Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার , ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার রাখতে হবে

সরদার সিরাজ | প্রকাশের সময় : ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

উন্নয়নের ব্যাপক ঢাক-ঢোলের মাঝেই হঠাৎ করে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি আবিষ্কার হওয়ায় অনেক কিছুই বেরিয়ে আসছে। বেরিয়ে আসছে রাজনীতি ও প্রশাসনের ভয়াবহ বীভৎস চিত্র। তাও এটা ধৃত ক্যাসিনোর গড ফাদারদের স্বীকারোক্তির চিত্র। এই কেলেঙ্কারির গ্র্যান্ড ফাদার ও তাদের প্রশয়দাতারা ধৃত হলে আরও ব্যাপকতর ও লোমহর্ষক চিত্র বেরিয়ে আসবে। তাই ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির জের কোথায় গিয়ে ঠেকবে বলা কঠিন। অন্যদিকে, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে ক্যাম্পাসে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যার পর বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে বহু টর্চার সেল ও মাদকের আখড়ার চিত্র মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে একের পর এক। ফাহাদের হত্যাকান্ডে সমগ্র দেশবাসী শিহরিত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি নিষিদ্ধ করার এবং এ লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। ফরহাদ হত্যার ব্যাপারে জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অপরদিক, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হানাহানি, হত্যা, টর্চার সেল ও মাদকের আখড়া ইত্যাদি জাতিকে মেধাহীন করা আধিপত্যবাদীদের ষড়যন্ত্র কি-না তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের খুন ও নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা এবং অপরাধী শিক্ষার্থীরা ও তাদেরকে সহায়তাকারী শিক্ষকরা সকলেই মেধাবী। গত ১১ অক্টোবর জার্মান বেতারে প্রকাশ, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গত এক দশকে খুন হয়েছে দুই ডজন শিক্ষার্থী। আর স্বাধীনতার পর থেকে হিসাব করলে এই সংখ্যা দেড় শতাধিক। কিন্তু কোনো হত্যাকান্ডেই অপরাধীর সাজা কার্যকর হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচারই হয়নি।’ অপরদিকে, সম্প্রতি সম্পাদিত ভারতের সাথে অসম চুক্তির বিরুদ্ধে বিএনপিসহ দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে। তারা এই চুক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন এবং চুক্তিটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ ক্যাসিনোকান্ড, ফাহাদ হত্যা ও ভারতের সাথে অসম চুক্তির বিষয়টি বর্তমান রাজনীতিতে প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়ে রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ক্যাসিনোর মতো বড় রকমের জুয়া এতদিন ধরা পড়েনি কেন, দুর্নীতি বিরোধী অভিযান এতদিন পর কেন চালু করা হলো, এ অভিযান নিরপেক্ষভাবে চলবে কি-না, চললেও রাঘব বোয়ালরা ধরা পড়বে কি-না, ক্যাসিনোর মতো অন্য দুর্নীতির ক্ষেত্রে মাতামাতি হচ্ছে না কেন ইত্যাদিও ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। মিডিয়াতেও এসব সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে দেশের ক্লাবগুলোর যে ক্ষতি হয়েছে, ভাবমর্যাদা নষ্ট হয়েছে, তা থেকে অতীত গৌরবে ফিরে আসতে পারবে কি-না, পারলেও তা কতদিনে তা বলা দূরহ। অথচ এ দেশের খেলাধুলার উন্নয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থা হয় মূলত: ক্লাবগুলোর মাধ্যমেই। উল্লেখ আবশ্যক, ইন্টারনেটের মাধ্যমেও দেশে ক্যাসিনো জুয়া চলছে। ভারতীয় এক ব্যবসায়ী এই জুয়ার আসরটি নিয়ন্ত্রণ করছে। তাতে মত্ত হয়েছে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, তারা দলবেঁধে লাখ লাখ টাকার চিপস কিনছে বলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইনকিলাবে প্রকাশ। বাংলাদেশে ক্যাসিনো চালু হওয়ার আগে এ দেশের অনেকেই বিভিন্ন দেশে গিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ক্যাসিনো খেলতো। অথচ পবিত্র ইসলাম ধর্মে মদ-জুয়া নিষিদ্ধ।

যা’হোক, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির মতোই চিচিং ফাঁক হতো, যদি মাদক বিরোধী অভিযান সঠিকভাবে হতো। তাহলেই পর্দার আড়ালে থাকা মাদকের গডফাদারদের বীভৎস চেহারা উন্মোচিত হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, কোনো কিছুই নিরপেক্ষভাবে হয় না এ দেশে। যা হবার তা হয় শুধুমাত্র দুর্বলদের। সবলরা ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়! তাই সংকট দূর হয় না। একজনের স্থলে অন্য জনের আবির্ভাব ঘটে। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি উদঘাটনের আগে বালিশ, পর্দা, বই, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বেতন, বিহারীদের আবাসনের লিফট, নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ, সিমেন্টের বদলে বালু, প্রকল্প, সরকারি হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্নীতি ইত্যাদি নানা কান্ড ঘটেছে। এছাড়া, ইতিহাসখ্যাত নির্বাচন কেলেঙ্কারিও হয়েছে। এসবের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মানুষ স্তম্ভিত হয়েছে। কারণ, দুর্নীতি এ দেশে বিদ্যমান আছে বহুকাল আগে থেকেই। তবে, স্বাধীনতা উত্তরকাল থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু এক ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমি ভিক্ষা করে আনি আর চাটার দলরা তা চেটেপুটে খেয়ে ফেলে। সাড়ে সাত কোটি মানুষ আর কম্বল পেয়েছি ৮ কোটি। আমার কম্বল কই? মানুষ পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি।’ সেই অবস্থার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি দীর্ঘদিনেও। বরং চোররা দিনে দিনে মোটা তাজা হয়ে এখন ডাকাতে পরিণত হয়ে সাগর চুরি করছে। আর ছোট খাট দুর্নীতির কাহিনী বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। কারণ, দেশের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে দুর্নীতি না হচ্ছে। এক কথায় দুর্নীতির মহোৎসব চলছে দেশে। ফলে দেশের সার্বিক উন্নতির চরম ক্ষতি হচ্ছে। আর কিছু লোক রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যাচ্ছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যথার্থ। তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বলেছেন, ‘দুর্নীতি না হলে দেশের চেহারা পাল্টে যেত।’ যা’হোক, সার্বিকভাবে দেশ আজ ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। মানুষের মধ্যে চরম আশংকা দেখা দিয়েছে। স্বাধীনতা-সার্বেেভৗমত্ব রক্ষা নিয়েও শংকা সৃষ্টি হয়েছে। সুধিজনদের ভাষায়, দেশ এক চরম ক্রান্তিকাল পার করছে। অথচ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আ’লীগও যদি ক্ষমতায় আসতো, তাহলেও দেশে বিরাজিত ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হতো না। কারণ, জবাবদিহিতা থাকতো। তার প্রমাণ ১৯৯৬-২০০১ সময়ে আ’লীগের ক্ষমতাকাল। সে সময়ে দেশে এতো অরাজগতা ছিল না। কারণ, তখন প্রকৃত নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু সেই একই দলই ২০১৪ সাল থেকে ভোটারবিহীন ও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সম্পূর্ণ বদলে গেছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে দেশবাসীকে।

দেশের চলমান ভয়াবহ সংকটের জন্য প্রধানত দায়ী হচ্ছে, ‘কম গণতন্ত্র, অধিক উন্নতি।’ বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই তাদের এই ‘নব আবিষ্কৃত থিউরি’ সগর্বে প্রচার করছে এবং তা বাস্তবায়ন করছে। এতে উন্নতি কতটুকু হয়েছে আর তার ভাগীদার কারা তার জ্বলন্ত প্রমাণ ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির মধ্যে বিধৃত। অন্যদিকে, দেশের গণতন্ত্র কোমায় গিয়ে সরকারি দলের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে প্রকৃত বিরোধী দলগুলো স্বাভাবিক কর্ম করতে পারছে না। তাদের প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকান্ডেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। নেতাকর্মীরা মামলা-হামলা, গুম-খুন ইত্যাদিতে জর্জরিত। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে পড়েছে। দিনের ভোট আগের রাতেই সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে মানুষ ভোটের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তাই ভোটের দিন কেন্দ্রে কোনো ভোটার খুঁজে পাওয়া যায় না! ভোটের এসব সচিত্র প্রতিবেদন ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে দেশি-বিদেশি মিডিয়ায়। স¤প্রতি রংপুরে এরশাদের আসনে উপনির্বাচনেও ভোটার উপস্থিতি ছিল নগন্য। রাতের ভোটের কারণেই যে সে প্রতিনিধি হচ্ছে। আর এটাই দেশের সংকটের মূল কারণ। কারণ, দেশে যদি প্রকৃত গণতন্ত্র থাকতো, তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতো, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা সরকার প্রতিষ্ঠিত হতো। সে সরকারের পূর্ণ জবাবদিহিতা থাকতো মানুষের কাছে, সংসদের কাছে, বিরোধী দলের কাছে। তাতে করে সব ক্ষমতা এক ব্যক্তির কাছে কেন্দ্রীভূত হতো না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হতো। প্রত্যেককেই জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতো। কেউই দায়িত্ব এড়িয়ে চলতে পারতো না। সরকারি কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী চিহ্নিত শেয়ার কেলেঙ্কারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতো। তারা এমপি, মন্ত্রী হতে পারতো না। হাইকোর্টে প্রমাণিত ঢাকা ওয়াসার পানি দূষিত ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মশা মারার ওষুধ অকার্যকর হওয়ার বিচার হতো। খুন, ধর্ষণ, গুম, অপহরণ, মিথ্যা মামলাকারীদের কঠোর শাস্তি হতো। ভয়ে অন্যরা এসব জঘন্য অপরাধ থেকে দূরে থাকতো। তাহলে মানুষের মধ্যে চরম ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। আদালতে পেন্ডিং মামলার সংখ্যা ৩৬ লাখ হতো না। প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার যদি থাকতো, তাহলে মাদকের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়ে যুব স¤প্রদায় ধ্বংসের পথে ধাবিত হতো না। শিক্ষাঙ্গনে চরম অরাজকতা ও দানব সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার্থীদের সর্বনাশ ঘটতো না। সকলের সহঅবস্থান থাকতো। শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেত। প্রশাসন ভেঙ্গে পড়ে হযবরল সৃষ্টি হতো না। সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে জবাবদিহিতা থাকতো। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতো। ব্যাংগুলোর খেলাপি ঋণের জালে পড়ে মরণদশা সৃষ্টি হতো না। গত ২৫ সেপ্টেম্বর দ্য ইকোনমিস্ট-এ প্রকাশ, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নন পারফর্মিং লোন বৃদ্ধি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং সরকারের ঋণ নেয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।’ আইএমএফ’র সা¤প্রতিক প্রকাশিত রিপোর্ট মতে, ‘সরকারের হিসেব অনুযায়ী খেলাপি ঋণ মোট ঋণের ১১.৬৯%; বাস্তবে তা ২২ শতাংশের ওপরে।’ ঋণ খেলাপির কারণেই বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে। ফলে বেসরকারি নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা তেমন হচ্ছে না। তাই কর্মসংস্থান প্রয়োজন মতো সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে বেকারত্ব সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার যদি থাকতো, তাহলে, রাশেদ খান মেনন, এমপির ভাষায়, ‘বর্তমান সরকারের গত ১০ বছরে ৯ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে’, তা হতো না। হলেও সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তি হতো। পাচারকৃত সব টাকা ফেরত আনা হতো। দেশে আয় বৈষম্য সর্বোচ্চ হতো না। গত দশ বছরে ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা প্রায় ৫৭ হাজার হতো না। বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি লাঞ্চিত হতো না। ‘বাংলাদেশ সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ মতে, কোনো সরকারি কর্মচারীকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার করতে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে’ বিধান হতো না। কারণ, এ বিধানের কারণে দেশের দুর্নীতি হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা কম। উপরন্তু সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দলদাস হওয়ার প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। প্রকৃত নির্বাচিত সরকার যদি থাকতো, তাহলে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা চুরির বিচার হতো তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ীই। খাস জমি, বনভূমি, নদী ইত্যাদির লাখ লাখ একর সরকারি জমি দখল হতো না। দখল হলেও তা উদ্ধার ও দখলকারীদের কঠোর শাস্তি হতো। প্রকৃত নির্বাচিত সরকার যদি থাকতো, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সরকার নির্ধারিত ধান চাল ক্রয় করা হতো। ধানের ন্যায্যমূল্যের অভাবে কৃষকরা সর্বস্বান্ত হতো না। চাল আমদানির প্রয়োজন না থাকলেও বিপুল পরিমাণে চাল আমদানি করে দেশের ক্ষতি হতো না। যানজট, রাস্তায় অবৈধ যানবাহন, চালক, দোকান, স্থাপনা এবং নকসা বহির্ভূত বিল্ডিং থাকতে পারতো না। অর্থ কেলেংকারির দায়ে বহিষ্কৃত ছাত্র নেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা হতো। দীর্ঘদিন যাবত বিরোধী মতের টিভি চ্যানেলগুলো বন্ধ রেখে শুধুমাত্র সরকার সমর্থকদের টিভি থাকতো না। বিরোধী মতের চালু পত্রিকাগুলো বিজ্ঞাপন খরায় ভুগতো না। দেশে ১০ লাখ অবৈধ বিদেশি শ্রমিক কাজ করে বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে, তা হতো না। সরকারি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত না হয়ে পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতো। দেশের পরিবেশ ধ্বংস হতো না। নকল, ভেজাল ও দূষণের রাজত্ব চলছে, পণ্য মূল্য আকাশচুম্বী হয়েছে, তা হতো না।

দেশের এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র উপায় সুশাসন, যা নিশ্চিত করতে পারে প্রকৃত নির্বাচিত সরকার। দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র তখনই টেকসই হয়, যখন দেশের সব রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলোতে প্রকৃত গণতন্ত্র থাকে। তাই প্রতিটি সংগঠনের প্রতিটি স্তরের কমিটি গঠন গোপন ভোটের মাধ্যমে করা, নির্দিষ্ট মেয়াদ অন্তরই নতুন কমিটি গঠন, দলের সদস্য প্রাপ্তির কমপক্ষে ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়া ইত্যাদি আইন করে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা দরকার। সেই সাথে অগণতান্ত্রিক সব আইন বাতিল এবং সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ভারতের ন্যায় পূর্ণ স্বাধীন ও স্বনির্ভর করা প্রয়োজন। এছাড়া, এমপিদের উন্নয়নমূলক কর্ম থেকে বিরত রেখে শুধুমাত্র আইন প্রণয়নের রাখা এবং উন্নয়ন কাজ স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে ন্যাস্ত করার বিধান করে বাস্তবায়ন করা দরকার। নিজস্ব রাজনীতি রেখে ছাত্র, শ্রমিক ও পেশাজীবীদের রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি নিষিদ্ধ করে আইন জারী করা আবশ্যক। তাহলে দেশের বিরাট সংকট দূর হবে। দেশের প্রধান শত্রু জঙ্গী, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে নির্মূল করা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে কাল বিলম্ব না করে অতি নিরপেক্ষভাবে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিচার করা প্রয়োজন। স্মরণীয় যে, স¤প্রতি নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোয়ার সাথে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘এখানে আমার দলের কে, কী সেটা আমি দেখতে চাই না, আমার আত্মীয়-পরিবার আমি দেখতে চাই না, বিত্তশালী কেউ আছে কি না এটা আমি দেখতে চাই না। যেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতি সেখানে অভিযান চলবে।’ তাই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে আর কোনো সংশয় ও দ্ব›দ্ব নেই। সব ক্ষেত্রেই শুদ্ধি অভিযান চালানো এবং তা স্থায়ী করা আবশ্যক।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ