Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

কয়রায় হুমকির মুখে দু’টি পোল্ডারের বেড়িবাঁধ

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

মোস্তফা শফিক, কয়রা (খুলনা) থেকে : | প্রকাশের সময় : ১১ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:১৬ এএম

 কয়রা ১৩-১৪/১ ও ১৪/২ দুটি পোল্ডারের অর্ধশতাধিক স্থানে মারাত্মক ভাঙনসহ শতাধিক স্থানে সংস্কার করা না হলে আবারও লাখ লাখ মানুষের ঘর-বাড়ি নোনা পানিতে ভেসে যাবে। আতঙ্কগ্রস্থ এসব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে একমাত্র টেকসই বেড়িবাঁধ।

সম্প্রতি খুলনা জেলার সর্ব দক্ষিণে সুন্দরবনের কোলঘেষা উপজেলা কয়রার ২টি পোল্ডারে অর্ধ শতাধিক স্থানে বেড়িবাঁধে মারাত্মক ফাটল ধরেছে। এছাড়া অর্ধ শতাধিক স্থানে নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় কয়রার ৪ লাখ মানুষ নোনা পানির ভয়ে আতঙ্কে রাতের ঘুম হারাম করে অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে।

সরোজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কয়রা উপজেলা সদরের পশ্চিম দিকে অবস্থিত মদিনাবাদ লঞ্চঘাটের মত মারাত্মক ভাঙন, হরিণখোলা, ঘাটাখালী, ২নং কয়রা খালের গোড়া, উত্তর বেদকাশীর কাশির হাটখোলার পূর্বপাশের বেড়িবাঁধ, গাজীপাড়া, গাববুনিয়া গনেশ বাবুর বাড়ীর উত্তর ও দক্ষিণ পাশে, শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ, চরামুখা, মাটিয়া ভাঙা, আংটিহারা, খাশিটানা, জোড়শিং, বীণাপানি, গাতিরঘেরি, কাটকাটা, ৪নং কয়রা, মহেশ্বরীপুর ও শেখের কোনা, শিকারী বাড়িসহ দশালিয়া এবং গোবিন্দপুর এলাকায় সৃষ্ট হয়েছে মারাত্মক ভাঙন ও ফাটল। এছাড়া বেড়িবাঁধের অধিকাংশ স্থানে মাটির কাজ করা না হলে কপোতাক্ষ, শাকবাড়িয়া ও কয়রা নদীর নোনা পানিতে ভেসে যাবে লাখ লাখ ঘর বাড়ি, গরু-ছাগল ও মৎস্য ঘের এবং আমন ফসলের জমি।

এদিকে, পাউবোর দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা স্ব স্ব দপ্তরে কয়রা এলাকার দুটি পোল্ডারের পাউবোর বর্তমান অবস্থার উপর যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে বসে আছেন বলে জানা যায়। এছাড়া কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস.এম শফিকুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা দুটি পোল্ডারের মারাত্মক ভাঙনের চিত্রসহ কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রতিবেদন পাঠালেও আজও তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কয়রাবাসী সংসদ মহোদয়ের মুখের দিকে চেয়ে বসে আছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় দক্ষিণ বেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান কবি শামছুর রহমান, ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪,৫ ও ৬ ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার মাহফুজা খাতুন, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সরদার নুরুল ইসলাম, কয়রা সদরের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মুহা. হুমায়ুন কবির, মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্যাহ আল মামুন লাভলু, বাগালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার পাড়, মহেশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বাবু বিজয় কুমারের সাথে। তারা এই সংবাদদাতাকে জানান, প্রতি বছর আমরা নোনা পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হই। কিন্তু বরাদ্দের সিংহ ভাগ অর্থ ঠিকাদার ও পাউবোর পকেটে চলে যায়। সে কারনে দায়সারা মাটির কাজ করা হয়। চেয়ারম্যানগণ আরো বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাউবোর বেড়িবাঁধের মাটির কাজ হতে হবে তাহলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব বলে মনে করেন এলাকাবাসী। ইদানিং কয়রা ইউনিয়নের হরিণখোলা ও ঘাটাখালী এলাকার ভাঙনে জোরে সোরে মাটির কাজ চলছে, যার তদারকিতে রয়েছেন স্বয়ং সংসদ।

এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা শফিকুল ইসলামসহ সকল সংবাদকর্মীরা উক্ত ভাঙন কবলিত এলাকা নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় চিত্রসহ উপস্থান করলেও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তেমন কোন ভূমিকা না থাকায় কয়রার ৪ লাখ মানুষ আজও নোনা পানির আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ফলে মহান সংসদের অভিভাবককে দ্রুত বেড়িবাঁধ বাস্তবায়নের জন্য জরুরি বরাদ্দ ও বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথ খাতে ব্যয়ের জন্য কয়রাবাসী দাবি করেছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বেড়িবাঁধ

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
২৩ মার্চ, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ