Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার , ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

ভারতকে সবকিছু বিলিয়ে দেয়ার বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১:১১ পিএম

ভারতকে গ্যাস, পানি, বন্দর, রাডার স্থাপনের অনুমতি দিয়ে দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোন সদুত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-বাংলাদেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে এটা হতে পারে না। তাহলে ভারত থেকে কি কি নিয়ে আসলেন? জনগণ প্রত্যাশা করেছিল- ‘ভারতকে সারাজীবন মনে রাখার মত’ আপনার দেয়া ট্রানজিট, বানিজ্য, কানেক্টিভিটি, ৭ রাজ্যের নিরাপত্তা, নদী, সমুদ্র, বন্দর, সুন্দরবন, প্রতিরক্ষা, বৃহত্তম রেমিটেন্স, অবাধ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বিপরীতে আপনি প্রতিবারের মত এবারও হয়ত খালি হাতে ফিরবেন না। সব প্রধানমন্ত্রীই বিদেশ সফরে কিছু না কিছু আনতে যায়। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়ে সবকিছু উজাড় করে দিয়ে আসে। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলেই দেশের মানুষের উদ্বেগ বেড়ে যায়। ‘এবারও আপনি দেশের অনেক কিছু দিয়ে দিলেন, আর ফিরে আসলেন খালি হাতে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ভারতের সাথে অবৈধ চুক্তি ও বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে এবং ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের সাথে অবৈধ চুক্তি ও বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সকাল ১০টায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিকট এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মিছিলে অংশগ্রহণ করেন বিএনপি’র ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন মতি, সাইফুর রহমান মিহির, কোষাধ্যক্ষ আতাউর রহমান চেয়ারম্যান, সহ-সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রেজাউর রহমান ফাহিম, দপ্তর সম্পাদক এ বি এম এ রাজ্জাক, বিএনপি নেতা ফারুক হোসেন ভুইয়া, এল রহমান, শাহ আলম, মোঃ সাজ্জাদ, আব্দুল আউয়াল, আক্তার হোসেন জিল্লু, আমান উল্লাহ মেম্বার, সোহরাফ হোসেন স্বপন, হারুন অর রশীদ খোকন, জহিরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান বাচ্চু, আকরাম বাবু, বুলবুল মল্লিক, মোহাম্মদ আলী, মাহাবুব আলম ভুইয়া শাহীন, আবদুল কাদের বাবু, এনায়েতুল হাফিজ, সি এম আনোয়ার, রকিব হোসেন রাকিব, মাসুম বাবুল, ইমাম হোসেন নুর প্রমূখ।

মিছিল শেষে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান এর সভাপতিত্বে এক পথসভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, আপনি বললেন দেশের স্বার্থ আপনি বিকিয়ে দেন না, তাহলে ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর কেন দিয়ে আসলেন? গতকালের সংবাদ সম্মেলনে তার কোন সদুত্তর দিতে পারলেন না। বরং আমাদের বন্দরগুলো ব্যবহারে ভারতের অধিকারও আছে বলে যে জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী বক্তব্য রাখলেন, তাতে গোটা জাতি হতভম্ব হয়ে পড়েছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার সফরের বলেছিলেন, এবারও তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো চুক্তি হবে না। আপনি তিস্তার পানি চাইতেই পারলেন না, বরং ফেনী নদীর পানি দিয়ে আসলেন ভারতকে! আপনি এখন দাতা হাতেমতাই হয়ে বলছেন, ‘কেউ পানি চাইলে, তা যদি না দেই, সেটা কেমন দেখায় ?’ অথচ আপনি ভুলেই গেছেন, আপনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আপনার সাংবিধানিক দায়িত্ব নিজ দেশের মানুষের ন্যায্য পানির অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। নিজেদের পানি চাহিবামাত্র বিনাস্বার্থে অন্যকে উজাড় করে দিয়ে আসা নয়! এছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আপনি ভারতকে চাপ দিতে পারেননি। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের বদলে দিয়ে এসেছে ফেনী নদীর পানি এবং গ্যাস। জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) বিষয়ে টু শব্দটি করেননি। যৌথ বিবৃতির কোথাও এটির উল্লেখ নেই। অথচ বাংলাদেশের মানুষ সেটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া সীমান্ত হত্যা, বানিজ্য ঘাটতির মতো ইস্যুগুলো এজেন্ডার কোথাও স্থান পায়নি। যা বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।

রিজভী বলেন, ভারতকে আমাদের উপকূলে নজরদারির জন্য ২০টি রাডার স্থাপনে অনুমতি দেয়া হলো। তাতে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের আঞ্চলিক সংঘাতের বলি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি স্বাধীন দেশের সমুদ্র বন্দর, ফেনী নদীর পানি, উপকুলে ভারতের নজরদারীর জন্য ২০টি রাডার স্থাপন এবং জ্বালানী সংকটের এই দেশে গ্যাস অন্য দেশের হাতে তুলে দেয়া হলো-তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী চুক্তি এবং সুষ্পষ্টভাবে সংবিধান লঙ্ঘন।

রিজভী আহমেদ আরও বলেন, মূলত: অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল এবং সেই ক্ষমতা দীর্ঘ মেয়াদে ভোগ করার মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতেই ‘গণতন্ত্রের মা’ এদেশের গণমানুষের আস্থাভাজন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১০ মাস আগেই মিথ্যা ও সাজানো মামলায় জড়িয়ে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দী করে রেখেছে সরকার। আওয়ামী সরকার জানে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী রেখে তিলে তিলে নি:শেষ করতে পারলেই দেশ বিক্রি করে ক্ষমতায় থাকাটা সহজ হবে, কিন্তুজনগণের ক্ষমতা সম্পর্কে এখনও তাদের হুঁস হয়নি। এখন সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ প্রবল শক্তি নিয়ে রাস্তায় নামতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। জনগণকে সাথে নিয়ে নিরাপরাধ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে জাতীয়তাবাদী শক্তি এখন আরও বেশী ঐক্যবদ্ধ।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এর নেতৃত্বে মিছিল শুরু হলে মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা ভারতের সাথে অবৈধ চুক্তি ও বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ‘গণতন্ত্রের মা’ এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সোচ্চার কন্ঠে শ্লোগান দিয়ে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রিজভী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ