Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৯ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

নুসরাত হত্যায় ১৬ জনের ফাঁসির রায় : নেটিজেনদের সন্তোষ প্রকাশ

শাহেদ নুর | প্রকাশের সময় : ২৪ অক্টোবর, ২০১৯, ৬:২৫ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ ১৬ আসামিরই মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের বাবা এ কে এম মুসা, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এই রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নেটিজেনরা। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই রায় কার্যকর করার দাবি জানান তারা।

শাহরিয়ার অনিক সোহেল তার ফেইসবুকে লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। শুধু মৃত্যুদণ্ড দিয়েই ক্ষান্ত হওয়া যাবে না, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই রায় কার্যকর করতে হবে এবং জনগণের কাছে তা প্রকাশ করতে হবে। তাহলে আইনের প্রতি এবং দেশের রাষ্ট্রীয় সম্মান আরও বেড়ে যাবে।’

‘নুসরাত হত্যার রায়ে ১৬ আসামীর ফাঁসির আদেশ হলেও ওসি মোয়াজ্জেমের নাম মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত ১৬ আসামীর তালিকায় না থাকায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। নুসরাত হত্যার সাথে জড়িত ওসি মোয়াজ্জেম। ওসি মোয়াজ্জেমের ফাঁসি রায় কেন প্রদান করা হবে না? ওসি মোয়াজ্জেমের অবহেলার কারণে মেয়েটিকে হত্যা করার সুযোগ পেয়েছে। নুসরাত জাহান হত্যা মামলার সাথে ওসি মোয়াজ্জেমকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিৎ ছিলো।’ - ফিরোজ কবির শান্তর মন্তব্য।

আবদুল মতিন লিখেন, ‘রায় দ্রুত কার্যকর হোক, ন্যায়বিচার ফুটে উঠুক। এভাবেই অন্যায়কারীদের নির্মুল করা হোক।’

‘আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা ও আইনের প্রতি বিশ্বাস ফিরে পেতে এই রায় দ্রুততম সময়ে কার্যকরি দেখতে চাই।’ - লিখেন শাহ নেওয়াজ খান।

নাজমুল হাসান লিখেন, ‘এভাবে একে একে দফায় দফায় সকল অপরাধীদের ফাঁসির দাবি চাই- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমাদের ১৮ কোটি মানুষের এই আকুল আবেদন রইলো।’

এদিকে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় কোনো রকম পারিশ্রমিক ছাড়াই আইনি সহায়তা দিয়েছেন অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ, অ্যাডভোকেট আকরামুজ্জামান ও অ্যাডভোকেট শাহজাহান সাজুসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রিন্স মাহমুদ লিখেন, ‘দক্ষতার সহিত মামলা পরিচালনার মাধ্যমে নুসরাত হত্যার সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করায় সফল আইনজীবীদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন। বাদী পক্ষ থেকে কোন প্রকার ফি না নিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দেয়ার জন্য আপনাদের প্রতি রইলো দোয়া ও ভালোবাসা।’

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ওই মাদ্রাসার কেন্দ্রে যায় নুসরাত জাহান রাফি। এ সময় বোরকা পরিহিত কয়েকজন তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। রাজি না হলে রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় তারা। এতে রাফির পুরো শরীর দগ্ধ হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সোশাল মিডিয়া


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ