Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

সরকারের দুর্বলতা বুঝে ভারত ফেনী নদীর পানি নিয়েছে

সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

তিস্তা চুক্তি ঝুলিয়ে রেখে এবং আসামের এনআরসি নিয়ে কোনো আলোচনা না করে ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেয়ায় বাংলাদেশের জন্য নজীরবিহীন কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন এলডিপি সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেছেন, নতজানু নীতি গ্রহণের কাণে অসম চুক্তি করে সরকার ভারতের কাছে কুটনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের ‘গণভিত্তি নেই’ দুর্বলতা বুঝে ভারত চুক্তি করে ফেনী নদীর পানি নিয়েছে।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় মুক্তিমঞ্চ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রবীণ রাজনীতিক অলি আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে ক্ষমতা এসেছে। এ জন্য জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। গত ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকে তিস্তা নদীর পানি তারা আনতে পারেননি। ভারত জানে, আওয়ামী লীগ হলো একটা দুর্বল সরকার, নতজানু সরকার। সুতরাং যেকোনো জিনিস তাদের কাছ থেকে আদায় করে নেয়া সম্ভব। বর্তমান সরকার বার বার ভারতের কাছে কূটনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। ভারতের যা প্রয়োজন এই সরকার সব কিছু দিয়েছে। টাকা ও ক্ষমতার লোভে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

দেশের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, ঘর থেকে বের হোন, শান্তিপূর্ণ ও আইন অনুযায়ী প্রতিবাদ করুন। দেশকে মুক্ত করুন, নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করুন। ঐক্যবদ্ধ হোন, আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদেরকে সাহায্য করবেন।

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাকান্ডের প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে শায়েস্তা করার জন্য তারা (সরকার) অস্ত্র হাতে দিয়েছে, অবৈধ টাকা দিয়েছে, চাঁদাবাজি ও গুন্ডামি করার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। অবুঝ ছেলে-মেয়েরা রাজনৈতিক দলগুলোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, একশ্রেনীর শিক্ষকও তাদেরকে সঠিক পথে রাখার পরিবর্তে বিপদগামী করার জন্য দায়ি। এটি নতুন প্রজন্মকে অর্থাৎ আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে যারা আগামীদিন সরকার পরিচালনা করবে তাদেরকে ধ্বংস করার একটি নীল-নকশা। একটি জাতিকে মেধা শ‚ন্য করার সরকারের একটা নীল নকশা।

অলি আহমদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অদক্ষ শিক্ষকদের চাকরি থেকে বের করে দেয়া ও দুর্নীতিবাজ ভিসিদের অপসারনের দাবি জানান। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমরা লক্ষ্য করেছি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি একটি সভায় ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করার বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তাকে আমরা অনুরোধ করবো-এটা তাদের এখতিয়ার ভুক্ত নয়। ভিসি নিজের কাজ বাদ দিয়ে, ছেলেদেরকে লেখা-পড়া না করিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় ভালোভাবে পরিচালনার দায়িত্ব না নিয়ে তিনি এখন পার্লামেন্টের (রাজনীতি-আইন প্রণয়ন) কাজ হাতে নিয়েছেন। এটা তার করা উচিত নয়। তিনি একজন দলবাজ ব্যক্তি হিসেবে কাজ করছেন বিধায় শিক্ষার্থীদের প্রতি তার কোনো দায়বদ্ধতা নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি’ বন্ধের দাবিও জানান।

জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহবায়ক অলি আহমদ বলেন, রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি রাজনীতিতে অবুঝ ছেলে-মেয়েদের ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি পৃথিবীর কোথাও নেই। এব্যাপারে আশা করি সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দেশের ছাত্র ও যুব সমাজকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি ও ভোট ডাকাতির শিক্ষা দিয়ে’ তাদের ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

ক্যাসিনো ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এখনো তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। গ্রেপ্তারকৃত যুব লীগের নেতারা বলেছে যে, তারা মন্ত্রীদেরকে মার্সিটিজ গাড়ি দিয়েছে, বস্তায় বস্তায় টাকা দিয়েছে। অনেক মন্ত্রী-এমপি ও বড় বড় নেতা জি কে শামীমের টাকার ভাগ পেয়েছে এবং ক্যাসিনোর টাকার ভাগ পেয়েছে। এখনো তারা কেনো গ্রেপ্তার হচ্ছে না? আপনারা নিশ্চয় শুনেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন হলে রেইট করা হবে। অর্থাৎ ছেলেদেরকে বলা হয়েছে তোমাদের কাছে যদি মালামাল থাকে তা দ্রæত সরিয়ে ফেলো। কারণ পুলিশ যাচ্ছে। ক্যাসিনোর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এক জায়গায় শুদ্ধি অভিযান হয়েছে অন্য জায়গাকে ওয়ার্নিং দিয়ে দিলো তোমরা পালিয়ে যাও। কেউ ভারতে পালিয়ে গেছে। তারিখটা আমার স্মরণ নেই- একদিনে ৫৯ জন এমপি সাধারণ পাসপোর্টে ভারতের ভিসা গ্রহণ করেছে। এটা সরকারের খতিয়ে দেখা দরকার। লাল পাসপোর্ট থাকায় অবস্থায় সাধারণ পাসপোর্টে কি করে তারা ভারতের ভিসা নিলো।

ক্যাসিনোর অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ভিআইপি মর্যাদায় জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে চিকিৎসা পাওয়ার সমালোচনা করেন অলি। তিনি বলেন, ক্যাসিনো সম্রাটের মতো এইরকম একজন ঘৃনিত ব্যক্তির জন্য বড় বড় ডাক্তাদের দিয়ে মেডিকেল বোর্ড বসানো হয়েছে। উচিত ছিলো ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী তাকে গলা পর্যন্ত মাটির নিচে ঘেড়ে রেখে সমগ্র বাংলাদেশের লোকদের বলা উচিত ছিলো- তার ওপর পাথর নিক্ষেপ করার জন্য। তারপরও তার পাপ মোচন হবে না।

পত্র-পত্রিকায় দেখেছি, টেলিভিশনের শুনেছি- তাকে (সম্রাট) ক্যাঙ্গারুর চামড়া রাখার জন্য ৬ মাস জেল দিয়েছে। অথচ ইয়াবা ট্যাবলেট রাখার জন্য তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। অথচ গরীব মানুষের পকেটে দুইটা ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় কিন্তু সম্রাট সাহেবের সামাজ্যে দেড় হাজার ট্যাবলেট পাওয়ার পরও কেনো মামলা করা হলো না?

জাতীয় প্রেস ক্লাবের এই সংবাদ সম্মেলনে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, এনডিপির চেয়ারম্যান কাজী আবু তাহের, জাগপার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাশেমী, এলডিপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কামাল উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ##



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ