Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ০৬ চৈত্র ১৪২৫, ১২ রজব ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম

প্রকাশের সময় : ১৮ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম


কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে অনুমোদনহীন আইসক্রিম কারখানাগুলোতে তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের আইসক্রিম। নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব আইসক্রিম খাবার ফলে উপজেলার কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার কুনকুনিয়া, ছালাভরা, মেঘাই, হরিনাথপুর, শিমুলদাইড়, সোনামুখী, সীমান্ত বাজারসহ বেশকিছু স্থানে গড়ে ওঠা এসব কারখানার পরিবেশ একেবারেই নোংরা। এদের নেই বিএসটিআই এর অনুমোদন। কাজিপুর উপজেলা প্রশাসনও এদের কোন খোঁজ রাখে না। পানির হাউজের মধ্যে ধুলা, বালী, ইটের গুঁড়ো, শ্যাওলা, এমনকি মশা মাছি পর্যন্ত মরে পড়ে রয়েছে। সেই পানিতেই চিনির পরিবর্তে স্যাকারীন আর দুধের পরিবর্তে মেশানো হচ্ছে একপ্রকার পাউডার। আইসক্রিমে নারকেলের পরিবর্তে জর্দায় ব্যবহৃত দানা যুক্ত সাদা ভুষি মেশানো হচ্ছে। শিশুদের কাছে অধিকতর আকর্ষণীয় করতে মেশানো হচ্ছে কাপড়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার বিষাক্ত রঙ। আইসক্রিম তৈরির কারিগরদের জন্য নির্দিষ্ট কোন পোশাক নেই। জুতো পায়ে ঘর্মাক্ত শরীরে দিনের পর দিন এভাবে কাজ চলছে। সম্প্রতি একটি এনজিওর এক জরিপে দেখা গেছে, কাজিপুরের অধিকাংশ নলকুপের পানিতে প্রায় শতভাগ আর্সেনিক রয়েছে। আর এসব কারখানায় আর্সেনিকযুক্ত পানিতেই তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম। এই আইসক্রিম বিক্রির পদ্ধতি আরো অভিনব। তৈরির পর আকর্ষণীয় মোড়কে প্যাকেটজাত করা হয়। এরপর ভ্যান গাড়িতে মাইক লাগিয়ে নানা আকর্ষণীয় প্রচারের মাধ্যমে পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সামনে, হাটবাজারে, রাস্তার মোড়ে বসে শিশুদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রি বাড়াতে বিক্রেতারা কোমলমতি শিশুদের কাছে আইসক্রিমের সাথে লটারীর টিকেট বিক্রয় করে। পুরস্কার পাবার আশায় টিকেট কিনে শিশুরা বেশি করে কিনে প্রতারিত হচ্ছে। বিশেষ করে শেষ বসন্তের প্রচ- দাবদাহে শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও তেষ্টা মেটানোর জন্য এসব আইসক্রিম কিনে খাচ্ছে। ফলে আমাশয়, ডায়েরিয়া, সর্দি-কাশি, জন্ডিসসহ নানা পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে কাজিপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার বলেন, রঙ মেশানো, ময়লাযুক্ত আইসক্রিম খেলে নানা প্রকার পেটের পীড়াসহ জন্ডিস এমনকি কিডনি ও লিভারের বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, আইসক্রিম কারখানাগুলোর তালিকা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ