Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার , ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

অন্যদের চোখে আমাদের নবী সা.

মাওলানা মুহাম্মাদ আবু আব্দুল্লাহ | প্রকাশের সময় : ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

আমরা শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সা. এর উম্মত। তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সকলের জন্য নবী। তার শুভাগমনের মাধ্যমেই সুসমাপ্ত হয়েছে নবী-আগমনের ধারা। তিনি ‘খাতামুন্নাবিয়ীন’ ও ‘রহমাতুল্লিল আলামীন’। তার সুমহান আদর্শে ও অতুলনীয় চরিত্র-সুষমায় জগৎবাসী মুগ্ধ ও অভিভূত হয়েছে। তিনি ছিলেন আল্লাহ তাআলার বান্দা ও রাসূল, মানবতার পূর্ণ বিকশিত রূপ। তাই গোটা মানবজাতির জন্য তিনি আদর্শ। আপনজনেরা তার প্রতি ঈমান এনে জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। আর অন্যেরা তার মানবীয় গুণাবলিতে মুগ্ধ হয়ে মুক্ত কণ্ঠে প্রশংসা করেছেন। এই সংক্ষিপ্ত লেখায় তাদেরই কিছু অনুভূতি তুলে ধরছি।

ভারতের বিখ্যাত লেখক গুরুদত্ত সিং নবীজীর প্রতি তার গভীর ভালবাসা জানিয়েছেন এভাবে-‘সত্যের আলো ছড়াতে, পুণ্যের পথ দেখাতে এক মহামানবের আবির্ভাব হল। তার শুভদর্শনে দৃষ্টি যাদের প্রেমমুগ্ধ হল এবং হৃদয় যাদের ভালবাসায় স্নিগ্ধ হল জনম তাদের সার্থক হল। এ পরশমণির পরশ-সৌভাগ্য যারা লাভ করল খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি তারা হল। এ স্বর্গ-পুষ্পের সান্নিধ্য-সৌরভ যারা পেল বিশ্ববাগানে তারা গোলাপের খোশবু ছড়াল।’
এডওয়ার্ড গীবন ছিলেন বড় ঐতিহাসিক। তিনি লিখেছেন, ‘মুহাম্মাদ এত ভালো ছিলেন যে, যারা তার কাছে আশ্রয় নিত, তিনি তাদের রক্ষা করতেন। তার মুখের কথা ছিল মধুর মতো। যারা তাঁকে দেখেছে তারা ভক্তি করেছে এবং যারা তার কাছে গিয়েছে তারা তাঁকে ভালবেসেছে। ... এত বড় হয়েও তিনি নিজের কাজ নিজে করতেন। ঘর ঝাড়ু দিতেন এবং নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করতেন।’

ফিলিপ কে হিট্টি ছিলেন বড় জ্ঞানী। তিনি বলেন, ‘উত্তম চরিত্র ও সুন্দর ব্যবহার দ্বারা তিনি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। সব সময় তিনি ন্যায়ের পথে চলেছেন। কখনো কোনো অন্যায় করেননি এবং ওয়াদা ভঙ্গ করেননি। যারা তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল, যারা তাঁকে দেশছাড়া করেছিল তাদেরও তিনি ক্ষমা করেছেন। মক্কাবিজয়ের সময় কোনো প্রতিশোধ নেননি।’
ল্যামার্টিন ছিলেন ফরাসী। সে দেশের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী তিনি। তিনি বলেছিলেন, ‘মুহাম্মাদের চেয়ে উত্তম মানুষ পৃথিবীতে আর কে আছে? তিনি যেমন ছিলেন নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী তেমনি ছিলেন সাহসী, সৎ ও সত্যবাদী। যেমন ছিলেন দয়ালু ও দানশীল তেমনি ছিলেন ধৈর্য্যশীল ও ক্ষমাশীল। মানবজাতির ইতিহাসে তার তুলনা কোথাও খুঁজে পাবে না তুমি।’

ডক্টর গুস্তাভ উইল ছিলেন একজন বিখ্যাত পন্ডিত ব্যক্তি। জার্মানীর নাগরিক। তিনি বলেছেন, ‘মুহাম্মাদের চরিত্র ছিল পবিত্র। সকল অঞ্চল থেকে তার কাছে বিপুল সম্পদ আসত, কিন্তু তিনি নিজের জন্য কিছুই রাখতেন না। মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। তার বাসস্থান, পোশাক ও পানাহার ছিল খুব সাধারণ। তিনি অসুস্থদের দেখতে যেতেন এবং নিজ হাতে তাদের সেবা করতেন। অসহায়-দরিদ্র, বিধবা ও এতীমদের জন্য তিনি ছিলেন পিতার মতো স্নেহশীল।’

জর্জ বার্নার্ড শ ইউরোপের সুপ্রসিদ্ধ দার্শনিক ও সাহিত্যিক। ইতিহাস জোড়া খ্যাতি তার। তিনি লিখেছেন, ‘মুহাম্মাদের ধর্মকে আমি সবসময় শ্রদ্ধা করেছি। মুহাম্মাদ-জীবনী আমি গভীর মনোযোগের সঙ্গে পড়েছি। আমার বিশ্বাস, তিনি ছিলেন মানবজাতির ত্রাণকর্তা। পৃথিবীতে আজ এত যে সমস্যা, এত যে অশান্তি, আমি মনে করি, তার মতো ব্যক্তি সারাবিশ্বের শাসনভার গ্রহণ করলে সব সমস্যার সমাধান হত এবং পৃথিবীতে সুখ-শান্তি ফিরে আসত।’

ডক্টর মার্কোস উড। নামকরা একজন জ্ঞানী লোক। তিনি বলেছেন, ‘ন্যায় ও সত্যের প্রতিষ্ঠার জন্য মুহাম্মাদ যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে, এমনকি জীবন বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত ছিলেন। তাঁকে বড় বড় প্রলোভন দেওয়া হয়েছে, কঠিন কঠিন নির্যাতন চালানো হয়েছে, আপনজনেরা তাঁকে দেশছাড়া করেছে, কিন্তু তিনি মাথা নত করেননি, লোভ ও প্রলোভন তাঁকে সত্যের পথ থেকে সরাতে পারেনি এবং নির্যাতন ও নিপীড়ন তার কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারেনি।
অন্যদের চোখেই যে নবী এত মহান। আমরা সেই নবীর উম্মত হতে পেরে আল্লাহর কাছে হাজারো লাখো কোটি শোকরিয়া জানানো ছাড়া আর কি-ই বা করার আছে আমাদের। সেই নবীর প্রতি দুরুদ পড়তে আমাদের কৃপণতা কি ক্ষমার যোগ্য হবে? তাই আসুন বেশি বেশি নবী করিম সা. এর ওপর দুরুদ পড়ি।



 

Show all comments
  • Saif ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
    ধন্য আমি হে নবী (সা) তোমার উন্মত হতে পেরে. তাই সালাম তোমার তরে সারা জীবন ভরে. যত দিন চলবে খোদার খোদাই সালাম আমার তোমার উপর চলবে তত দিনই.
    Total Reply(0) Reply
  • মোহাম্মদ কাজী নুর আলম ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
    ইউরোপ তথা বিশ্বের অন্যান্য সব মহাদেশের বহু খ্যাতনামা অমুসলিম পন্ডিত-গবেষক শেষ নবী (সা:)-এর জীবনীমূলক অনেক গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। খ্রিস্টান ধর্মের ব্যক্তিরা বিশেষ করে ইংরেজি ভাষাভাষি সাহিত্যিকরাও অধিকহারে মহানবী (সা:) এর জীবনী গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। তারা রাসুল (সা:) এর সুমহান আদর্শ, মহত্ব, মানবতার তথা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্ন দিক বিশেষভাবে শ্রদ্ধাভরে বর্ণনা করেছেন।
    Total Reply(0) Reply
  • মশিউর ইসলাম ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
    অমুসলিম লেখকদের মধ্যে গদ্য আর পদ্য ব্যতীত সে সকল লেখক শেষনবী (সা:) এর জীবনী তথা গবেষণাধর্মী রচনা এমনকি কাব্য রচনা করেছেন। তারাও আধুনিক বিশ্বের দরবারে মহানবীকে আদর্শ মানব, মহান বিপ্লবী, ধর্মীয় রাজনৈতিক নেতা, শ্রেষ্ঠ মানব এবং মহামানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
    Total Reply(0) Reply
  • নাঈম বি এস এল ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ২:০২ এএম says : 0
    তাদের মধ্যে ফরাসী লেখক আলফ্রেড দ্য ল্যামারটাইন, বীরযোদ্ধা নেপোলিয়ন বোনাপার্টি, ইংরেজি পাদ্রী বচওয়ারাথ স্মিথ, স্ট্রিফেন, পন্ডিত টয়েনবী, ঐতিহাসিক গিবন, থমাস, কার্লাইল, আলবার্ট জনসন প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
    Total Reply(0) Reply
  • কাউচার আলী ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ২:০২ এএম says : 0
    ভারতীয় পন্ডিতদের মধ্যেও জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীজী, স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জহরলাল নেহরু, স্যার পিসি রাম, স্বামী আহিয়ার, স্বামী বিবেকানন্দ, সবোজনী নাইডু, এনি এ বেচান্ত, বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, সুশান্ত ভট্টচার্য, এম এন রায়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বি এন পান্ডে, স্বামী লক্ষী শংকরাচার্য নবীজির প্রশংষা করেছেন।
    Total Reply(0) Reply
  • রাহিদুল েইসলাম ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ২:০৩ এএম says : 0
    এডওয়ার্ড গিবনঃ মোহাম্মদের ধর্মমত স্বার্থকতার সন্দেহ থেকে মুক্ত আর কুরআন আল্লাহর অদ্বিতীয়ত্বের গৌরবময় সাক্ষ্য। মানবজাতির বিশ্বাসের উপর বিধি-সংগত আধিপত্য বিস্তার করা শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা অনুপ্রাণিত কোন নবীর পক্ষেই সম্ভব।
    Total Reply(0) Reply
  • সফিউল করিম ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ২:০৪ এএম says : 0
    জন অস্টিনঃ এক বছরের কিছু বেশি সময় হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) মদীনায় শাসনকার্য পরিচালনা করেছিলেন, যা সমগ্র পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছিলো মহা আলোড়ন।
    Total Reply(0) Reply
  • শফিউর রহমান ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১০:৪১ এএম says : 0
    প্রিয় নবীজির তুলনা নবীজি নিজে । এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা । আমাদের ভাবতে হবে আল্লাহ তাহাকে সৃষ্টি না করলে .... ।
    Total Reply(0) Reply
  • Abdur Rauf ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১১:০৯ এএম says : 0
    We are satisfied and happy to be a follower of an excellent unique person in the world.
    Total Reply(0) Reply
  • jack ali ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ৮:০৪ পিএম says : 0
    Non-Muslims have great respect of our Beloved Prophet [SAW] but we muslim claimed that we are the follower of Prophet [SAW] but actually we do not follow our Prophet many so called muslim countries around the world and as such Christian/Buddhist/Hindu/Jews are killing/raping us.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

৯ নভেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ