Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার , ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

নিয়োগকর্তারা শিশুশ্রমের নেতিবাচক দিক জেনেও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করেন

ট্রান্সপোর্ট ও গৃহকর্মে শিশুশ্রম জরিপের তথ্য ৪৬.৯৬%শিশু গৃহকর্মী শারীরিক আঘাতের শিকার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ অক্টোবর, ২০১৯, ৭:২৫ পিএম

শিশু গৃহকর্মীরা শারীরিক আঘাতের শিকার হয় ৪৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। পাশপাশি মানসিক সমস্যায় ভুগে ৩৫ দশমিক ৫১ শতাংশ, নিয়োগকর্তাদের বকুনির শিকার ৬৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার ১৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। পরিবহনক্ষেত্রে ৬৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ শিশু পরিবহন শ্রমিক প্রায়ই তাদের নিয়োগকর্তা এবং যাত্রীদের কাছ থেকে নিগৃহীত হয়। ৬৪ দশমিক ০৪ শতাংশ শারীরিক আঘাতের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং ৩৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ হতাশায় ভুগছে। এদিকে পরিবহনক্ষেত্রে শিশুদের বেশিরভাগ ঢাকা শহরে হিউম্যান হলার-এ কাজ করছে। ঢাকায় হিউম্যান হলার গুলোর ৩১টি রুট রয়েছে যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬৪২টি হিউম্যান হলার প্রতিদিন চলাচল করে। প্রায় ১ হাজার ৬৮জন শিশুশ্রমিক হিউম্যান হলারের সাহায্যকারী হিসাবে কাজ করছে। ৮৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ শিশু গৃহকর্মী এবং ৬৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ শিশু পরিবহন শ্রমিকের বয়স ৮ বছর থেকে ১৩ বছরের মধ্যে।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বেইজলাইন জরীপ থেকে প্রাপ্ত এসব তথ্য ও সুপারিশমালা ট্রান্সপোর্ট ও গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুশ্রম সম্পর্কিত অনুষ্ঠানে এ তথ্য উঠে আসে। চাইল্ড ফান্ড কোরিয়ার আর্থিক সহায়তায় এডুকো দুই বৎসর মেয়াদী অপশনস ফর ডিগনিটি অফ হিউম্যান বিং বাই ইনফ্লুইনসিং কি এ্যাকটরস টু রিফর্ম (অধিকার) পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যার সহযোগি সংগঠন হিসাবে কাজ করছে ইকো সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেন (ইএসডিও)। এই প্রকল্পের আওতায় দুটি নির্দিষ্ট সেক্টরের উপর একটি বেইজলাইন জরীপ পরিচালনা করা হয়, যা এই অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হয়। চাইল্ড প্রোটেকশন স্পেশালিষ্ট এবং স্টাডি টিম লিডার শরফুদ্দিন খান জরীপের ফলাফল উপস্থাপন করেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হক প্রধান অতিথি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ শ্রমজীবী শিশু এবং তাদের পিতামাতাদের শিশুশ্রম সম্পর্কিত আইন ও নীতিমালা সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। তবে, বেশিরভাগ নিয়োগকর্তাদের শিশুশ্রম সম্পর্কিত আইন ও নীতি সম্পর্কে ধারণা আছে। ৫৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ শিশু গৃহকর্মী কখনও স্কুলে যায়নি, এবং ৮২ দশমিক ৬৮ শতাংশ শিশু পরিবহন শ্রমিক কখনও স্কুলে যায়নি। একই সঙ্গে ৯৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ শিশু গৃহকর্মী এবং ৯৯ দশমিক ৩২ শতাংশ শিশু পরিবহন শ্রমিকরা নিকটবর্তী কারিগরি বিদ্যালয়ের অনুপস্থিতির কারণে কোনও প্রযুক্তিগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারছে না।

গবেষণায় শ্রমজীবী শিশুদের পিতামাতাকে সহায়তা করছে এমন কোনও কর্মসংস্থান বা উপার্জনমূলক উদ্যোগের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি শ্রমজীবী শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে কোনও উপবৃত্তি বা অনুদান দেয়া হয়নি। এছাড়াও ৮৩ দশমিক ২৭ শতাংশ শিশু গৃহকর্মী এবং ৮৬ দশমিক ১১ শতাংশ শিশু পরিবহন শ্রমিকের সঠিক স্বাস্থ্যসেবার ধারণা নেই। তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় ফার্মেসির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কিনে থাকে।

জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অধিকাংশ নিয়োগকর্তা শিশুশ্রমের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে অবগত, তারপরও তারা শিশুদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করেন। তবে তারা শিশুশ্রম সম্পর্কিত আইন ও নীতিমালা এবং এর প্রবিধান সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানেন না। একই সঙ্গে প্রাপ্ত বয়স্ক কর্মী নিয়োগকরা ব্যয়বহুল এবং অনেকসময় দুষ্প্রাপ্য, তাই তারা শিশুদেরকে গৃহকর্মে নিয়োগ করেন। ট্রান্সপোর্ট ও গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের নিয়োগকারীরা মনে করেন, এসব শিশু অতি দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছে, তাই তাদের এ উপার্জন তাদের পরিবারের জন্য সহায়ক। শিশুরা যাতে ঝূঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

মুজিবুল হক বলেন, শিশুশ্রম নিরসন করার জন্য আমাদের নিজেদের ঘর থেকে কাজ শুরু করতে হবে। শুধুমাত্র আইন ও নীতিমালা দিয়ে শিশুশ্রম বন্ধ করা যাবেনা, এজন্য নীতি নির্ধারক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যসহ সমাজের প্রত্যেকটি মানুষের ইতিবাচক মানসিক পরির্তন প্রয়োজন।

আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, যদি আমরা আইনী কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ বৃদ্ধি, অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহন করতে পারি, তাহলে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসন করা অবশ্যই সম্ভব।

এডুকো’র কান্ট্রি ডাইরেক্টর জনি এম সরকার বলেন, সরকার এবং এনজিওদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুশ্রমিকদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন সরকার গৃহীত ২৮৪ কোটি টাকার শিশুশ্রম নিরসন প্রকল্প খুব শিগগিরই শুরু হবে, যা এক লক্ষ শিশুকে ঝূঁকিপূর্ণ শ্রম থেকে প্রত্যাহার করতে সহায়ক হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ