Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার , ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া চাকরির নিয়োগ দেখিয়ে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৬ অক্টোবর, ২০১৯, ৫:৩৮ পিএম

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া চাকরির নিয়োগপত্র তৈরি করে এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম শ্রী বিপুল কুমার রায় (৪৩)। তিনি দেবীগঞ্জের বম্মোত্তর সুন্দরদীঘি সরকারপাড়া গ্রামের শ্রী হরিশ চন্দ্র রায়ের ছেলে। দিনের পর দিন নিজেদের আত্মীয়-স্বজনকে চাকরি দেওয়ার নাম করে এই টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

একাধিক অভিযোগকারী জানান, শ্রী বিপুল কুমার রায় নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় ফার্মেরহাট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক। তিনি সামান্য একজন স্কুল শিক্ষক হয়েও কৌশলে চাকরি দেওয়ার নাম করে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন। বিশ্বনাথ রায় (৬০) নামের একজন অভিযোগ করে বলেন, বিপুল কুমার রায় আমার স্ত্রীর বোনের ছেলে। তিনি আমার ছোট ছেলেকে সমাজসেবা অধিদফতরে নিয়োগ দেখিয়ে বলেন আপনার ছেলেকে সমাজসেবা অধিদফতরে চাকরি নিয়ে দিব। এক পর্যায়ে আমরা তার কথা মত ছেলের চাকরির জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেই। বিপুল টাকা নেওয়ার পূর্বে আমাকে বলেন চাকরি না হলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু আমার ছেলের চাকরিও দিতে পারেনি এখন টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের শ্রী মদন চন্দ্র রায়ের ছেলেকে বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন স্কুল শিক্ষক বিপুল কুমার রায়। অভিযোগকারী মদন চন্দ্র রায় বলেন, বিপুল কুমার রায়ের নাকি বাংলাদেশের সব মন্ত্রনালয়েই চাকরি দেওয়ার লোক আছে। এই জন্য তিনি আমার ছেলেকে রেলওয়েতে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৫ লাখ টাকা অগ্রিম নেন। চাকরির তো কোন খবরই নেই; এখন অনেক চেষ্টা করেও টাকা উত্তোলনও করতে পারছি না। একই এলাকার অখিল বন্ধু নামে এক তরুণের পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) এর চাকরি দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নেন ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। জমি জায়গা বিক্রি করে সরকারি চাকরির আশায় টাকা দিয়েছিলেন অখিল বন্ধু। কিন্তু চাকরিও হয়নি টাকাও ফেরত পায়নি। অখিল বন্ধু বলেন, আমি বিপুল কুমারকে বিশ্বাস করেই টাকা দিয়েছিলাম। তিনি আমাকে শতভাগ চাকরির নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমার চাকরি হয়নি এবং ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা আমাকে ফেরত দিচ্ছে না।

চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অভিযুক্ত বিপুল কুমার রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই আমার নামে মানুষ এগুলো মিথ্যে ঘটনা রটাইছে। এগুলো অসম্ভব। কার কার কাছে টাকা নিয়েছেন তাদের নাম বললে তিনি আবারও বলেন, না না এগুলো অসম্ভব। এর বাইরে তিনি আর কিছুই বলতে পারেননি।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র সরকার বলেন, আমার কাছে বিপুলের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা আত্মসাতের মৌখিক এবং লিখিত একাধিক অভিযোগ আসছে। আমি বিপুলকে এ বিষয়ে বার বার নোটিশ করেছি। কিন্তু সে আসে না। তারপরেও একজনের কিছু টাকা উত্তোলন করে দিয়েছি। বাকি টাকাগুলো সে দেব দেবে করে এখন পর্যন্ত দেয়নি।

দেবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চিশতি বলেন, বিপুল মানুষকে চাকরি দেওয়ার নামে অনেকের কাছেই টাকা নিয়েছেন এমন অভিযোগ আমার কাছে আছে। বিপুলকে এ বিষয়ে ডাকলেও সে কোন সাড়া দেয়না। তারপরেও চেষ্টা চলছে অভিযোগকারীদের টাকা উত্তোলন করে দেয়ার।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অভিযোগ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ