Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার , ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

ফুলপুরে সেতুর অভাবে জনদুর্ভোগ

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৫ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা খরস্রোতা নদী নাগধরা বর্ষাকালে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। একটি সেতুর অভাবে এই নদীতে তিনজনের প্রাণহানিসহ অসংখ্য মানুষের ভোগান্তির ঘটনা ঘটেছে।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাগধরা টু কাওয়ালিজান সড়কে নড়াইল, মাছাইল, কুমুরিয়া, কাওয়ালিজান, গোপীনগর ও কালিয়ানিকান্দাসহ প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ চলাচল করে থাকেন। পূর্ব নড়াইল টু কাওয়ালিজান সড়কে নাগধরা নদী পারাপারের সময় কয়েক বছর আগে মাছাইল গ্রামের কুমেদ মুন্সীর ছেলে হাশেম, পূর্ব নড়াইল গ্রামের পালকপিতা আবাল হোসেনের ছেলে তাহের ও নড়াইল গ্রামের জালালের মেয়ে জামাই বারেকের মৃত্যু হয়েছে। গরুর লেজ ধরে নদী পারাপারের সময় ডুবে এদের মৃত্যু হয়।

সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে কথা হয় ভুক্তভোগী অসহায় মানুষদের সাথে। নড়াইল গ্রামের সাঈদুল ইসলাম বলেন, এই নদী পার হতে নৌকাই আমাদের একমাত্র অবলম্বন। কয়েকদিন আগে নৌকায় উঠার সময় পিছলিয়ে পড়ে আমার মার ডান হাত ভেঙে গেছে।

খালপাড় গ্রামের আব্দুল হালিম জানান, কয়েক বছর আগে এই নদীতে হাশেম, তাহের ও বারেকের মৃত্যু হয়েছে। গরুর লেজ ধরে নদী পার হওয়ার সময় লেজ ছুটে নদীতে ডুবে এরা মারা যায়। এছাড়া কত গরু বাছুর যে মরছে এর কোন হিসাব জানা নেই। একটা সেতু থাকলে হয়তো এদের এভাবে মরতে হতো না। একই গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার মুন্সির ছেলে আব্দুল আউয়াল বলেন, রাত ১১/১২টা বেজে গেলে আমাদের আর এই নদী পাড় হওয়ার উপায় থাকে না। রোগী নিয়ে তখন কোন মসজিদে বা আত্মীয় বাড়িতে রাত কাটাতে হয়। একই গ্রামের আব্দুল কাদির বলেন, নিজেরা তো পড়াশোনা করতে পারি নাই, পোলাপান লইয়াও বিপদে আছি।

নাগধরা নদীর উত্তর পাড়ে প্রায় দুইশ পরিবারের বসবাস থাকলেও স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও এখানে নেই কোন একটি স্কুল বা মাদরাসা। পূর্ব নড়াইল গ্রামের কৃষক আলহাজ আব্দুল লতিফ আক্কু বলেন, নাগধরা নদীর উত্তর পাড়ে যেসব জমিজমা আছে এর অধিকাংশ কৃষকের বাড়ি নদীর দক্ষিণ পাড়ে। আমার নিজের ওখানে প্রায় ৪০ একর জমি রয়েছে। নৌকা দিয়ে এসব জমির ফসল ঘরে তুলতে নৌকা ডুবিসহ কত যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা বলে বুঝানো যাবে না। থল এলাকার মুনসুর আলী বলেন, এখানে একটা সেতু নির্মাণ হলে প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতসহ শিক্ষাদীক্ষা ও ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়।

এ বিষয়ে সাবেক এমপি এমদাদুল হক মুকুল ও তার ছেলে হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক সায়েমও চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। সাংবাদিক এম এ মান্নান একটি আবেদনপত্রসহ হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া আসনের এমপি জুয়েল আরেং স্বাক্ষরিত একটি ডিও লেটার ২০১৭ সনের ২১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। হালুয়াঘাট উপজেলা প্রকৌশল অফিসের এ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহমান ইতোপূর্বে দুইবার গিয়ে সেতুর মাপ এনেছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন জায়গায় আরো সেতু করলেও অদৃশ্য কারণে এখানে আজও একটি সেতু হয়নি।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা প্রকৌশলী শান্তনু ঘোষ সাগরের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সচিবালয়ে যে ডিও লেটারটা জমা দিয়েছিলেন এর একটা কপি আমাকে দিয়েন। চেষ্টা করে দেখবো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ