Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স আনতে সব করব : অর্থমন্ত্রী

প্রবাসী আয় পুরস্কার পেল ৪৪ ব‌্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ অক্টোবর, ২০১৯, ৮:০৯ পিএম | আপডেট : ৮:৪৪ পিএম, ৭ অক্টোবর, ২০১৯

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, চলতি অর্থবছরে যেসব প্রবাসী ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাবেন তাদের সকলকে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে। অবৈধ চ্যানেলকে রুখে দিতে এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরো সুবিধা দেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, আমি চাই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অর্থ যেন বাংলাদেশে আসে। এ জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তা করব। একই সঙ্গে প্রতি বছর ১৫ থেকে ১৬ বিলিয়ন রেমিট্যান্স আসতো। তবে বর্তমানে রেমিট্যান্সে যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে তাতে এবার ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করছি।

সোমবার (৭ অক্টোবর) ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স বাংলাদেশ আইডিইবি ভবনে বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল।

প্রবাসীদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আপনারা আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আমি বিশ্বাস করি দেশের সকল খাত ঋণাত্মক দিকে প্রবাহিত হলেও রেমিটেন্স খাত কখনো পিছনের দিকে যাবে না। কারণ এর বিশ্ববাজার অনেক বড়। যেখানে পোশাকে বিশ্ববাজারের আকার হচ্ছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার সেখানে রেমিট্যান্সের বিশ্ববাজারের আকার হচ্ছে ১ হাজার ৮১২ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়াও এবছর ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স আহরণের আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্য দেশে টাকা রাখতে গেলে সুদ দিয়ে ব্যাংকে টাকা রাখতে হয়। কিন্তু আমরা টাকার বিপরীতে আপনাদের সুদ প্রদান করি। সুতরাং আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। আপনাদের আমানতের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। ব্যাংকে টাকা রেখে দুর্ভাবনার কোন কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দারপ্রান্তে। তাই আমাদেরও এর সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। যারা বিদেশে যাবেন তাদের অবশ্যই প্রশিক্ষণ নিয়ে যেতে হবে। কারণ অদক্ষ বা ইংরেজি না জানার কারণে আমাদের লোকজন একই কাজ করলেও অনেক দেশের তুলনায় কম বেতন পেয়ে থাকে।

 

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আহরণ করে ভারত। যার পরিমাণ প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, এরা বছরে ৬৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স অর্জন করে। অথচ আমরা বছরে মাত্র ১৫-১৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করি। রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের আরও নজর দিতে হবে। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি আশা করি আপনারা রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়াতে পারবেন। রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিষয়ে যতভাগে সহযোগীতা দরকার তা সরকার দেবে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আর কিছুদিন বিদেশে থেকে আমাদের সহযোগিতা করুন। এরপর আর বিদেশে থাকতে হবে না। আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এগুলো বাস্তবায়ন হলে আর বিদেশে থাকতে হবে না। দেশে এসে তখন আপনারা ব্যবসা করবেন। মানুষকে কাজ দেবেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রস্তুত হলে ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। তাই আশা করছি আগামী ১০ বছরে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজনকে একটি মানসম্পন্ন চাকরি দিতে পারবো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, এই মুহূর্তে আমরা শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ অতিক্রম করেছে। দিন দিন আমাদের রেমিট্যান্স আহরণ বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। রেমিটেন্স এর বিপরীতে ২ শতাংশ প্রণোদনা সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ বলেও মনে করেন তিনি। রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে দেশের জনগণকে ভাষাগত এবং একাধিক কাজে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা প্রচলনের জন্য সম্মানিত ও অনুপ্রাণিত করতে ৩৬ ব্যক্তি, ৫টি ব্যাংক ও ৩টি এক্সচেঞ্জ হাউজকে প্রবাসী-আয় পুরস্কার ২০১৮ প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বছর মোট পাঁচ ক্যাটাগরিতে প্রবাসী আয় পুরস্কার বা রিমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ক্যাটাগরিগুলো হলোÑ সাধারন পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক ও রেমিটেন্স প্রেরণকারী অনিবাসী বাংলাদেশি মালিকানাধীন এক্সচেঞ্জ হাউজ।

পেশাজীবী ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেনÑ কুয়েত প্রবাসী জাকির হোসেন, এবি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স প্রেরণ করেছেন তিনি। কুয়েত প্রবাসী সিকদার বাচ্চু, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ডাক্তার আফতাব হোসেন, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স প্রেরণ করেন। জার্মান প্রবাসী মো. কামরুজ্জামান, ঢাকা ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সুকেশ রায়, সোনালী ব্যাংক। মালয়েশিয়া প্রবাসী আহমেদ রায়হান সামসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। সিঙ্গাপুর প্রবাসী দেওয়ান মাসুদ কামার ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। কাতার প্রবাসী ইকবাল হোসেন, ট্রাস্ট ব্যাংক। নাইজেরিয়া প্রবাসী নওশাদ আহমেদ, বেসিক ব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ডাক্তার ইশা খোশনু, এবি ব্যাংক।

জেনারেল ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রাপ্ত প্রবাসীরা হলেনÑ সিঙ্গাপুর প্রবাসী মো. ইমরান হোসেন ভূঁইয়া, প্রাইম ব্যাংক। ওমান প্রবাসী রফিকুল ইসলাম, ন্যাশনাল ব্যাংক। কানাডা প্রবাসী মোস্তফা কামাল, ট্রাস্ট ব্যাংক। সিঙ্গাপুর প্রবাসী সুভাষ চন্দ্র মজুমদার, প্রাইম ব্যাংক। কাতার প্রবাসী নির্মল কান্তি ঘোষ, সোনালী ব্যাংক। কুয়েত প্রবাসী তৌহিদ আহমেদ, সিটি ব্যাংক। সোমালিয়া প্রবাসী নাসির আহমেদ, ট্রাস্ট ব্যাংক। আফগানিস্তান প্রবাসী মোঃ রেজাউল বারী চৌধুরী, ট্রাস্ট ব্যাংক।

ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেনÑসংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মো. অলিউর রহমান জনতা ও এনআরবিসি ব্যাংক। সিঙ্গাপুর প্রবাসী আবু তাহের মো. আমানুল্লাহ এনআরবি ব্যাংক। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী আব্দুল করিম, জনতা ব্যাংক। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মাহবুব আলম, জনতা ব্যাংক। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মোহাম্মদ শাহজাহান বাবলু, জনতা ব্যাংক। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মোহাম্মদ আবদুন নূর কাউসার, জনতা ব্যাংক। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মঞ্জুরুল আলম , ইস্টার্ন ব্যাংক। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মোহাম্মদ ইমাদ উর রহমান, এনআরবি ব্যাংক। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মাহবুবুল হাদী ফজলে রব, এনআরবি ব্যাংক। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী নুর মোহাম্মদ, জনতা ব্যাংক।

রেমিট্যান্স আহরণকারী শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংক লিমিটেড। রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশি মালিকানাধীন তিনটি এক্সচেঞ্জ হাউজ কে পুরস্কার দেয়া হয়েছে। তারা হল ন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ কোম্পানি (এসআরএল), এনইসি মানি ট্রান্সফার লিমিটেড ও প্লাসিড এনকে কর্পোরেশন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অর্থমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন