Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ গ্যাসের ব্যবহার

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ৫ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

অবাধে চলছে গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার। বাসা বাড়িতে বৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রয়েছে প্রায় পাঁচ বছর ধরে। শিল্পে নতুন গ্যাস সংযোগে কিংবা গ্যাসের চাপ বাড়িয়ে নিতে বড় ঝক্কি পোহাতে হয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধে অভিযানও চালাচ্ছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। গত ৫ বছরে আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্য খাতের অবৈধভাবে সংযোগ দেওয়া প্রায় ১২০০ কিলোমিটার পাইপলাইন উচ্ছেদ করেছে তিতাস গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানি (টিজিটিডিসিএল)। তারপরও দেওয়া হচ্ছে নতুন নতুন অবৈধ সংযোগ। বিতরণ কোম্পানির স্থানীয় কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ঠিকাদারদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এতে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলএনজি আমদানির আগে সরকার সব ধরনের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিলেও এখনপর্যন্ত অবৈধ গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ হয়নি। প্রতিমাসেই তিতাস অবৈধ পাইপ লাইন উচ্ছেদ করছে। খোদ সংসদীয় কমিটিতেই বিষয়টি নিয়ে উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। বলা হচ্ছে, ঢাকার পাশের অবৈধ ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না স্থানীয় সংসদ সদস্যদের দাপটের কারণে। অন্যদিকে তিতাস বলছে, অবৈধ সংযোগ কাটতে গেলে বাধা আসছে ওপর মহল থেকে। তাদের নামও প্রকাশ করা দুঃসাধ্য বিষয়।এভাবে চলতে থাকলে অবৈধ গ্যাসের ব্যবহার আদৌ বন্ধ হবে না।
তিতাসের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) মোস্তফা কামাল ইনকিলাবকে বলেন, আবাসিকের ক্ষেত্রে যেখানে অবৈধ সংযোগের খবর পাচ্ছি, সেখানেই লাইন কেটে দিচ্ছি। লাইন কেটে দেওয়ার পর সেখানে নতুন সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। কারণে সেখানে আমরা ক্যাপিং করে দেই। ফলে নতুন সংযোগের জন্য নতুন পাইপ বসাতে হয়। তিনি বলেন, কোনও কারখানায় যদি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, তখন শ্রমিকরা বেকার হয়ে যায়। এসব বিষয় আমাদের বিবেচনা করতে হয়। চাইলে তো কেটে দেওয়া যায় না। শিল্প-কারখানার ক্ষেত্রে দেশের অর্থনৈতিক বিষয়ও চিন্তা করতে হয়। মোস্তফা কামাল বলেন, টার্গেট করে অবৈধ সংযোগ শেষ করা সম্ভব নয়। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। দিনে দিনে এ সংখ্যা কমে আসছে। আগের মতো মানুষ সহজেই অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সাহস করে না।
তিতাস সূত্র জানায়, ২০১৫ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরে মোট ৮৬৪টি অভিযান চালিয়েছে তিতাস। এরমধ্যে ২০১৫ সালে ৮১ অভিযান চালানো হয়েছে। এই সব অভিযানের সময় ৮১ কিলোমিটার লাইন ও ২৪ হাজার ৩০০টি চুলা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ২০১৬ সালে অভিযান ১৮৯টি চালানো হয়েছে। ওই সময় ৫৭০ কিলোমিটার লাইন এবং ৪ লাখ ২৭ হাজার ১৫৬টি চুলা বিচ্ছিন্ন করা হয়। ২০১৭ সালের ২২৯টি অভিযানে ৬১৯ কিলোমিটার লাইন এবং ৩ লাখ ২৩ হাজার ১৪৯টি চুলার লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। ২০১৮ সালের ২৬৯টি অভিযানে ৭৩৭ কিলোমিটার লাইন ও ২ লাখ ৭৩ হাজার ৭৭১টি চুলা এবং ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখ পযন্ত ৯৬টি অভিযানে ২৪২ কিলোমিটার লাইন এবং ৮৪ হাজার ৮৫৯টি চুলার গ্যাসের লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। আগস্টের মাসে দেখা যায়, আবাসিকে মোট ৪ হাজার ৭৬৭টি, বাণিজ্যিকে ৯টি, শিল্পে ৬টি, ক্যাপটিভে ৪টি সংযোগ বিচিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এলাকা ভিত্তিক ঢাকার দক্ষিণে আবাসিকের ৫টি, বাণিজ্যিকে ৩, শিল্পে ১ এবং ক্যাপটিভে ১টি লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ঢাকার উত্তরে আবাসিকে ২০০, বাণিজ্যিকে ৩টি, নারায়ণগঞ্জের আবাসিকে ৪৯, বাণিজ্যিকে ১টি, গাজীপুর আবাসিকে ৪ হাজার ৬০৪টি, বাণিজ্যিকে ১, শিল্পে ৫ এবং ক্যাপটিভে ৩টি এবং ময়মনসিংহে আবাসিকে ৯ ও বাণিজ্যিকে ১টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এলএনজি গ্রিডে সরবরাহের আগেই সব অবৈধ লাইন উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিল জ্বালানি বিভাগ। কিন্তু তিতাস সেই নির্দেশনা মেনে অবৈধ লাইন উচ্ছেদ করতে পারেনি। কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ পাইপ লাইন না থাকলে এখন উচ্ছেদের প্রয়োজন হতো না। কেবল বাসা বাড়িতে নয়, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতেও অবৈধ গ্যাস ব্যবহার চলছে। তিতাসকে ২ ভাগ সিস্টেম লসের মাত্রা বেঁধে দিলেও তিতাসে সিস্টেম লস এখনও ৬ ভাগ।তিতাসের কর্মকর্তারা জানান, সিস্টেম লসের বেশিরভাগেই চুরি হচ্ছে। ঢাকার আশেপাশের এমন কিছু গ্রামে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে সেখানে তিতাস এখনও যায়নি। ফলে শুধু শহরে নয় ঢাকার আশেপাশের গ্রামের মানুষও অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে।
তিতাসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে ইনকিলাবকে বলেন, আমরা লাইন উচ্ছেদের পরপরই আবার সেখানে নতুন লাইন বসানো হচ্ছে। এই কাজে এক শ্রেণির ঠিকাদারের সঙ্গে তিতাসের কিছু কর্মীও জড়িত। এসব জায়গায় কার লাইন দিচ্ছে, কারা বিল আদায় করছে সে বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করার জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে এসব বন্ধ হবে না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গ্যাস

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ