Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, এটা লজ্জার : ট্রাম্প নীতিতে সেনাবাহিনীতে ক্ষোভ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়া সত্ত্বেও ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-কে দেয়া সহযোগিতা বজায় রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার পেন্টাগন কর্মকর্তা একথা জানান। খবর এএফপি’র। ইসলামিক স্টেট গ্রুপের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে এসডিএফ হচ্ছে প্রধান অংশীদার। অনুগত এ মিত্র বাহিনীকে পরিত্যাগ করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেন্টাগনের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সিরিয়ায় লড়াই চালিয়ে যেতে এসডিএফ’কে দেয়া সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আলোচনা করা হবে।’ ‘আমরা আইএসআইএস-মুক্ত অভিযানের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবো এবং আমরা কিভাবে এসডিএফের সাথে কাজ চালিয়ে যেতে পারি তা নির্ধারণ করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে তাদের অত্যন্ত বলিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা মনে করি এ সম্পর্ক আমরা বজায় রাখতে পারবো।’ অপর এক খবরে বলা হয়, ‘আমরা একসঙ্গে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। যা করতে বলেছি, তারা তা-ই করেছে। কিন্তু বিপদের সময় আমরা তাদের ত্যাগ করেছি। তাদেরকে মৃত্যুর দরজায় ঠেলে দিয়েছি। আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। এটা আসলেই আমাদের জন্য ভালো বিষয় নয়, অত্যন্ত লজ্জার।’ সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুর্দি নীতিতে এভাবেই গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সেনারা। ওয়াশিংটনের এমন ‘মীরজাফরি’ কা-ে ভবিষ্যতে মিত্র রাষ্ট্র-পক্ষগুলো কিংবা সম্ভাব্য কোনো অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা বা বিশ্বাস রাখতে চাইবে কিনা তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। চলতি মাসের প্রথম দিকে (৯ অক্টোবর) তুর্কি সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরে কুর্দি নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে ‘অপারেশন পিস স্প্রিং’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে তুরস্ক। এ অভিযানের মাধ্যমে অঞ্চলটি থেকে আইএস জঙ্গি ও কুর্দি বিদ্রোহীদের বিতাড়িত করে সেখানে একটি ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চায় আঙ্কারা। তুর্কি কর্মকর্তারা বলছেন, এ ‘সেফ জোনে’ গত কয়েক বছর ধরে তুরস্কে থাকা ৩৬ লাখ সিরীয় শরণার্থীর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এতদিন কুর্দিদের লালন-পালন করে এলেও তুর্কি অভিযানের আগে আগে ওই অঞ্চল থেকে ৫০ মার্কিন সেনার একটি ইউনিট প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে অভিযানের ‘সবুজ সংকেত’ হিসেবে নিয়ে অভিযানের ঘোষণা দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে ‘পিছন থেকে ছুরি মারার’ সঙ্গে তুলনা করছেন কুর্দি নেতারা। তুরস্কের সামরিক অভিযানের মুখে কুর্দিদের সহযোগিতায় ট্রাম্প প্রশাসনের এই অস্বীকৃতিতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা বিভাগের অনেক কর্মকর্তাই। এটাকে যুদ্ধক্ষেত্রের বহুদিনের বন্ধুদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছে ময়দানে সরাসরি যুদ্ধ করা মার্কিন যোদ্ধারা। যুক্তরাষ্ট্রের আইএসবিরোধী যুদ্ধে কুর্দিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে ট্রাম্পের আচরণে ‘তাজ্জব’ হয়েছেন সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তাও। এএফপি, সিএনএন।

 



 

Show all comments
  • Hasim Uddin ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ২:০৪ এএম says : 1
    বিশ্বাস ঘাতক,হন্ত্যা কারক।
    Total Reply(0) Reply
  • নাজিম উদ্দিন ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:২৩ পিএম says : 0
    আমেরিকা নিজেদের স্বার্থের জন্য সব কিছুই করতে পারে
    Total Reply(0) Reply
  • নোমান ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:২৪ পিএম says : 0
    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোন সমালোচনাই পাত্তা দেয় না।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুক্তরাষ্ট্র


আরও
আরও পড়ুন