Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২১ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগে তুমুল বিতর্ক

প্রকাশের সময় : ১৯ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : একের পর এক ভিন্ন মতাবলম্বী, মসজিদের ঈমাম-মুয়াজ্জিন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিদেশি নাগরিক, শিক্ষক, ব্লগার, প্রকাশক, মুক্তমনা হত্যা নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। তেমনি আইন-শৃংখলা রক্ষার নামে ক্রসফায়ার ও বন্দকযুদ্ধে ১২ দিনে ২০ জন নিহতের ঘটনায় তুমুল বিতর্ক উঠেছে।
সর্বশেষ মাদারীপুরে শিক্ষক হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি ফাইজুল্লাহ ফাহিম রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে তীব্র তর্ক-বিতর্ক ও মতামত প্রকাশ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ব্লগে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের খবরে নানা মতামত প্রকাশ করছেন। শুধু তাই নয় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের অনলাইনে খবর প্রকাশের পর হাজার হাজার পাঠক এ নিয়ে মতামত দিয়েছেন। অধিকাংশ পাঠক ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাজানো নাটক হিসেবে অবিহিত করেছেন। কেউ কেউ পুলিশকে পরামর্শ দিয়েছেন আসামিকে সঙ্গে নিয়ে অন্য তল্লাশিতে বের হলে ক্যামেরা সঙ্গে নেবেন। প্রকৃত ঘটনা ক্যামেরায় ধারণ করে মানুষকে জানাবেন। তবেই মানুষ বিশ্বাস করবে। কেউ বলেছেন, জনগণ জীবন বাজি রেখে জঙ্গি ধরে দিল আর বন্দুকযুদ্ধে তাতে হত্যা করা হলো। এখন পুলিশ হয়তো নতুন নতুন ফাহিম তৈরি করবে। আরেকজন লিখেছেন, ফাহিমকে কি বলির পাঁঠা বানানো হলো? কেউ লিখেছেন, অভিযান চলার সময় আসামিকে নিরাপত্তা দেয়া দায়িত্ব কার? কেউ লিখেছেন কাঁচা বয়সের ধার্মিক কিছু পোলাপানকে টার্গেট করেই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এর পেছনে নিঃসন্দেহে বিদেশি গোয়েন্দারা জড়িত। আসলে ফাহিম পুলিশের লোক ছিল। ব্যাচারা বেঘোরে মারা পড়ল। এ ধরনের হাজারও মন্তব্য করেছেন মানুষ।
আওয়ামী লীগের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হিসেবে পরিচিত মানবাধিকার কর্মী এ্যাডভোটেক সুলতানা কামাল স্পষ্ট করে বলেছেন, রাষ্ট্র কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। সুশাসনের অভাবে একপর্যায়ে সমাজে হতাশা তৈরি হয় উল্লেখ করে সুলতানা কামাল আরও বলেন, হতাশা থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, রাষ্ট্র নিজের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে। কোনো কিছুর তোয়াক্কা করছে না। কোনো সমস্যা সমাধান করতে গেলে ছোট-খাটো পথ খুঁজছে। শাহবাগী হিসেবে পরিচিত গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের মুখপত্র ইমরান এইচ সরকার প্রশ্ন তুলেছেন সরকার কাদের বাঁচাতে বা আড়াল করতে বন্দুকযুদ্ধ নাটক সাজাচ্ছে? মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার ফেসবুকে লেখেন, একদিকে সরকার নিজ দলীয় সিরিয়াল খুনিদের ফাঁসিসহ সকল সাজা মওকুফ করে দিয়ে জেল থেকে মুক্ত করছে, অন্যদিকে জনতার হাতে ধরা পড়া টার্গেট কিলারদের খুন করে সব প্রমাণ আড়াল করছে! তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? এর নাম কি ন্যায়বিচার? এটাই কি ৩০ লাখ মানুষের রক্তে অর্জিত আমার মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। বন্দুকযুদ্ধে ফাইজুল্লাহ ফাহিমের নিহতের খবর শোনার পর চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী ফেসবুকে লেখেন, ‘বন্দুক, তুমি যুদ্ধ বোঝো, তদন্ত বোঝো না?’ তিনি লেখেন, যেখানে এই আক্রমণের হাত থেকে আস্তিক-নাস্তিক, সংখ্যালঘু সংখ্যাগুরু, নারী-পুরুষ, সিভিলিয়ান পুলিশ কেউই ছাড় পাচ্ছিল না, যেখানে এটা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেছিল এবং আমরা কোনো বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের আলামত দেখছিলাম না, সেখানে মাদারীপুরের মানুষ এক আসামি হাতেনাতে ধরে ফেলার পর আশা করছিলাম ভেতরের কলকাঠির সুলুক সন্ধান করা হবে। সেই স্থলে এই বন্দুকযুদ্ধের কি মানে?’ মাদারীপুরে শিক্ষক হত্যাচেষ্টায় গ্রেপ্তার ফয়জুল্লাহ ফাহিম রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার খবরে গোলাম মোর্তোজা লিখেছেন, রাজনৈতিক বক্তৃতায় যে কাউকে অভিযুক্ত করা যায়। নিজেরা ধরতে পারি না, জনগণ ধরে দেয়। তাদের ক্রসফায়ারে বা বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়। কারা জঙ্গি, কারা তৈরি করে, কারা পৃষ্ঠপোষক, কারা জঙ্গি-গুপ্ত হত্যা টিকিয়ে রেখে সুবিধা পেতে চায়Ñ সব প্রশ্নের উত্তর আছে এই একটি হত্যাকা-ের মধ্যে। বিনু মাহবুবা নামের একজন তার মন্তব্য প্রকাশ করে লিখেছেন, যাদের কাছেই তথ্য থাকে তারাই বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এম জাকির হোসাইন খান  লিখেছেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদের হত্যা করে অনৈতিক শাসন প্রলম্বিত করা যায়, কিন্তু দীর্ঘকাল টিকিয়ে রাখা যায় না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ