Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

সাকিবের শাস্তি ক্রিকেটের উপর বড় আঘাত

| প্রকাশের সময় : ৩১ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ফিক্সিং প্রস্তাবের তথ্য গোপন করায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকান্ডে নিষিদ্ধ হয়েছেন। এ সংবাদ শুধু দেশের ক্রিকেট অনুরাগী, ক্রীড়ামোদী তরুন প্রজন্মকেই ব্যথিত করেনি দেশের ক্রিকেটের অগ্রগতির জন্য গর্বিত প্রতিটি নাগরিককেই মর্মাহত করেছে। এটা তাদের কাছে অনেক বড় একটা আঘাত। গত বছরের প্রথম দিকে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল ক্রিকেট বাজিরকররা, তবে তিনি সে প্রস্তাবে রাজি না হলেও আইসিসি’র দুর্নীতিবিরোধী আইনের লঙ্ঘন বিবেচিত হয়েছে। আইনে যে কোনো ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব আইসিসিকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও তা আইসিসিকে জানাননি সাকিব আল হাসান। সেই নিরবতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। শুধু তার জন্যই নয় এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় দু:সংবাদ। এমন সময় সাকিব আল হাসান আইসিসি’র নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হলেন, যখন বাংলাদেশের জাতীয় দল ভারত সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং রওয়ানা হওয়ার একদিন পূর্বে মঙ্গলবার আইসিসি সাকিবের বিরুদ্ধে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার রায় প্রকাশ করল। তবে দোষ স্বীকার করে রায় মেনে নেয়ার কারণে এক বছরের জন্য শাস্তি স্থগিত করেছে আইসিসি। এ কারণে আইসিসি’র সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আপীলও করতে পারছেন না সাকিব।

ক্রিকেটে বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটারদের নিজ দেশ ও আইসিসি’র শাস্তির সম্মুখীন হওয়ার ইতিহাস অনেক পুরনো। ইতিপূর্বে ভারতীয় ক্রিকেটার মুহাম্মদ আজহারউদ্দিন, দিনেশ কার্তিক, মনোজ প্রভাকর, অজয় জাদেজা প্রমুখ ৫ বছর থেকে আজীবন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়ে তাদের ক্রিকেটার জীবনের করুণ পরিনতি ঘটিয়েছেন। হ্যানসি ক্রনিয়ে, সেলিম মালিক, হার্সেল গিবস এবং মোহাম্মদ আশরাফুলও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে দীর্ঘ মেয়াদী নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছিলেন। ম্যাচ ফিক্সিং ছাড়াও বল টেম্পারিংয়ের মত অপরাধেও ক্রিকেটারদের শাস্তির সম্মুখীন হওয়ার অনেক নজির রয়েছে। এর মধ্যে গত বছর মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের দক্ষিন আফ্রিকা সফরের সময় অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ, সহঅধিনায়ক ডেভিড ওর্য়ানারসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ ওঠে, যা ইতিমধ্যে স্যান্ডপেপার গেট স্ক্যান্ডাল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ অপরাধে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড স্টিভ স্মিথ ও ওয়ার্নারকে এক বছরের এবং ক্যামেরন ব্যানক্রফ্টকে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয়। আন্তজার্তিক ক্রিড়াঙ্গণে ডোপটেস্ট, ম্যাচ ফিক্সিং, বল টেম্পারিং বা অসদাচরণের মত ঘটনাকে কঠোর আইনগত প্রক্রিয়ায় মোকাবেলা করার এই দৃষ্টান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করা যায়। তবে বিশ্বের এক নম্বর অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান সরাসরি কোনো অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত না হয়েও শুধুমাত্র তথ্য গোপন করার অপরাধে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হলেন।

সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের তরুন প্রজন্মের মধ্যে ক্রিকেট সেনসেশনের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিব আল হাসানের উপর এমন নিষেধাজ্ঞা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা তার ভক্তদেরও ব্যথিত করবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি’র কর্মকর্তারা সাকিব আল হাসানের এই শাস্তিকে ক্রিকেটের উপর আঘাত ও বড় ক্ষতি বলে অভিহিত করেছেন। গত মঙ্গলবার এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে দেশের তরুন প্রজন্ম ও নেটিজেনরা সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে আইসিসি’র এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন। আইসিসি’র আইন অনুসারে সাকিব আল হাসান এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করতে না পারলেও ক্রিকেটর বৃহত্তর স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা সময়সীমা কমিয়ে আনার বিষয়ে পুর্নবিবেচনার দাবী বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের। সাকিব আল হাসানের মত ক্রিকেটারের কাছ থেকে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের অনেক কিছুই শেখার আছে। ক্রিকেট বুকিদের ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাবে সাড়া না দিলেও এ ধরনের প্রস্তাবকে অগ্রাহ্য করে চেপে যাওয়া তার জন্য যে অশোভন ছিল তা অস্বীকার করা যাবে না। তবে ক্রিকেট বিশ্বে কতিপয় দেশের প্রভাব এবং বিরূপ সিদ্ধান্তের অভিযোগও আছে। ভারত সফরের আগ মুহূর্তে এবং ক্রিকেটারদের আন্দোলনের পর পর এমন সিদ্ধান্ত অনেকের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। দুভার্গ্য সাকিব আল হাসানের, দুর্ভাগ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের। দেশের মানুষ সাকিব আল হাসানের সাথে সমব্যথী ও সহমর্মী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিসিবি প্রেসিডেন্ট সাকিব আল হাসানের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। সাকিব আল হাসান নিজেও দু:খ প্রকাশের পাশাপাশি খুব শীঘ্রই ক্রিকেটে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আমরাও আশাবাদী ক্রিকেটের এই বরপুত্র খুব শীঘ্রই আবার সগৌরবে মাঠে ফিরে আসবেন। সাকিবের অনুপস্থিতিতে তার সহযোদ্ধা ক্রিকেটাররা প্রত্যাশিত অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যেতে সক্ষম হবেন, এটাই সকলের প্রত্যাশা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সাকিব

৩১ অক্টোবর, ২০১৯
২৯ অক্টোবর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ