Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২০, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

‘ফুটপাত যেমন জনগণের তেমনি হকারের’

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ অক্টোবর, ২০১৯, ২:৩৬ পিএম

‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক আমরা ফুটপাতে বসেছি। আজকের পরও যদি আর কোনো হকার ভাইয়ের ওপর দমন-পীড়ন, নির্যাতন করে আমরা সব ঐক্যবদ্ধভাবে সেটি প্রতিহত করব। একজন হকারকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তাহলে হাজার হাজার হকার একহয়ে সেটি মোকাবিলা করতে হবে। হকাররা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই কেউ আমাদের দমাতে পারবে না।’- পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে এবং হকার ব্যবস্থাপনা জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ের দাবিতে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ এসব কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষুব্ধ হকাররা মিছিল নিয়ে এসে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাশেম কবির, সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ, কার্যকরী সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, মো. শহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম প্রমুখ।

সমাবেশে সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, আমরা গতবার ধারাবাহিকভাবে চার মাস আন্দোলন-সংগ্রামের করে ফুটপাতে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। প্রথম রমজানে হকাররা ঢাকা শহর অবরোধ করেছিল। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দুই সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন- পুনর্বাসনের আগপর্যন্ত হকাররা ফুটপাতে বসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, শুক্র ও শনি দুইদিন হকাররা পূর্ণদিবস ফুটপাতে বসবে। আর বাকি পাঁচদিন বেলা ৩টা থেকে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর পুলিশ-প্রশাসন এভাবেই আমাদের ফুটপাতে বসিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে দেশে কী হলো যে আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তো তার নির্দেশনা উঠিয়ে নেননি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ফুটপাত যেমন জনগণের তেমনি হকারের। জনগণ ফুটপাতে নির্বিঘ্নে হাঁটাহাঁটি করবে। একইসঙ্গে হকাররাও একপাশে বসবে। কিন্তু ফুটপাতে নাকি চাঁদাবাজির অজুহাতে আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে সরকারের এমপি-মন্ত্রী ও সরকরি দলের অঙ্গসংগঠনের নেতারা জড়িত।

আমরা বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলেছি, ফুটপাতে সবধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। পুনর্বাসনের জন্য আমরা যারা ফুটপাতে ব্যবসা করি সরকারকে তাদের টাকা দিতে চায়। হকারদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে মাসিক বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে টাকা জমা দিতে চায় এবং সেই টাকার সঙ্গে যদি সরকারি অনুদান যোগ করেন তাহলে প্রতি বছর হাজার হাজার হকারকে পুনর্বাসন করতে পারবেন। কিন্তু সরকার এবং সিটি কর্পোরেশন এ পথে হাঁটছে না।

সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনারা পুনর্বাসন করতে না পেরে হকারদের উচ্ছেদ করছেন, মামলা দিচ্ছেন, জুলুম-নির্যাতন করছেন। এসব হকাররা মেনে নেবে না। ঢাকা মহানগরীতে প্রায় চার লাখ হকার রয়েছে। আর এদের পরিবারসহ প্রায় ২০ লাখ মানুষ ঢাকায়। ২০ লাখ মানুষকে বাদ দিয়ে ঢাকা শহরে উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, আমরা আজকে আমাদের আন্দোলনের সূচনা করেছি। এরপরও যদি হকারদের প্রতি অত্যাচার চলে তাহলে আমরা আন্দোলন ঘোষণা করে ঢাকা শহরকে অচল করে দেব। কিন্তু আমরা সে দিকে যেতে চাই না। তবে আপনারা হকারদের ওপর আর নির্যাতন চালাবেন না। আজ আমাদের হকার ভইয়েরা যে যেখানে বসতেন, বিকেল ৩টা থেকে সেখানে বসেই ব্যবসা করবে। কোনো ধরনের হামলা, দমন-পীড়ন করা হলে এর পরিস্থিতি ভয়াবাহ আকার ধারণ করবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিক্ষোভ


আরও
আরও পড়ুন