Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

ইসলাম মানবতার ধর্ম

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ১ নভেম্বর, ২০১৯, ১:২৭ এএম | আপডেট : ১:৩০ এএম, ১ নভেম্বর, ২০১৯

ইসলামের কৃতিত্ব ছিল এই যে, এটি নতুন কিছু ছিল না। বরং মানবজাতির সৃষ্টি ও পৃথিবীতে তার আগমন যে ধারাবাহিকতার সাথে যুক্ত তারই সর্বশেষ অধ্যায় ছিল ইসলাম। যুগে যুগে সব নবী-রাসূলগণের দাওয়াত ছিল এ দীনেরই প্রতি।

প্রথম মানব হযরত আদম আ. থেকে অসংখ্য পয়গম্বরের মাধ্যমে আল্লাহর যে বাণী মানবজমিনে বপিত, অঙ্কুরিত ও বিকশিত হয়ে এসেছিল কালক্রমে তারই পরিপূর্ণ ও কালজয়ী রূপ নিয়ে দুনিয়াতে এসেছিল এই ইসলাম। শেষ নবী আরবের হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামীনের প্রথম বাণী মানবজাতির উদ্দেশে মক্কার হেরা পর্বতে নাযিল হয় ‘পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এক ঝুলন্ত বস্তু থেকে।’ অতীতের ধারা অনুসারে মহান সৃষ্টিকর্তা রব এক আল্লাহর পক্ষ থেকে সকল নবীদের নিকট তাঁর বাণী নিয়ে আসা মহান ফেরেশতা বিশ^স্ত বার্তাবহ হযরত জিব্রাইল আ. দীর্ঘ ২৩ বছর দিনে-রাতে, ঘরে-বাইরে, সফরে-অবস্থানে, যুদ্ধে-শান্তিতে, অবসরে-ব্যস্ততায়, সংগ্রামে ও শ্রান্তিতে, নির্জনে-সমাগমে বার বার ওহী নিয়ে এসেছেন ইসলামের নবীর কাছে। ছয় সহস্রাধিক বাণী যাকে কোরআন আয়াত বলে আখ্যায়িত করেছে, মানে মহান আল্লাহ তাআলার একেকটি নিদর্শন। অনন্য ভাষা, ব্যঞ্জনা, চিত্রকল্প ও বর্ণনার নিদর্শন এ কোরআন মহান স্রষ্টার বাণী, সরাসরি তাঁর কালাম। যা সৃষ্টিজগতের লক্ষ-কোটি সৃষ্টির মতো নয়, সৃষ্টির অংশ নয়, এমনকি সৃষ্টিও নয়। অতুলনীয়ভাবে এ পবিত্র কালামসমগ্র সুরক্ষিত ও অবিকৃত গ্রন্থবদ্ধ হয়। প্রাকৃতিক উপায়ে অলৌকিকভাবে বিশ^াসীদের স্মৃতির ফলকে সুরক্ষিত এ বিশাল ও মহান পবিত্র কালাম ইসলামের এক অসাধারণ শক্তি। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে প্রাপ্ত এক শ্রেষ্ঠ মুজেযা। যার তুলনা মানুষের ইতিহাসে আগে অথবা পরে কখনোই ছিল না। এই কোরআন ইসলামকে, ইসলামের নবীকে ও মুসলিম উম্মাহকে এমন এক অনন্য বিশিষ্টতায় সমুজ্জল করেছে যার কোনো তুলনা হয় না। বিকল্পও চিন্তা করা যায় না। এটি ইসলামকে শ্রেষ্ঠত্ব, অনন্যতা ও মহানতম উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে। পূর্বেকার সকল নবী-রাসূলের নবুওয়তের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা সমাপ্ত করে দিয়েছে এই কোরআন। যেমন শেষ নবীর আগমন নবুওয়তের ধারাকে পরিপূর্ণ ও সমাপ্তি দান করেছে।

মানবজাতির জন্য যা কিছু প্রয়োজন এর বিশদ আলোচনা আল্লাহ তাঁর কালাম পবিত্র কোরআনে করেছেন। এর পূর্ণতা ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যম হিসাবে তিনি দান করেছেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্দর, সংক্ষিপ্ত ও ব্যাপক অর্থবহ বাণী। তথা হাদীসের বিপুল ভা-ার। যাকে ইসলামে বলা হয় জিব্রাইল কর্তৃক অপঠিত খোদায়ী ওহী। যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভাষায় বিবৃত মহান আল্লাহ পাকেরই বাণী। শুধু তাই নয়, পবিত্র কোরআন সংরক্ষণের পর মহান আল্লাহ তাআলার কুদরতী ব্যবস্থাপনায় ও মানবীয় প্রাকৃতিক পন্থায়ই এই হাদীস শরীফের বিশাল ভা-ারও ইসলামের অন্যতম উৎস হিসাবে পৃথিবীর বুকে সুরক্ষিত রয়ে গেছে। লাখো হাদীসের ভাষ্য ও বাণী এবং এর উৎসমূল ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা, কাজ ও স্বীকৃতি যখন সুন্নাহ নামে ইসলামকে নির্ণিত ও সুগঠিত করেছে তখন তাঁর সামগ্রিক জীবনচিত্রটি আখ্যায়িত হয়েছে পবিত্র কোরআনের বাস্তব নমুনা এবং ফলিত রূপ হিসাবে। এখানে মানুষের স্মৃতিপটে ও কাগজে-কলমে সুরক্ষিত কোরআন এবং তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, বর্ণনা ও বিবরণ হাদীসে রাসূল এবং কোরআন-সুন্নাহর জীবন্ত রূপ ব্যক্তি মুহাম্মাদের অনুপুঙ্খ জীবন, কর্ম, অবদান ও আদর্শ সব মিলে ইসলামের সমন্বিত রূপ যা তিনি তাঁর নিজ হাতে তৈরি মুসলিম সমাজে তথা সাহাবায়ে কেরামের জীবনে বাস্তবায়িত করে অনন্ত কালের সকল দেশের, সকল অঞ্চলের, সকল ভাষার, সকল বর্ণের মানুষের জন্য সহজে পরিপালনীয় একটি জীবনবিধান হিসাবে বাস্তবে দৃষ্টান্ত কায়েম করে গিয়েছেন। মানব অস্তিত্বের, মানব প্রকৃতির ও মানবজীবনের এত উপযোগী আর কোনো ব্যবস্থা পৃথিবীতে হতে পারে না। কারণ এটি মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা নয়।



 

Show all comments
  • এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান ১ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৩৮ এএম says : 0
    ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম’ কথাটি অতি সত্য ও বাস্তব কথা। আমাদের ধর্ম ইসলামের নামকরণ সিলম ও সালাম তথা শান্তি শব্দ থেকে এসেছে। সালামই এ ধর্মের পরিচয় ও নিদর্শন। শান্তিই এর আহ্বান ও পথ-পন্থা।
    Total Reply(0) Reply
  • মিনহাজ উদ্দিন রিমন ১ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৩৮ এএম says : 0
    কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সর্বাত্মকভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ [সূরা বাকারা: ২০৮]
    Total Reply(0) Reply
  • মোহাম্মদ মোশাররফ ১ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৩৯ এএম says : 0
    আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই ধর্মে বিশ্বাসী। কিন্তু কত শতাংশ মানুষ মানবিক? ইসলাম শান্তির ধর্ম, সম্প্রীতির ধর্ম, মানবিকতার ধর্ম। আমরা সেটা কতটুকু মানি?
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ তোফায়েল হোসেন ১ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৩৯ এএম says : 0
    আমাদের আরো বেশি মানবিক হতে হবে। অন্যের সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে হবে। মনের পশুত্ব দূর করতে হবে। নিষ্ঠুরতা পরিহার করতে হবে। তা না হলে সত্যিকারের মানুষ হওয়া যাবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • মশিউর ইসলাম ১ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৪০ এএম says : 0
    ইসলাম জিহ্বা ও হাত দ্বারা কাউকে কষ্ট দিতে নিষেধ করেছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলিম হল সে, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।’ [বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত হা/৬]
    Total Reply(0) Reply
  • জোহেব শাহরিয়ার ১ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৪১ এএম says : 0
    ইসলাম মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, গরীব-মিসকীন তথা সকল মানবের সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ প্রদান করেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা ইবাদাত কর, আল্লাহর আর তার সাথে কাউকে শরীক করো না, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন, নিকটাত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সহচর পথিক এবং তোমাদের ডান হাত যাদের অধিকারী তাদের সাথে সদ্ব্যবহার কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ অহঙ্কারী ও আত্মাভিমানীকে ভালবাসেন না।’ [সূরা নিসা: ৩৬]
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

৯ নভেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ