর সফরে যেতে পারি।’

এর আগে গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারসহ রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানানো হলেও; কাশ্মীর জুড়ে এখনো সংঘর্ষ ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি পাকিস্তানের।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাশ্মীর


আরও
আরও পড়ুন