Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

আগামী ৫ বছরে ১ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানির টার্গেট বেক্সিমকো ফার্মার

প্রকাশের সময় : ১৭ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:৪৫ এএম, ১৭ জুন, ২০১৬

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ-রসায়ন খাতের কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মা লিমিটেড আগামী ৫ বছরে ১ বিলিয়ন ডলার ওষুধ রপ্তানি করতে চায়। গতকাল কোম্পানিটির কুয়েতে ওষুধ রপ্তানি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বেক্সিমকো গ্রæপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আদেল মো. এএইচ হায়াত, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রাব্বুর রেজাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে সালমান এফ. রহমান বলেন, বেক্সিমকো ফার্মা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কুয়েতসহ ৫৪টি দেশে ওষুধ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে। দেশগুলোতে বেক্সিমকোর ৬০০ পদের ওষুধ রপ্তানি করার রেজিস্ট্রেশন আছে। গত বছর আমাদের ওষুধ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ওই দেশগুলোতে রপ্তানি আরও বাড়াতে কাজ করছি আমরা। আশা করছি, আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমরা ১০০ কোটি ডলারের ওষুধ রপ্তানি করতে পারবো।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের লোকাল মার্কেটে যে দামে ওষুধ বিক্রি হয়, বাইরের দেশে তার চেয়ে ২০  থেকে ২৫ শতাংশ বেশি দামে ওষুধ রপ্তানি করছি। তবে অন্য দেশের তুলনায় কম দামে কুয়েতে ওষুধ রপ্তানি করছে বেক্সিমকো ফার্মা। গলফ অঞ্চলের বাজার ধরতে এটি করা হচ্ছে।
কুয়েত রাষ্ট্রদূত আদেল মোহাম্মদ এএইচ হায়াত বলেন, বেক্সিমকোর ওষুধ দিয়ে বাংলাদেশের বাজার থেকে আমরা ওষুধ নেয়া শুরু করলাম। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশি ওষুধের দাম কম। আশা করছি, আগামী দিনে কুয়েতে বেক্সিমকোর ওষুধ রপ্তানির হার বাড়বে।
বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন বলেন, বেক্সিমকো ফার্মা ওষুধ রপ্তানি করার জন্য সম্ভাবনাময় দেশগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে। ৬টি আরব দেশ নিয়ে গঠিত পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওষুধের মোট বাজার ৯০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে শুধু কুয়েতের ওষুধের বাজারই ১০০ ডলারের। আশা করছি এর ৫০ শতাংশই দখলে নিতে পারবে বেক্সিমকো।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয় ইউনিয়ন, গলফ কান্ট্রি এবং অষ্ট্রেলিয়ার মতো দ্রæত প্রসারমান বাজারগুলোতে ওষুধ রপ্তানির জন্য প্রধান্য দিচ্ছে বেক্সিমকো। জিসিসির দেশগুলো ওষুধ রপ্তানির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কুয়েতের মাধ্যমে আমরা এই যাত্রা শুরু করলাম। বাংলাদেশ কোম্পানি হিসেবে আমরাই প্রথম এটি করলাম।
রাব্বুর রেজা বলেন, অ্যাজমা রোগের প্রতিষেধক অ্যাজমাসল ও বেক্সিট্রল এফ এবং বøাড প্রেসারের ওষুধ এমডোকাল দিয়ে কুয়েতে রপ্তানি শুরু করলাম। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেকটি ওষুধের ৬ হাজার ইউনিট করে রপ্তানি করা হবে। চাহিদার আলোকে সরবরাহ বাড়াবো আমরা।
১৯৮৬ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে এর উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ২৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ৩৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকরী এবং ২৪ দশমিক ৩১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে।
৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ শেষ হওয়া হিসাব বছরের জন্য কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়। এর মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। আলোচিত সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৫ টাকা ৬ পয়সা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ