Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই পুলিশের ওপর হামলা

গ্রেফতারকৃত নব্য জেএমবির দুই সদস্য ৫দিনের রিমান্ডে

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৫ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

নব্য জেএমবির প্রধান টার্গেট পুলিশ। আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর (বিশেষ করে আইএস) দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই জঙ্গিরা পুলিশের ওপর হামলার টার্গেট করেছিল। গতকাল সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। গত রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আটক নব্য জেএমবির দুই সদস্য মো. মেহেদী হাসান তামিম ও মো. আব্দুল্লাহ আজমিরকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আটক নব্য জেএমবির দুই সদস্য মো. মেহেদী হাসান তামিম ও মো. আব্দুল্লাহ আজমিরের ৫দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রাজধানীর গুলিস্তান ও সায়েন্সল্যাব এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় সোমবার তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এদিন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া ৫দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তিনি বলেন, সিটিটিসির একটি দল বিশেষ অভিযানে নব্য জেএমবির এই দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে জঙ্গিকার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য। তাদের প্রধান লক্ষ্য পুলিশ। তাই বিভিন্ন সময় হামলার জন্য তারা পুলিশবক্সকে লক্ষ্য করে হামলা করেছে। প্রতিটি হামলার আগে টার্গেটকৃত স্থানে বারবার রেকি করে তারা। পুলিশের ওপর তাদের হামলার কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক জঙ্গিসংগঠনগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা। যার মধ্যে তাদের প্রথম পছন্দ ছিল আইএস। তারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিল। তবে এখন আইএসের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নব্য জেএমবির সামরিক শাখার এ দুই সদস্য জানিয়েছে, তারা প্রত্যেকেই খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তারা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রæয়ারি মাসে ভোলার একটি দুর্গমচরে সামরিক প্রশিক্ষণ নেয় তারা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শিয়াচর এলাকায় তক্কার মাঠ সংলগ্ন একতলা একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ল্যাবরেটরির মতো সাজানো কক্ষের সন্ধান পায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। সেখানে বিপুল পরিমাণ ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) পাওয়া যায়। ওই অভিযানে বাড়ির মালিক বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত একজন ডিজিএম জয়নাল আবেদীনের ছেলে ফরিদউদ্দিন রুমি ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফোয়ারা অনুকে গ্রেফতার করা হয়। রুমি ঢাকার আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষক আর তার ভাই জামালউদ্দিন রফিক খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, তারা ফতুল্লায় রফিকের বাসায় বোমা তৈরির একটি কারখানা তৈরি করে। গ্রেপ্তাররা পরস্পর যোগসাজশে তৈরি করা বোমা দিয়ে গুলিস্তান এবং সাইন্সল্যাবে হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। এ ছাড়া মালিবাগের হামলায় এবং পল্টন ও খামারবাড়ি যে বোমা পাওয়া গেছে, সেসব তৈরিতে রফিককে সহায়তা করার কথাও তারা স্বীকার করেছে। তারা স্বীকার করেছে, তাদের পরিকল্পনা এবং নেতৃত্বেই সা¤প্রতিক সময়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ