Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

স্যাটারডে সিটিংয়ে বসছে আইনপ্রণেতারা

ব্রেক্সিট নিয়ে জনসন বরিসের পরিকল্পনার সমালোচনা ইইউর

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ব্রেক্সিট ভবিষ্যৎ নির্ধারণে পার্লামেন্টে বিশেষ জরুরি বৈঠক ডাকা হচ্ছে। স্যাটারডে সিটিং নামে পরিচিত বিশেষ এই অধিবেশনে আগামী ১৯ অক্টোবর ব্রেক্সিটের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। ১৯৩৯ সালের পর থেকে এনিয়ে পঞ্চমবারের মতো আহ্বান করা হচ্ছে বিশেষ এই অধিবেশন। ৩১ অক্টোবরের ব্রেক্সিট চ‚ড়ান্ত করতে ইইউ-এর সঙ্গে গুরুত্বপ‚র্ণ এক সম্মেলনের পর শনিবারের ওই বিশেষ অধিবেশনে বসবেন আইনপ্রণেতারা। ওই অধিবেশনে ইইউ সম্মেলনে কোনও চুক্তি চ‚ড়ান্ত হলে আইনপ্রণেতাদের তা অনুমোদনের আহ্বান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আর চুক্তি না হলে বেশ কিছু বিকল্প উপস্থাপন করা হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব বিকল্পের মধ্যে রয়েছে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট বা পুরো ব্রেক্সিটই স্থগিত করে দেয়া। অপরদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত ব্রেক্সিট পরিকল্পনার সমালোচনা করলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। তাদের অভিযোগ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আইরিশ সীমান্ত সংকট সমাধানে অপরীক্ষিত তথ্য নিয়ে এই পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের গত মে মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তিনি সরে দাঁড়ানোর পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী বরিস জনসন। নির্বাচিত হওয়ার পর আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পথে হাঁটারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এরপর ব্রেক্সিট নিয়ে দোষারোপের খেলা থামাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতি আহŸান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এক টুইটে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, বরিস জনসন; দোষারোপের খেলায় কেউই বিজয়ী হতে পারে না। প্রধান মধ্যস্থতাকারী মাইকেল বার্নিয়ার বলেন, আজ হোক কিংবা কাল ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একটি সমাধান বের করতে হবেই। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জন ক্লদ জাঙ্কার বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে চুক্তিকে বাদ দিতে চাচ্ছেন না তিনি। যদিও খুব বেশি উন্নতি হয়নি। তবে বরিস জনসন বলেন, তিনি এখনও চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী। বৃহস্পতিবার আইরিশ প্রধানমন্ত্রী লিও ভার্দেকারের সঙ্গে দেখা করে অচলাবস্থা কাটানোর ব্যাপারে কথা বলবেন তিনি।
স¤প্রতি নিজের প্রস্তাবিত চুক্তি মেনে নিতে ইইউ’কে রাজি করাতে বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন জনসন। কিন্তু ইইউ দৃঢ়ভাবে তার চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। যার ফলে বেশ বিপাকে পড়েছেন জনসন। তিনি জানিয়েছেন, ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে ইইউ থেকে বৃটেনকে বের করে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তিনি। প্রয়োজনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতেও প্রস্তুত আছেন। কিন্তু বৃটিশ পার্লামেন্ট চুক্তিহীন ব্রেক্সিট রোধে চলতি মাসে ‘বেন অ্যাক্ট’ নামে একটি আইন পাস করেছে। ওই আইনের আওতায় ১৯শে অক্টোবরের মধ্যে বৃটিশ পার্লামেন্টে কোনো চুক্তি পাস না হলে বা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটে সম্মত না হলে, ইইউ’র কাছে ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার সময়সীমা পেছানোর আবেদন করতে হবে জনসনকে। সাধারণত শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকে বৃটিশ পার্লামেন্ট। এই দু’দিন কোনো অধিবেশন বসে না। তবে ব্যতিক্রমও ঘটেছে। ১৯৩৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বৃটিশ পার্লামেন্টের ইতিহাসে চারটি অধিবেশন শনিবারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অধিবেশন হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর, ১৯৩৯ সালের ২রা সেপ্টেম্বর। আর সর্বশেষ অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮২ সালের ৩রা এপ্রিল। সে সময় বৃটিশ শাসনাধীন ফকল্যান্ড দ্বীপে সামরিক হামলা চালিয়েছিল আর্জেন্টিনা। রয়টার্স, বিবিসি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ