Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

১১ হাজার কৃষকের জন্য অভিশাপ ‘ভুতিয়ার বিল’

আবু হেনা মুক্তি | প্রকাশের সময় : ১৬ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

জলজ ফুলের রানি খ্যাত পদ্ম ফুল ফুটছে ভুতিয়ার বিলে। যা দেখতে প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি হাজারও পর্যটক ভিড় করছেন বিল এলাকায়। পর্যটকদের ভিড়ে বিনোদনপ্রেমীদের প্রিয় স্পট হিসেবে রূপ নিচ্ছে ভুতিয়ার বিল।

অথচ এই ভুতিয়ার বিল কয়েক হাজার কৃষকের অভিশাপের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। পানি নিস্কাশনের পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে খুলনার ভুতিয়ার বিল। জেলার তেরখাদার উপজেলার ভুতিয়ার বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ১১ হাজারেরও বেশি কৃষকের কপাল পুড়েছে। দীর্ঘ এই ১৪ বছর অনাবাদী রয়েছে এ বিলের ২০ হাজার ৮০০ একর জমি।

২০০৫ সালের পর থেকে খুলনার তেরখাদা উপজেলার ভুতিয়ার বিলের ভূমি মালিক ও কৃষকদের শুরু হয় দূঃখের জীবন। বিলের হাজার হাজার একর জমি থেকে পানি না সরে স্থায়ী হয়ে যায়।

অথচ এক সময় এ বিলের জমি থেকেই এলাকার মানুষের সারা বছরের ধানের চাহিদা মিটত। যাদের জমি নেই, তারা অন্যের জমিতে কাজ করে জীবন ধারন করতো। ফসল কাঁটার সময় এ অঞ্চলে মানুষের মুখে হাসি ফুটে থাকতো। কিন্তু সেদিন এখন অতীত, হাজার হাজার একর জমি জলাবদ্ধতা থাকায় অনেক কৃষক বেকার হয়ে পড়েছেন। এসব জমিতে ফসল উৎপাদন করে সংসার চালাতেন আশে পাশের এলাকার কৃষক। ধানচাষ করতে না পারায় আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয় কৃষকরা।

এছাড়াও, বর্ষা মৌসুমে কয়েক শতাধিক ঘর-বাড়িতে পানি উঠে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ১/২ সপ্তাহ লেগে যায় ঘর-বাড়ি থেকে পানি নেমে যেতে। তখন ছোট শিশু, বৃদ্ধলোক, গবাদিপশু নিয়েও পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে বেড়ে যায় কীট-পতঙ্গ আর মশা-মাছির উপদ্রব। জলাশয়ের নোংরা পানি ব্যবহারের ফলে দেখা দেয় নানান পানিবাহিত রোগের।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে জানা যায়, এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাগবে ২০১০-১১ অর্থবছরে ২ বছর মেয়াদী একটি প্রকল্প হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে তার সুফল না পাওয়ায় ২০১৭-১৮-১৯ অর্থবছরের ৩ বছর মেয়াদী একটি প্রকল্প আবার ও হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে সরকারের মহৎ এ প্রকল্পটি আবার ও বেহেসতে যাবার পথে এমমটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ বছরে ভুতিয়ার বিলের উপর নির্ভরশীল কয়েকশত পরিবার কাজ না পেয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্ত চলে গেছে। কেউবা আবার পেশা পরিবর্তন করছে।

তেরখাদা উপজেলার তেরখাদা উত্তরপাড়ার মনির হোসেন বলেন, চৌদ্দ পুরুষ ধইরা আমরা কৃষিকাজ কইরা খাইতাছি। আর দীর্ঘদিনের ধরে জলাবদ্বতার কারনে আমাগো কৃষিকাজ ছাইড়া অন্য কাজ করতে হইতাছে।’

হাড়িখালী গ্রামের কৃষক আকরাম শেখ বলেন, এক সময় ভুতিয়ার বিলে আমন, ইরি বা আউষ ধানের চাষ হতো। কিন্ত স্থায়ী ভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় সারা বছরই ফসলি জমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকে। যার ফলে ফসল ফলানো সম্ভব হয় না।
বল্ববদনা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ব থাকায় অনেক কষ্টে আছি। ছেলে মেয়ে নিয়ে কখনো খেয়ে আবার কখনো না খেয়ে বেচে আছি। ২ ছেলের লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় খাবার হোটেলে কাজ করছে।

ভুতিয়ার বিলের জলাবদ্বতা নিরাসনে সরকার দ্রুত কার্যকরী প্রকল্ব বাস্তবায়ন করবে এমটাই প্রত্যাশা তেরখাদাবাসীরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ