Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ০৬ মাঘ ১৪২৭, ০৬ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

চিংড়ি জমি প্রভাবশালীদের দখলে

কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

জাকের উল্লাহ চকোরী, কক্সবাজার থেকে | প্রকাশের সময় : ১৩ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিংড়িজোন খ্যাত রামপুর মৌজার ১০ হাজার ভূমিহীন পরিবারের মালিকানাধীন ৫১১২ একর চিংড়ি জমি জোড়পূর্বক ভোগদখলে রেখেছেন একদল লাঠিয়াল বাহিনী। এ বিপুল পরিমান চিংড়ি জমি থেকে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব। মাঝ খানে কক্সবাজার জেলা মৎস্য বিভাগ লাঠিয়াল বাহিনীদের কাছ থেকে প্রতিবছর উৎকোচ আদায় করছে লাখ লাখ টাকা। এ অভিযোগ উপজেলার রামপুর সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি লিমিটেড (রেজিস্ট্রেট নং ২৩৯৯/৭২(চট্ট)’র ১০ হাজার ভ‚মিহীন পরিবারের।

সমিতির ১০ হাজার সভ্যের পক্ষে সভাপতি আবু জাফর অভিযোগ করেছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এ জমি জবর দখল করে রাখায় সমিতির সদস্যরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি আবু জাফর ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগও পাঠিয়েছেন।

ভ‚মিহীনদের লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, জবর দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কক্সবাজার জেলা ও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনকে উচ্চতর আদালতের নির্দেশ অনুয়ায়ী ভূমিহীনদের মাঝে তাদের প্রাপ্য জমি দখল বুঝিয়ে দেয়ার জন্য বার বার নির্দেশ দেয়ার পরও তা কার্যকর হচ্ছেনা।

ভূমিহীন পরিবারদের পক্ষ থেকে সভাপতি আবু জাফর আরো জানান, তাদের পক্ষে সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১০৯৬২/১২, ৬০৪৭/১৮ এবং কনট্রেম্প পিটিশন নাম্বার ২৬১/১৭ এর আদেশ বাস্তবায়নের জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের বরাবরে একটি আবেদন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (রাজস্ব শাখা) কে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বারক নং ০৫.২০.২২০০.১২৮.২৭.০০৬.২০১৯ তারিখ ০২-০৯-২০১৯ মূলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোটের আদেশ বাস্তবায়ন পূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

জানা যায়, চকরিয়ার রামপুর মৌজার আরএস ১০৮৩, ১০৮৪, ১০৮৬, ১১১০, ১১১১, ১১১২ অধিনে সর্বমোট ৫১১২ একর চিংড়ি জমি ১০ হাজার ভ‚মিহীন সদস্যদের নামে সিএস ও এমআরআর খতিয়ান রেকর্ড ভ‚ক্ত রয়েছে। পরবর্তীতে ১৯০৩ সালে চকরিয়া সুন্দরবন করার উদ্দেশ্যে বিনা নোটিশে অধিগ্রহণ করে বন বিভাগের নিকট এ জমিসহ অন্যান্য জমি হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু বন বিভাগ চকরিয়া সুন্দরবন সৃজন করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে ওই জমিগুলো মৎস্য বিভাগকে উন্নত মৎস্য খামার করার লক্ষ্যে ৫ বছর চুক্তি ভিত্তিতে হস্তান্তর করেন। কিন্তু মৎস্য বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মৎস্য খামার না করে বিভিন্ন ধনীদের নামে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তিতে মৎস্যঘের ইজারা দেয়। যা সরকারের সংবিধান বিধিমোতাবেক অপরাধ যোগ্য। পরবর্তীতে মৎস্য বিভাগের বিরুদ্ধে ভ‚মিহীন সমিতির পক্ষে নিন্মআদালত থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোট বিভাগ পর্যন্ত মামলা করলে সর্বআদালতে মৎস্য বিভাগের মামলা খারিজ হয়ে ভূমিহীন সমিতির পক্ষে রায় হয়।

৫০ বছর ধরে আইনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে গিয়ে ভ‚মিহীনরা এখন নিঃশ্ব হয়ে পড়েছে। অনেক ভ‚মিহীন পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কিন্তু ভ‚মিহীনদের পক্ষে একের পর এক রায় হলেও লাঠিয়াল বাহিনীর জবর দখল থেকে ভ‚মিহীনরা তাদের জমি এখনো পুনরুদ্ধার করতে পারেনি।

ভূমিহীন পরিবারদের পক্ষ থেকে অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব জমিগুলো বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ ৪৬৮ জন ভূমিদস্যূদের দখলে রয়েছে। তৎমধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের নামে প্রায় ৩৮০ একর, জনৈক বাহার উদ্দিনের নামে ৯০ একর, সাহারবিলের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হাকিমের নামে রয়েছে ২২০ একর, তার মেয়ের জামাতা দলিল মিয়ার নামে রয়েছে প্রায় ৫২০ একর, ছলিম উল্লাহ’র নামে প্রায় ২০০ একরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন ব্যক্তিরা মৎস্য বিভাগের সাথে অবৈধ যোগসাজস করে সম্পূর্ন অবৈধভাবে এসব জমি ভোগদখলে রেখেছে। এ অভিযোগ রামপুর সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি লিমিটেডর সভ্যদের। এ ব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন