Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

নারায়ণগঞ্জে হাজীগঞ্জ কেল্লার চারপাশে সমন্বিত উচ্ছেদ

নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ অক্টোবর, ২০১৯, ৬:৪৫ পিএম

নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ এলাকায় স্থাপিত ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ কেল্লার (দুর্গ) চারপাশে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে বিশালাকৃতির ১২টি গোডাউন ৩টি ভেকুর সাহায্যে দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া উচ্ছেদ করা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো রকি প্রিন্ট-১ ও ২, রাসেল ওয়াশিং-১ ও ২, আনোয়ার এন্ড ব্রাদার্স, নিলিমা কটন, ব্রাইট প্যাকেজিং, সোনালি, বিসমিল্লাহ ও আশরাফ প্যাকেজিংসহ আরো বেশ কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা।
অভিযানে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর আগারগাঁও আঞ্চলিক কার্যালয়ে পরিচালক রাখী রায়, উপ-পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান বিন মুহাম্মাদ আলী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আবুল হোসেন, বাজার কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান বিন মুহাম্মাদ আলী বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এই অভিযানটি প্রতœতত্ব বিভাগ, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশনসহ আরো বেশ কয়েকটি দফতরের সমন্বয়ে চালানো হয়েছে। আমাদের দায়িত্ব ছিলো শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে সেটি দেখভাল করার।
প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর আগারগাঁও আঞ্চলিক কার্যালয়ে পরিচালক রাখী রায় বলেন, হাজীগঞ্জ দুর্গটি প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের আওতাধীন। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এখানে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আমরা এসেছি অভিযানে যাতে প্রতœতত্ত্ব সম্পদের কোন ক্ষতি না হয় তার দেখভাল করতে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ন পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, আমরা শুধু অভিযানে সহযোগিতা করছি।
এদিকে উচ্ছেদ হওয়া আনোয়ার এন্ড ব্রাদার্সের স্বত্তাধিকারী নুরুল ইসলাম চৌধুরীর দাবি এই উচ্ছেদ সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না। তার দাবি, এখানে মোট ৭৮২ শতাংশ জমি নিয়ে হাইকোর্টে রীট আবেদন করা রয়েছে। আমরা গোডাউন মালিকরা এই সম্পত্তি বাংলাদেশ জুট করপোরেশন (বিজেসি) থেকে ক্রয় করে নিয়েছি। মালিকানা সংক্রান্ত মামলাটি হাইকোর্টে রয়েছে। আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) হঠাৎ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা এসে ১২টি গোডাউনে উচ্ছেদ চালিয়েছেন।
এদিকে হাজীগঞ্জ দুর্গের চারপাশে সমন্বিত অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা জানান, রাত নামলেই এই এলাকাটিতে অপরাধী আর মাদকাসক্তদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। নানা সময় অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। হাজীগঞ্জ দুর্গের মতো ঐতিহাসিক জায়গাটি এতোদিন অবহেলায় পড়ে ছিলো। মানুষজন ঘুরতে যেতেও সাহস পেতনা। জায়গাটি যদি পরিচ্ছন্ন করে সুন্দর করে গড়ে তোলা যায় তাহলে নারায়ণগঞ্জ শহরের এটি দেখার মতো একটি স্থান হতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশেই নদীর তীরে এ ধরণের বহু কেল্লা বা দুর্গ রয়েছে। এটি সংরক্ষণের যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে মানুষ ঐতিহাসিক এ জায়গাটি দেখতে আসবেন। এলাকার পরিবেশটিও অনেক সুন্দর হবে।
নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন ১১নম্বর ওয়ার্ডের হাজীগঞ্জ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে এটি অবস্থিত। এটি খিজিরপুর দুর্গ নামেও পরিচিত। ঢাকা শহরকে রক্ষা করতে সপ্তদশ শতকের আগে ও পরে যে তিনটি জল দুর্গকে নিয়ে ত্রিভূজ জল দুর্গ বা ট্রায়াঙ্গাল অব ওয়াটার ফোর্ট গড়ে তোলা হয়েছিল তারই একটি হলো এই হাজীগঞ্জ দুর্গ। মুঘল সুবাদার ইসলাম খান কর্তৃক ঢাকায় মুঘল রাজধানী স্থাপনের অব্যবহিত পরে নদীপথে মগ ও পর্তুগীজ জলদস্যুদের আক্রমণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে দুর্গটি নির্মিত নির্মিত হয়।
বন্দরে শীতলক্ষ্যার তীর থেকে ৫টি ডকইয়ার্ড উচ্ছেদ
এদিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর থেকে অবৈধ ভাবে স্থাপিত ৫টি ডকইয়ার্ড উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বে দেন বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার। তার সঙ্গে ছিলেন বন্দর উপজেলার এসি ল্যান্ড আফিসা খান।
বন্দর উপজেলার এসিল্যান্ড আফিফা খান বলেন, সরকারি জমিতে এসব ডক ইয়ার্ড গুলো অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল। তাই ৫টি ডকইয়ার্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকি আরও ৭টি ডক ইয়ার্ডের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। যাতে এসব প্রতিষ্ঠানের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যায়।
উচ্ছেদ করা ডক ইয়ার্ড গুলো হলো, খান ডকইয়ার্ড, শেফা ডক ইয়ার্ড, সাউদ ডক ইয়ার্ড, ইব্রাহিম ডকইয়ার্ড এবং আবুল হোসেন ডক ইয়ার্ড।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: উচ্ছেদ অভিযান


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ