Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

অথচ সাদের ক্যারিয়ারটাই পড়েছিল হুমকির মুখে!

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০১ এএম


সাদ উদ্দিন- বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবলের দলের নির্ভরযোগ্য এক ফরোয়ার্ডের নাম। যার অসাধারণ দক্ষতায় দু’দিন আগে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের ৮৮ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল লাল-সবুজরা। গত মঙ্গলবার কোলকাতার সল্টলেকের বিবেকানন্দ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উপস্থিত প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকসহ ভারত ও বাংলাদেশের কোটি ফুটবলভক্ত দেখেছেন সাদের দক্ষতা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি-কিকের বল বক্সের ভেতর লাফিয়ে উঠে সাদ যে হেডটা নিলেন তা ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধু কিছু বুঝে ওঠার আগেই জালে জড়িয়ে যায়। সাদের এই দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। হতবাক ও বাকরুদ্ধ হয়ে যান সল্টলেক স্টেডিয়ামের হাজার হাজার ভারতীয় দর্শক। এক নিমিষেই নায়ক বনে যান সাদ উদ্দিন। অথচ এই নায়কেরই তারকা ফুটবলার হওয়ার লালিত স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল একবছর আগে!

গত বছর এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাঁ পায়ে বেশ শক্ত চোট পেয়েছিলেন সাদ। হঠাৎই তার ক্যারিয়ারে নেমে এসেছিল ঘুটঘুটে অন্ধকার। যেখানে ফুটবল খেলাটাই পায়ের, সেখানে পায়েই চোট পেয়েছিলেন তিনি। এমন চোট যা সাদের ক্যারিয়ারটা পড়েছিল হুমকির মুখে। ফের মাঠে নামতে পারবেন কিনা তা নিয়ে ছিল সংশয়। কিন্তু ছাড়ার পাত্র নন এই ফুটবলার। চোটকে জয় করে জাতীয় দলে জায়গাও ফিরে পেলেন। আর সল্টলেক স্টেডিয়ামের হাজারো ভারতীয় সমর্থকের হৃদয় ভাঙ্গলেন অসাধারণ এক গোল করে। তার গোলের উপর ভর করেই হয়তো দীর্ঘ ১৬ বছর পর ভারতের বিপক্ষে জয় নিয়ে ঘরে ফিরতে পারতেন জামাল ভূঁইয়ারা। কিন্তু ম্যাচের শেষ সময়ের ভুলে সব আশা শেষ হয়ে গেল। ৮৮ মিনিটে ভারত গোল করায় ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে’র শিষ্যদের।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারতের চেয়ে ৮৩ ধাপ পিছিয়ে থাকলেও সল্টলেকে যে খেলা উপহার দিলো বাংলাদেশ তা অনেক দিন মনে রাখবেন কোলকাতাবাসী। এমন ম্যাচের পর সাদ’কে নিয়েই বেশী আলোচনা হচ্ছে সব জায়গায়। বিশেষ করে কোলকাতার মিডিয়ায় তো আলাদাভাবে জায়গা করে নিয়েছেন ঘরোয়া ফুটবলে ঢাকা আবাহনীর হয়ে খেলা সাদ উদ্দিন। যিনি এক ম্যাচেই ভারতীয় ফুটবলভক্তদের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। ম্যাচের পর কোলকাতার জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা’কে একটি সাক্ষাতকার দেন সাদ। যেখানে তিনি উল্লেখ করেন কেমন করে একটা চোট তার ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে বসেছিল। সাদ বলেন, ‘বছর খানেক আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার ফুটবল জীবনে নেমে এসেছিল অন্ধকার। বাঁ পায়ে প্রচন্ড চোট পেয়েছিলাম। মাঠের বাইরে বসে অনেকগুলো ম্যাচ দেখতে হয়েছিল আমাকে। মাঠের বাইরে বসে থাকাটা যে একজন ফুটবলারের জন্য কতটা যান্ত্রণাদায়ক তা বলে বোঝানো যাবে না। চোট সেরে মাঠে ফেরার পরে অনেকে অনেক কথাই বলেছে। কিন্তু কঠিন সময়ে দাঁত চেপে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমাকে ফিরে আসতেই হবে। নিজেকে প্রমাণ করতেই হবে। আমি হয়তো তা পেরেছি। কোলকাতায় এসে এমন একটা ম্যাচে গোল করতে পেরে আমার খুব ভাল লাগছে।’

বাংলাদেশ ফরোয়ার্ডের জেদ সম্পর্কে ভালই ধারণা আছে দলের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে’র। সাদ’কে নিয়ে তিনি বলেন, ‘বছর খানেক আগের দুর্ঘটনায় চোট পেয়ে বেশ কয়েক মাস সাদ খেলতে পারেনি। কিন্তু ওর প্রচন্ড জেদ ওকে ফের মাঠে ফিরিয়ে এনেছে। যার জন্য প্রচুর খেটেছে সে। দারুণভাবে ফিরেছে সাদ। সব সময়ই ভাল খেলার তীব্র ইচ্ছা দেখেছি ওর মাঝে। আমি সন্তুষ্ট সাদের খেলায়।’

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ