Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

নাজুক ব্যাংকিং খাত ছাড়াও অর্থনীতির ৪ ঝুঁকি

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসা আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিতে রেকর্ড হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে জিডিপির হার ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিলেও বিশ^ব্যাংক তা হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে মনে করে। একই সঙ্গে নাজুক ব্যাংকিং খাতসহ আগামী অর্থনীতিতে ৪ ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এসব ঝুঁকি উত্তরনে আর্থিক খাতে বিভিন্ন সংস্কারসহ ৫ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তা না হলে টেকসই উন্নয়নে লক্ষ্য পূরণ করা কঠিণ হবে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা
কার্যালয়ের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ বার্নাড হ্যাভেন। বক্তব্য দেন কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেম্বন। এ সময় অর্থনীতির এসব ঝুঁকির কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সংস্থাটির সাবেক লিড ইকনোমিস্ট ও পরামর্শক ড. জাহিদ হোসেন, জনসংযোগ কর্মকর্তা মেহেরিন এ মাহবুবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনে উপস্থাপন কালে বার্নাড হ্যাভেন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ কয়েকটি সম্ভবনা রয়েছে। এর মধ্যে ধারাবাহিক ৭ শতাংশের উপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন, শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনীতি, সরকারী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রফতানী আয় ও রেমিটেন্স বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণে থাকা, আমদানী ব্যয় ও বাজেট ঘাটতি প্রত্যাশার মধ্যে থাকা। কিন্তু এই সম্ভবনার সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে বেশ কয়েকটি ঝুঁকিও। অর্থনৈতিক ঝুঁকিকে দু ভাগে ভাগ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জন্য কিছু বৈশি^ক ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে মন্দার কারনে বিশ^ রফতানী বাজার সম্প্রসারণ কম হওয়া, চীনে সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধ, ব্রেক্সিট ইস্যু ও সউদী-ইরানের স্নায়ুযুদ্ধ অন্যতম। তবে যদি জ্বালানী তেলে দাম না বাড়লে বৈশি^ক মূল্যস্ফীতি না বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীন অর্থনীতিতে ৪ ধরনের ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক খাতের সুশাসনের অভাব, রাজস্ব আহরণে দূর্বলতা, প্রকৃত মূদ্রা বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়া এবং প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়া অন্যতম ঝুঁকি।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ বার্নাড হ্যাভেন বলেন, ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশের অর্জন অনেক। তবে টেকসই প্রবৃদ্ধিও জন্য আর্থিক চলমান সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা, রাজস্ব আয় বাড়াতে কর নীতির সংস্কার, সরকারী বিনিয়োগের মানসম্মত ব্যবস্থাপনা, ইজ অব ডুয়িং বিজনেসে উন্নয়ন ও মানব সম্পদের উন্নয়নে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবেদনে বিশ^ব্যাংক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়ে বলছে, সরকারী বিনিয়োগ, ব্যক্তি পর্যায়ে ভোগ ও সেবা খাতের প্রভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে। তবে সেটা সরকারের ঘোষিত পূর্বাভাস ৮ শতাংশ হবে না। এটা হতে পারে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৭ দশমিক ৩ শতাংশে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে কৃষি খাতের অবদান হবে ৩ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে হয়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। শিল্প খাতের ৯ শতাংশ,যা গত অর্থবছরে হয়েছিল ১৩ শতাংশ। এবার জিডিপিতে সেবা খাতের অংশ বেড়ে দাড়াতে পারে ৭
শতাংশে, যা গত অর্থবছরে ছিল সাড়ে ৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে- ব্যক্তিখাতের ভোগ বৃদ্ধি পাবে। এক্ষেত্রে দাঁড়াতে পারে ৬ দশমিক ২ শতাংশে, যা গত অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। সরকারি ভোগ ব্যয় ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। তবে রফতানি কমবে এবং আমদানী বেড়ে যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাগত বক্তব্যে মার্সি মিয়াং টেম্বন বলেন, বাংলাদেশের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অনেক প্রশংসার। এক্ষেত্রে সংখ্যা কোন বিষয় নয়। ইতিবাচক উন্নতি যে হচ্ছে এটিই অনেক বড় ব্যাপার। তাছাড়া দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশের অর্জন অনেক রয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি বদলে গেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিযোগীতার সক্ষমতা বাড়াতে ডুয়িং বিজেনেস পরিবেশ উন্নত করতে হবে। বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে, তা মোকাবেলা করতে হবে। টেকসই উন্নয়নের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা পূরণ করা কঠিণ হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মিয়াং টেম্বন বলেন, ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে বিশ^ব্যাংক সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সংস্কার ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। গত অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল সাড়ে ৫ শতাংশ।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যাংকিং খাতের এই বিদ্যমান ঝুকি কত দিনে শেষ হবে তা নির্ভর করবে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের উপর। এই সময় দেখতে হবে- খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে সরকার কতটুকু সফল হয়েছে তার উপর।##

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ