Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার , ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতিগত অত্যাচার চালিয়েই যাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ অক্টোবর, ২০১৯, ৩:২৫ পিএম

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নৃশংসতা চালিয়েই যাচ্ছে। এ নৃশংসতা বন্ধ করার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।
সম্প্রতি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক নতুন প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির বিভিন্ন স্থানে দ্ব›দ্ব-সংঘাতের ভিত্তিতে জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নতুন করে অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক নির্বিচারে গ্রেফতার, আটক ও নির্যাতনের শিকার হওয়া জাতিগত কাচিন, লিসু, শান, তা'আং ও রোহিঙ্গা মুসলিমের কথা বলা হয়েছে।
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক নিকোলাস বেকুয়েলিন বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী অপরাধ প্রবণতা থেকেই বেসামরিক লোকদের ওপর আগের মতো নিষ্ঠুর ও নির্মম অত্যাচার করছে। যা যুদ্ধাপরাধের শামিল। দেশটিতে জবাবদিহিতা না থাকায় সেনাবাহিনীকে সামরিক বাহিনীর নির্মমতার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।
রাখাইনে মুসলিম রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের আবাস ছাড়াও মূলত বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান কাচিন ও শান রাজ্যেও কয়েক দশক ধরে অভ্যন্তরীণ বিরোধ লেগে রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বুধবার (২৩ অক্টোবর) বাকুতে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম) সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের ভূমিকার বিষয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। রোহিঙ্গা সংকটের দোষীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও মিয়ানমার এ পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়নি বলে জানান তিনি।
এর একদিন আগেই ২২ অক্টোবর মিয়ানমার সরকার বলেছে, ২৯ জন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফিরে গেছে। তারও আগে ঢাকাস্থ মিয়ানমার দূতাবাস জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৩৫১ জন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ফিরে গেছে।
একদিকে মিয়ানমার বলছে, রোহিঙ্গা মুসলিমরা নিজ দেশে ফিরে আসছে, অন্যদিকে সেনাবাহিনী তাদের আটক করে পুলিশে দিচ্ছে।
রাখাইন রাজ্য থেকে ইয়াঙ্গুন শহরে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সেপ্টেম্বরে ৩০ জন রোহিঙ্গা পুরুষ, নারী ও শিশুকে আটক করা হয়।
মিয়ানমারের নাগরিক রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীনে মোট ২১ রোহিঙ্গাকে দুই বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বলা হয়েছে যে নাগরিকদের তাদের পরিচয় প্রমাণের জন্য অবশ্যই ‘রেজিস্ট্রেশন কার্ড’ রাখতে হবে। এ আইনটি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে, যারা এ দেশের নাগরিকত্ব বঞ্চিত এবং সরকারিভাবে রাষ্ট্রহীন। এ দলে থাকা নয় শিশুকে কিশোর আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।
যেসব রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ফিরে গেছে বলে মিয়ানমার দাবি করেছে, তারা নিজ বসতিতে ফিরে গেছে নাকি বন্দিশিবিরে রয়েছে, তা জানা যায়নি।
এদিকে কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মিসহ (কেআইএ) কাচিন বিদ্রোহীরা ১৯৬২ সাল থেকে আরো বেশি স্বায়ত্তশাসনের জন্য মিয়ানমার সৈন্যদের সঙ্গে লড়াই করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে ২০১৯ সালের মার্চের একটি ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। ঘটনাটি হলো-শান রাজ্যের কুটকাই টাউনশিপে মাছ শিকার করে আসা দুই কাচিন গ্রামবাসীকে সেনারা আটক ও নির্যাতন করেছিল। তাদের একজনের বয়ান,

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ