Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

জোট সরকারের পাশে থাকার অঙ্গীকার হিজবুল্লাহর

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ২:১৪ পিএম

লেবাননে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভের মুখে লেবাননের জোট সরকারে ফাটল দেখা দিলেও সরকারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ। লেবাননে তার ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী সশস্ত্র দলটির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। দেশটির বর্তমান জোট সরকারের অংশীদার হিজবুল্লাহ নেতা বলেন, তার দল সরকারের পদত্যাগের বিরুদ্ধে। শনিবার এক সমাবেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তার ওই ভাষণ দলীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।
তীব্র অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সময় দেওয়ার ওপরও জোর দেন হিজবুল্লাহ নেতা। গণবিক্ষোভ সম্পর্কে তিনি বলেন, কাউক জ্বালাও-পোড়াও এবং গোলযোগ তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, তার দল দেশের বিভিন্ন সংকট সমাধানে কঠোর পরিশ্রমের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে কাউকে দেশ জ্বালিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, দেশের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সংকট সরকারের পদত্যাগে সমাধান হবে না। একই রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর লোকজন মিলে নতুন সরকার গঠন করবেন। ফলে তখনও দেশ একই সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে।
সরকারের পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, এতে শুধু সময় নষ্ট হবে এবং নতুন সরকার গঠনে এক থেকে দুই বছর সময় লেগে যাবে। তারাই সরকারের পদত্যাগ দাবি করছে; যারা লেবাননের সংকট সমাধান না করে বরং দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চায়।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সম্পর্কে তিনি বলেন, লোকজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। এখানে বিদেশি কোনও হস্তক্ষেপ বা প্রভাব ছিল না। তবে বিক্ষোভের সুযোগ যাতে কোনও রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
এদিকে অব্যাহত গণবিক্ষোভের মুখে জোট সরকারের মন্ত্রিসভা ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি-র দীর্ঘদিনের মিত্র খ্রিস্টান ডানপন্থী দল লেবানিজ ফোর্সেস পার্টি। হোয়াটসঅ্যাপ এবং একই ধরনের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপসগুলোতে কর আরোপ প্রস্তাবের প্রতিবাদে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভের তৃতীয় দিনে শনিবার নিজেদের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায় দলটি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন লেবানিজ ফোর্সেস পার্টি-র চার মন্ত্রী।
২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর এ বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা এ ধরনের কর আরোপের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং জীবনমানের অবনতির জন্য প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি-র সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আওয়াজ তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতর এবং পার্লামেন্ট ভবন সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। এ সময় তারা সরকারবিরোধী নানা ¯েøাগান দেয়। শুধু প্রধানমন্ত্রীর দফতরই নয়; তার আবাসিক ভবনের বাইরেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক বছরেরও কম সময় আগে ক্ষমতায় আসা হারিরি-র জোট সরকারের জন্য এ বিক্ষোভকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লেবানিজ ফোর্সেস পার্টি-র নেতা সামির গাগিয়া বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছে না। দলটির পদত্যাগী মন্ত্রীদের একজন ক্যামিল আবসলেইমান আল জাজিরা-কে বলেন, সংকট উত্তরণে সরকারের সক্ষমতার ওপর আস্থা হারানোর পরই তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গণবিক্ষোভের তীব্রতায় ইতোমধ্যেই কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া তাদের দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। উভয় দেশই জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত দূতাবাস বন্ধ থাকবে। এছাড়া, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপ এবং একই ধরনের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপসগুলোতে কর আরোপ প্রস্তাবের প্রতিবাদে এ গণবিক্ষোভ শুরু হলেও এখন তা আর আগের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। লেবাননের পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। বেকারত্বের শিকার মোহাম্মদ আওয়াদা নামের ৩২ বছরের এক ব্যক্তি বলেন, পুরো দেশ পতনের দিকে এগিয়ে চলেছে। সরকার লেবাননের নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা, পার্স টুডে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ