Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

জুভেনাইল জাস্টিস লঙ্ঘন করছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

জম্মু ও কাশ্মীরে আইনের দৃষ্টিতে শিশু বিবেচিত এমন অনেককে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে, এমন অভিযোগ পাওয়ার পর গত মাসে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের হাইকোর্টের জুভেনাইল জাস্টিস কমিটিকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল। জুভেনাইল জাস্টিস কমিটির সদস্য হাইকোর্টের চার বিচারপতি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করার ব্যাপারে আমার সীমাবদ্ধতার কথা আমি জানি। ফলে পুলিশ শিশু/কিশোরদের আটক করার ব্যাপারে যে তথ্য দিয়েছে, আমি আমার পর্যবেক্ষণ কেবল তাতেই সীমাবদ্ধ রাখব। তবে মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে এ সংক্রান্ত আইনগুলো কিভাবে প্রণীত হয়েছে, সে ব্যাপারে আমার উপলব্ধি আগে বলে নেব বিষয় সম্পর্কে পাঠকদের মধ্য স্বচ্ছ ধারণা সৃষ্টি করার জন্য। ঐতিহ্যগতভাবে অক্ষম, অবহেলিত লোকের জন্য অভিভাবক প্রয়োজন হয়। আর আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রই তাদের অভিভাবক এবং তারপর আদালত ওই দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু বিশেষ করে কিশোরদের ক্ষেত্রে এই আইন ভয়াবহভাবে লঙ্ঘন করা হয়ে আসছিল। কিশোরদের শিশু বিবেচনা করে তাদের কোনো অধিকার নেই বলেই মনে করা হতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পর ১৯৬৭ সালে মার্কিন আদালতে একটি বিষয় সামনে চলে আসে। সেখানে বলা হতে থাকে, কিশোর বলেই সব মামলায় আইন অগ্রাহ্য করা উচিত হবে না। তারপর থেকেই সম্ভবত কিশোরদের জন্য আইন পরিবর্তন হতে থাকে। তারপর ১৯৮৫ সালে ইউনাইটেড ন্যাশন্স স্ট্যান্ডার্ড মিনিমাম রুলস ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব জুভেনালই জাস্টিস প্রণয়ন করা হয়। এতে শিশুদের কিছু অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়। ভারত এই কনভেনশনে সই করেছে। দেশটি এরপরপরই কনভেনশন অন দি রাইটস অব দি চাইল্ডেও সই করেছে। এর আলোকেই ভারত জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট প্রণয়ন করেছে। জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর জুভেনাইল জাস্টিস (কেয়ার অ্যান্ড প্রটেকশন অব চিল্ড্রেন) অ্যাক্ট ২০১৩ (জেজে অ্যাক্ট) এ ধরনেরই একটি আইন। এখন আমরা জম্মু ও কাশ্মীরের চার সম্মানিত বিচারপতির কাছে এডিজিপি, পিএইচকিউ, জে অ্যান্ড কে শ্রীনগর যে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, সেটা আমরা বিবেচনা করব। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসএইচও, বাটামালু পিএস ছয় শিশুকে গ্রেফতার করেছে, এসএইচও করন নগর পিএস গ্রেফতার করেছে সাতজনকে, এইএইচও শহিদ গঞ্জ পিএস গ্রেফতার করেছে পাঁচজনকে, এসএইচও সদর পিএস ২১ জনকে, এসএইচও রাজবাগ পিএস ১০ জনকে, এসএইচও সুরা পিএস সাতজনকে, এসএইচও লাল বাজার পাঁচজনকে, এসএইচও পারিমপুরা পিএস ১৪ জনকে অর্থাৎ মোট ৭১টি শিশুকে আটক করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুলিশ শিশু/কিশোরদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন লঙ্ঘন করেছে। এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, রাষ্ট্র অভিভাবক হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে, সে তার অসহায় নাগরিকদের রক্ষার জন্য আইন প্রয়োগ করতে পারেনি। সাউথ এশিয়ান মনিটর।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাশ্মীর


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ