Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৫ চৈত্র ১৪২৫, ১১ রজব ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

মুবারক হো মাহে রমজান

প্রকাশের সময় : ১৭ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী
সিয়াম সাধনা পাপ মোচন করে
সিয়াম সাধনার দ্বারা পাপ মোচন হওয়া একটি স্বতঃসিদ্ধ ব্যাপার। মহান আল্লাহপাক আল-কুরআনে ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ গোনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়, এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য একটি উপদেশ।” (সূরা হূদ : আয়াত-১১৪)। এতে কোনই সন্দেহ নেই যে, অধিক পরিমাণ নেক আমল গোনাহ ও পাপের শৃঙ্খল হতে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে এবং তার নেক আমলের কারণে মহান আল্লাহপাক তাকে তাওবাহ করার তাওফিক এনায়েত করেন।
বান্দাহর পাপ মোচন সম্পর্কে আল-কুরআনে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন : “তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি তো কেবল পরীক্ষা বিশেষ, আর আল্লাহপাকের নিকট রয়েছে সুমহান প্রতিদান।” (সূরা তালাবুন : আয়াত-১৫)।
তিনি আরও ইরশাদ করেছেন : “আর ভালো এবং মন্দ দ্বারা আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে।” (সূরা আম্বিয়া : আয়াত-৩৫)।
উপরোক্ত আয়াতদ্বয়ে “ফিতনা” শব্দটি পরীক্ষা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) ফিতনার বিশ্লেষণ করে বলেছেন : “আল্লাহপাকের ফরমান হলো এই যে, আমি তোমাদেরকে সুখ-দুঃখ, সুস্থতা-অসুস্থতা, প্রাচুর্য-দারিদ্র্য, হালাল-হারাম, পাপ-পুণ্য এবং হেদায়েত ও গোমরাহীর মাধ্যমে পরীক্ষা করব।” (তাফসীরে ইবনে কাসীর : খ--৩, পৃষ্ঠা-২৮৬)।
একবার হযরত ওমর ফারুক (রা:) সাহাবায়ে কেরামকে লক্ষ্য করে বললেন : ফিতনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা:) এর হাদীস কার মনে আছে? হযরত হুযাইফা (রা:) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা:)কে বলতে শুনেছি- ব্যক্তির ফিতনা তার পরিবার-পরিজনে, মাল-সম্পদে ও তার প্রতিবেশীর মধ্যে যার কাফফারা হয় সালাত, সিয়াম ও সদকাহ (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১৭৯৬; সহীহ মুসলিম : হাদীস নং-১৪৪)।
হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) আল্লাহর বাণী উচ্চারণ করে বলেছেন : “আল্লাহপাক ফরমান, প্রত্যেক আমলের কাফফারা রয়েছে। আর সাওম হচ্ছে আমার জন্য আমিই তার প্রতিদান দেব।”  (সহীহ বুখারী : হাদীস নং-৭১০০; মুসনাদে ইবনে হাম্বল : খন্ড-২, পৃষ্ঠা ৫০৪)। মুসনাদে আহমাদে আরও আছে : আল্লাহপাক ফরমান “প্রত্যেক আমল কাফফারা, আর সাওম আমার জন্য। আমি তার প্রতিদান দেব।” (মোসনাদে আহমাদ : খ--২, পৃষ্ঠা-৪৫৭; তায়ালিসি : হাদীস নং-২৪৮৫)। হযরত আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : “পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এক জুমা থেকে অপর জুমা, এক রমজান হতে অপর রমজান, মধ্যবর্তী সময়ের জন্য কাফফারা স্বরূপ, যদি করীবা গোনাহ থেকে বিরত থাকা হয়। (সহীহ মুসলিম : হাদীস নং-২৩৩)। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা:) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: “যে রমজানের সাওম পালন করল, তার সীমারেখা ঠিক রাখল, যা থেকে বিরত থাকা দরকার তা থেকে সে বিরত থাকল, তার পূর্বের পাপ মোচন করা হবে।” (মোসনাদে আহমাদ : খ--৩, পৃষ্ঠা-৫৫, মোসনাদে-আবু ইয়ালা : হাদীস নং ১০৫৮; বায়হাকী : খ--৪, পৃষ্ঠা ৩০৪; সহীহ ইবনে হিব্বান : হাদীস নং ৩৪৩৩)।





 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মুবারক হো মাহে রমজান
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ