Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

আফগান সরকারি ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনা অভিযান আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৭ অক্টোবর, ২০১৯, ১:১৯ পিএম

তালেবান ও অন্যান্য বিদ্রোহীর দ্বারা সংঘটিত বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার চেয়েও মার্কিন বাহিনী ও আফগান সরকারি বাহিনীর কারণে বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কজনকভাবে বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী ও আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীর হামলায় বেসামরিক লোকজনের মৃত্যুতে দেশটির জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে গত মাসের ১০ তারিখে একটি বাদামের খামারে অবস্থানরত শ্রমিকদের ওপর মার্কিন ড্রোন হামলায় ২০ জন নিহত হওয়ার পর এই ক্ষোভ আরো বেড়েছে। পূর্ব আফগানিস্তানে বাদাম কাটতে দীর্ঘ দিন ধরে অবস্থানকারী শ্রমিকরা একটি পাহাড়ের পাদদেশে ঘুমাচ্ছিল।
যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা হয় তখন তাদের কয়েকজন তাঁবুতে ছিল, অন্যরা বাইরে খোলা আকাশের নিচে ছিল। ১৯ সেপ্টেম্বর হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ভাড়া করে আনা ব্যবসায়ীদের কাছে তারা শুনেছিল যে পাহাড়ের ওপরে একটি ড্রোন রয়েছে এবং আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাকে শ্রমিকদের উপস্থিতির কথা জানাতে সংস্থাটির একজন কর্মীকে বলা হয়েছিল। তিনি সংস্থাটিকে শ্রমিকদের অবস্থানের ব্যাপারে কয়েক দিন আগে সংস্থাকে অবহিত করেছিলেন। এ ঘটনাকে ইঙ্গিত করে ব্যবসায়ী আজিজ রহমান হেসে বলছিলেন, আপনি নিশ্চিত হবেন না যে তারা আপনাকে বোমা মারবে না।
অথচ বোমা হামলায় এক পরিবারের সাত সদস্যসহ ২০ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। মোহাম্মদ হাসানের একজন নিহত আত্মীয়ের শরীরের অংশগুলো মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। তার খন্ডবিখন্ড বাহু, পা, মাথা পাওয়া গেছে। ক্ষুব্ধ হয়ে হাসান বলেছিলেন, এটি তাদের (আমেরিকানদের) প্রথম ভুল নয়। তারা বলে- দুঃখিত। ‘দুঃখিত’ নিয়ে আমাদের কী করার আছে? মানুষ এখন ক্রোধান্বিত। তারা এখন বিদেশীদের প্রতি ও এই সরকারের প্রতি খুব রেগে আছে।
আফগান সেনা বাহিনী ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে বিমান হামলা বেড়ে গেছে। অভিযানে ক্রমবর্ধমান বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনাটিকে যৌক্তিক প্রমাণের জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী ও তার আফগান মিত্ররা ১৮ বছর ধরে চলমান যুদ্ধে শত্রুর মুখোমুখি হবার ঘটনা তুলে ধরে। কিভাবে তারা ইসলামিক স্টেট গ্রুপ ও তালেবান শত্রুদের দমন করেছেন, নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে কঠিন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।
সিআইএ কর্তৃক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইউনিট ০২ নামে পরিচিত আফগানিস্তানের বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ বেড়েছে। একই প্রদেশের নানগারহারে এই ইউনিটের সদস্যরা বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িতে হামলার সময় চার ভাইকে হত্যা করেছিল। ভাইদের হাত বাঁধা ছিল এবং তাদের মাথায় গুলি করা হয়েছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যদি নাগরিকদের হত্যা অব্যাহত থাকে তবে তিনি ‘আর এক মিনিটের জন্যও’ মার্কিন সেনা চাইবেন না। ২০০৯ সাল থেকে যুদ্ধে প্রায় ১৬ হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, চলতি বছর বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হ্রাস পেয়েছে, যা ২০১২ সালের পর সর্বনিম্ন সংখ্যায় পৌঁছেছে।
জাতিসঙ্ঘের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, তালেবান ও অন্যান্য বিদ্রোহীর দ্বারা সংঘটিত বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার চেয়েও মার্কিন বাহিনী ও আফগান সরকারি বাহিনীর কারণে বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনা প্রথমবারের মতো বেড়ে গেছে। দেখা গেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান বাহিনী বছরের প্রথম ছয় মাসে ৭১৭ জন নাগরিককে হত্যা এবং ৬৮০ জনকে আহত করেছে, যা ২০১৮ সালের একই সময়ের তুলনায় শতকরা ৩১ ভাগ বেশি। আর তালেবান ও আইএস ৫৩১ জনকে হত্যা করেছে এবং এক হাজার ৪৩৭ জনকে আহত করেছে, যা ২০১৮ সালের একই সময়ের তুলনায় শতকরা ৪৩ ভাগ কম।
ওয়াশিংটনভিত্তিক উইলসন সেন্টারের এশিয়া প্রোগ্রামের উপপরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তালেবানের সাথে আলোচনার মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন এবং মার্কিন বাহিনীকে নিযুক্ত করার নিয়ম শিথিল করেছেন। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন বাহিনীকে যুদ্ধের ময়দানে আরো কঠোরতার পদ্ধতি অবলম্বন করে রক্তপাতের অনুমতি দিয়েছেন, যা নাগরিকদের হতাহতের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। সূত্র : এপি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আফগান


আরও
আরও পড়ুন