Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

মুবরক হো মাহে রমজান

প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুনশী
ফরয রোজার নিয়ত প্রসঙ্গে
আরবী ‘নিয়ত’ শব্দটির অর্থ হলো ‘কাসদুল কল্ব’ বা ‘অন্তরের দৃঢ় সংকল্প’। ব্যবহারিক অর্থে নিয়ত বলতে বুঝায় উদ্দিষ্ট বস্তু বা লক্ষ্য পূরণের জন্য অন্তরের দৃঢ় সংকল্পকে মনে বা মুখে উচ্চারণ করা। নিয়ত অন্তরের আমল। অতএব, যার অন্তরে এ ধারণা হলো সে, আগামী কাল সে সাওম পালন করবে, তবে সে সাওমের নিয়ত অবশ্যই করবে।
ফরজ সাওম যেমন মাহে রমজানের রোজা, ওয়াজিব সাওম যেমন মান্নত ও কাফফারার রোজা, এ সব রোজার ক্ষেত্রে পূর্ব দিন তথা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার নিয়তে থাকা জরুরী। ফরজ ও ওয়াজিব সাওমে সুবহে সাদিকের পূর্ব থেকে নিয়ত ফরয আবশ্যক। যদি কোন ব্যক্তি দিনের কোন অংশে সাওমের নিয়ত করে তবে তার এই নিয়ত পূর্ণদিনব্যাপী হবে না। তাই, তার নিয়ত পুরাপুরি শুদ্ধ হবে না। এ জন্য রাতের যে কোন অংশে ফরয বা ওয়াজিব সাওমের অথবা নফল সাওমের নিয়ত করে নেয়াই শ্রেয়। নিয়ত করার পর সুবহে সাদিকের পূর্বে সাওম পরিপন্থী কোন কাজ করে ফেললে নিয়ত নষ্ট হবে না। এমতাবস্থায় নতুন নিয়তের প্রয়োজন হবে না। রোজা চাই ফরজ হোক, ওয়াজিব হোক, নফল হোক, নিয়ত করা জরুরী। কেননা কেউ যদি স্বাস্থ্য রক্ষা, কোন ডাক্তারের পরামর্শ, পানাহারের প্রতি অনীহা বা অন্য কোন কারণে খাদ্য, পানীয় ও স্ত্রী গমন থেকে সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, কামাচার ও পাপাচার হতে বিরত থাকে, তবে তার এই বিরত থাকা জরুরী সাওম হিসেবে গণ্য হবে না। সে রোজার সওয়াব মোটেই পাবে না।
সহীহ আহাদিসে নিয়তের গুরুত্ব ও হাকিকত সম্পর্কে বহু রেওয়ায়েত আছে। আমরা কতিপয় রেওয়ায়েত সহৃদয় পাঠক ও পাঠিকাদের সামনে পেশ করলাম।
হাদীস- (ক) হজরত হাফসা বিনতে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : “যে ফজরের পূর্বে সাওমের নিয়ত করল না, তার সাওম নেই। ইমাম নাসাই হাদিসটি এভাবে বর্ণনা করেছেন : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘‘যে ফজরের পূর্বে রাত থেকে সাওম আরম্ভ করল না, তার সাওম নেই।” (সুনানে আবু দাউদ ঃ হাদীস নং ২৪৫৪; জামে তিরমিযী: হাদীস নং ৭৩০; নাসাই: খ- ৪, পৃষ্ঠা ১৯৬; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস নং ১৭০০; মুসনাদে আহমাদ: খ- ৬, পৃষ্ঠা ২৮৭; সহীহ ইবনে খুযাইমাহ: হাদীস নং ১৯৩৩।
হাদীস (খ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলতেন : “সাওম রাখবে না, তবে যে ফজরের পূর্ব থেকে আরম্ভ করেছে। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক: খ- ১, পৃষ্ঠা ২৮৮)। এখানে রাত থেকে সাওম আরম্ভ করার অর্থ হচ্ছে রাত থেকে সাওমের দৃঢ় ও চূড়ান্ত নিয়ত করা। যে ফজরের পূর্বে সাওমের দৃঢ় নিয়্যত করল না, তার সাওম হবে না। (তুহফাতুল আহওয়ামী: খ- ৩, পৃষ্ঠা ৩৫২)। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, বিজ্ঞ আলেমদের নিকট এই হাদীসের অর্থ হচ্ছেঃ রমজান মাসে ফজরের পূর্বে যে সাওম আরম্ভ করল না, অথবা রমজানের কা’যা অথবা মান্নতের সাওমে সে রাত থেকে নিয়ত করল না, তার সাওম শুদ্ধ হবে না। তবে হ্যাঁ, নফল সাওমের নিয়ত ভোর হওয়ার পরও বৈধ। এটা ইমাম শাফেয়ী (রহঃ), আহমাদ (রহঃ) ও ইসহাকের অভিমত। (জামে তিরমিজীঃ খ- ৩, পৃষ্ঠা ১০৮)। ইমামে আজম আবু হানীফা (রহঃ)এর এক অভিমতে বলা হয়েছে যে, সাওম পালনের উদ্দেশ্যে সাহরী গ্রহণ করলে নিয়্যতের কাজও পুরা হয়ে যায়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মুবরক হো মাহে রমজান
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ