Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার , ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার মিয়ানমার সেনাবাহিনী, আরাকান আর্মির দাবি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যের পোন্নাগিউন টাউনশিপে অং মা কিয়াও গ্রামের কাছে পাহাড়ি এলাকায় আরাকান আর্মির (এএ) উপর বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে হেলিকপ্টার দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ওই এলাকার স্থানীয় অধিবাসীরা এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার সকালে অং মা কিয়াউ গ্রামের কাছে মাউন্ট ইয়াউং ইনে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ বাঁধে। অং মা কিয়াউ গ্রামের কাছাকাছি মাইত লে গ্রামের বাসিন্দা উ লা মাউং বলেছেন, “গতকাল থেকেই লড়াই চলছে”। তিনি ইরাবতীকে বলেন, “পাহাড়ের উপর দিয়ে আমি হেলিকপ্টার উড়তে দেখেছি। আমি দেখেছি বুথিনদাউং থেকে দুটো হেলিকপ্টার এসে দুইবার ওখানে হামলা করেছে। আমি গুলির শব্দ শুনেছি। মনে হচ্ছি, পুরো দুনিয়া যেন ভেঙ্গে পড়ছে”। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ৫৩৯ নং লাইন ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন এবং ৩৭৭ নং আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন সরকারী বাহিনীকে আর্টিলারি সহায়তা দিয়েছে। এই দুটো ব্যাটালিয়নের ঘাঁটি হলো কান সাউক গ্রামে। কান সাউক গ্রামের কো ফিউ লোন দ্য ইরাবতীকে বলেন, “গতকাল থেকেই আমাদের গ্রামের কাছে শেল নিক্ষেপ করছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এই শব্দে কান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আজ, আমাদের গ্রামের লোকেরা বাইরে কাজে যাওয়ার সাহস করেনি”। আরাকান আর্মির তথ্য বিভাগ বলেছে, বুধবার সকাল ৮টার দিকে পোন্নাগিউন টাউনশিপের অং মা কিয়াউ গ্রামের ২ কিলোমিটার উত্তরে সামরিক বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওয়েস্টার্ন কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল উইন জাউ উ পোন্নাগিউনে সংঘর্ষের সত্যতা স্বীকার করেছেন কিন্তু তিনি জানিয়েছেন যে, হেলিকপ্টার হামলার বিষয়ে তিনি অবগত নন। আরাকান আর্মি এক বিবৃতিতে বলেছে যে, ছয় দিনের লড়াইয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীতে ৪০ জনের বেশি হতাহত হয়েছে। ১১-১৬ অক্টোবর বুথিদাউং, পোন্নাগিউন, কিয়াউকতাও, ম্রাউক-উ এবং মিনবিয়া টাউনশিপে এইসব সংঘর্ষ হয়েছে। জাতিগত সশস্ত্র গ্রæপটি বলেছে, সংঘর্ষে তাদের হাতেগোনা কিছু সেনা হতাহত হয়েছে। কর্নেল উইন জাউ উ আরাকান আর্মির দাবি অস্বীকার করে বলেছেন যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ব্যাপারে তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। উত্তর রাখাইনে সংঘর্ষের কারণে স্থানীয় অধিবাসীদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এবং এই সব মানুষের নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার দায়িত্ব নিয়ে ব্যার্থ হওয়ার কারণে সরকারের উপরও চাপ বাড়ছে। এসএএম।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ