Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

সংখ্যালঘু হামলায় ক্ষমতাসীনরা জড়িত সুজন

ইউপি ভোটে ১৪৫ জনের প্রাণহানি : জীবিতরা ভয়ে যেতে পারেনি, মৃতরা ভোট দিয়েছে

প্রকাশের সময় : ১৭ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : সদ্য ৬ ধাপে শেষ হওয়া নবম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রায় প্রতিটি ঘটনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জড়িত বলে অভিযোগ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০১৬-এর একটি সার্বিক প্রতিবেদন শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনটির সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার লিখিত বক্তব্যে বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে বিশেষ করে বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তীকালে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় হামলার শিকার হয়েছে। যার প্রায় প্রতিটি ঘটনা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অথবা তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা জড়িত। আবার কোনো কোনো এলাকায় নির্বাচনের পূর্বে সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৯ বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আমাদের দেশে নির্বাচন বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামেগঞ্জে একদিকে যেমন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়, পাশাপাশি প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরোধে সংঘাত-সংঘর্ষও হয়। ফলে হতাহতের ঘটনাও ঘটে থাকে। তবে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার রেকর্ড অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
তিনি বলেন, প্রাণহানির ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলো এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন, নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষ এবং নির্বাচন কেন্দ্রিক বিরোধের জেরে ১৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রথম ধাপে নির্বাচনের পূর্বে ১০ জন, নির্বাচনের দিন ১১ জন, প্রথম ধাপের নির্বাচনের পর থেকে ২য় ধাপের নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত ১১ জন, ২য় ধাপের নির্বাচনের দিন ৯ জন, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের পর থেকে ৩য় ধাপের আগ পর্যন্ত ১৭ জন, ৩য় ধাপের নির্বাচনের দিন ৫ জন নিহত হয়েছেন। ৩য় ধাপের নির্বাচনের পর চতুর্থ ধাপের পূর্ব পর্যন্ত ১০ জন, চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের দিন ৮ জন এবং চতুর্থ ধাপের পর পঞ্চম ধাপের পূর্ব পর্যন্ত ২৩ জন, নির্বাচনের দিন ১৫ জন আর শেষ ধাপের নির্বাচনের আগে ৮ জন, নির্বাচনের দিন ৫ জন এবং নির্বাচনের পরে ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতারোধে সুজনের পক্ষ থেকে কিছু করণীয় তুলে ধরেন তিনি। করণীয়র মধ্যে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণ ও ব্যাপক সংস্কারের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে সুস্থতা ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন একটি বলিষ্ঠ বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ক্ষমতা, দায়িত্ব, সম্পদ দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রকৃত অর্থেই শক্তিশালী করা।
সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আইয়ুব খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে মৌলিক নির্বাচন বলে অভিহিত করলেও আমি এই নির্বাচনকে বলবো ভৌতিক নির্বাচন। কারণ এবারের ইউপি নির্বাচন ভয়ের কারণে জীবিত ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু মৃত ভোটাররা ভোট দিয়েছে। দেড়শ’ বছরের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে খারাপ ইউপি নির্বাচন হয়েছে। দেশি-বিদেশি কোন স্থানীয় নির্বাচনের সঙ্গে এই নির্বাচনের কোন মিল নেই। এবারের ইউপি নির্বাচন ক্ষমতাসীন দল লাভবান হয়েছে। তবে ভেঙে পড়েছে নির্বাচনী ব্যবস্থা।
এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনের যে ধারা বা ট্রেন্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা নিয়ে আমরা সকলেই উদ্বিগ্ন। সহিংসতা, হানাহানি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানি, পুলিশের উপস্থিতিতে ভোট কারচুপি প্রভৃতি আমরা এবারের নির্বাচনে ব্যাপক আকারে দেখতে পেয়েছি। নির্বাচনের সময় সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানই নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে বাধ্য। কিন্তু আমাদের নির্বাচন কমিশন বলেছে যে, তারা সরকারের ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা পায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচনের যে মডেল বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছে তাতে ২০১৯ সালের নির্বাচনেও যে ক্ষমতাসীনরাই পুনরায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে যাবে, যা গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে মঙ্গল বয়ে আনবে না। এ পেক্ষাপটে তিনি একটি জাতীয় ভিত্তিতে একটি সংলাপ হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। নির্বাচনের পর এখন নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সংস্কার তথা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুজনের নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম, সানজিদা হক বিপাশা প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ