Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

প্রশ্নঃ তাসাউফের দাওয়াত মদ-জুয়া থেকে ফেরাতে পারে কি?

উত্তর দিচ্ছেন : ফিরোজ আহমাদ | প্রকাশের সময় : ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

উত্তর ঃ সমাজের সর্বত্র মদ, জুয়া, হেরোইন, গাজা, ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ নানান ধরনের নেশা-পানির বিস্তৃতি রয়েছে। যা কিশোর, তরুণ ও যুবকদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যে বয়সে কিশোর ও তরুণদের হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সে বয়সে তাদের হাতে নেশাজাতীয় দ্রব্য পৌছে দেয়া হচ্ছে। যা পরিবার সমাজ রাষ্ট্রের মানব সম্পদ ধ্বংসের জন্য অশনি সংকেত। ইরশাদ হয়েছে, ‘(হে নবী!) লোকেরা আপনাকে মদ এবং জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে; আপনি বলে দিন, এই দুটোর মধ্যে রয়েছে মহাপাপ।’ (সূরা বাকারা: ২১৯)। ‘শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শক্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর শ্নরণ ও নামাজ আদায়ে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না।’(সূরা মায়িদা:৯১)।

দাওয়াত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ডাকা বা আহ্বান করা। সকল নবী রাসূল দাওয়াত দিয়েছেন। দাওয়াত দেয়া একটি উত্তম কাজ। ইরশাদ হয়েছে,‘আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তভুক্ত।’ (সূরা হা-মীম সিজদাহ:৩৩)। দাওয়াত দেয়ার জন্য কুরআনে তাগিদ দেয়া হয়েছে। কারণ দাওয়াত মানুষের ভূল ও বিভ্রান্তি গুলোকে দূর করে দেয়। দাওয়াতের মাধ্যমে মানুষ সত্য মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে। ইরশাদ হয়েছে ‘তোমাদের মধ্যে থেকে একটি দল থাকা উচিত যারা আহ্বান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দিবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম।’ (সূরা আল ইমরান:১০৪)।

সব সময় ভালো কাজের দিকে, কল্যাণের পথে দাওয়াত দিতে হবে। যদি কেউ মিথ্যা অশ্লীল মন্দ কাজের দিকে দাওয়াত দেয়, তাহলে কিয়ামত দিবসে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কারণ মানুষের ভালো মন্দ উভয় আমলনামায় লিপিবদ্ধ থাকে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কেহ কোন ভাল কাজের সুপারিশ করলে উহাতে তাহার অংশ থাকিবে এবং কেহ কোন মন্দ কাজের সুপারিশ করলে উহাতে তাহার অংশ থাকবে।’ (সূরা নিসা: ৮৫)। ‘কেউ কোন সৎ কাজ করলে সে তার দশগুন পাবে, আর কেউ যদি অসৎ কাজ করে তবে তাকে তারই প্রতিফল দেয়া হবে আর তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।’ (সূরা আনআম: ১৬০)।

নেশা-পানি থেকে ফেরাতে তাসাউফের শিক্ষা দেয়া জরুরী। তরুণদের তাসাউফ শিক্ষা দেয়া এখন সময়ের দাবী। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্য তোমাদের বলা হয়, তখন তোমরা জমীনের প্রতি প্রবলভাবে ঝুঁকে পড়? তবে কি তোমরা আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে সন্তুষ্ট হলে? অথচ দুনিয়ার জীবনের ভোগ-সামগ্রী আখিরাতের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। যদি তোমরা বের না হও, তিনি তোমাদের বেদনাদায়ক আজাব দিবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক কওমকে আনয়ন করবেন।’ (সূরা তাওবা:৩৮-৩৯)।

নেশা-পানি গোনাহের পথ। গোনাহের পথ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি অন্যকেও গোনাহের পথ থেকে বেঁচে থাকার জন্য দাওয়াত দিতে হবে। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজ অনুষ্ঠিত হতে দেখে, তাহলে সে যেন তা তার হাত দিয়ে ঠেকায়। আর যদি তার সে শক্তি না থাকে, তাহলে যেন মৌখিকভাবে নিষেধ করে। যদি সে মৌখিক বারণ করতেও অপারগ হয়, তাহলে যেন অন্তরে উক্ত কাজকে প্রতিরোধের চিন্তা করে। আর অন্তরে প্রতিরোধের চিন্তা করাটা হলো ঈমানের দুর্বলতার লক্ষণ।’ (মুসলিম:১/৪৯)। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন,‘মেরাজের রাতে আমি দেখতে পেলাম, কতগুলো লোকের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। আমি জিব্রাঈল (আ) কে প্রশ্ন করলাম, এরা কারা? তিনি বললেন, এরা হলো আপনার উম্মতের মোবাল্লিক (প্রচারক)। যারা অপরকে নেক করার নসিহত করত কিন্তু নিজেরা তা আমল করত না।’ (মুসনাদে আহমদ:২/১৩৫১৪)। সরলতা, অনাড়ন্বর ও সাদাসিধে জীবন যাপন হলো তাসাউফ তথা আত্মশুদ্ধির পথ। রাসূল (সা) ও তাঁর সাহাবীগণ সাধাসিধে জীবন যাপন করতেন। আমরাও সাধাসিধে জীবন যাপনের চেষ্টা করব। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুক। আমীন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন