Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার , ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

মিয়ানমারের মিথ্যাচারে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৪৮ এএম

কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের প্রতিনিয়ত অপপ্রচারের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রতাবাসনকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয় গত ২৩ অক্টোবর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনে তার বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি উত্থাপন করেন। স¤প্রতি মিয়ানমারের এক মন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করলে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মিয়ানমারের মন্ত্রী তার মন্তব্যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয় বাংলাদেশে আরসা বা অন্য কোনও সন্ত্রাসী সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে। রাখাইনে কয়েকজন রোহিঙ্গা ফেরত যাওয়া সম্পর্কে মিয়ানমার যে দাবি করেছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয়রত ১০ লাখ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনও সম্পর্ক নেই।
বিবৃতিতে মিয়ানমারকে বিতর্কিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়। পাশাপাশি নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করে বাংলাদেশের প্রস্তাবে রাজি হয়ে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়।
গত ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইনের মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন শুরু হলে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড় হয়ে বাংলাদেশে আসেন। এর আে ১৯৮২ রথকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নানা অজুহাতে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় আরো সাড়ে তিন লাখ। সব মিলে বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছরের ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আবারও হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানানোয় ব্যর্থ হয় ওই উদ্যোগ। ##

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ