Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭, ১৩ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

শিক্ষা বিভাগের দুনীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে রাজশাহীতে দুদক চেয়ারম্যান

রাজশাহী ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ২ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম


মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশেষ সামাজিক উদবুদ্ধকরণ ও সচেতনতামূলক সভায় শিক্ষা বিভাগের নিয়োগ ও বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে বদলির জন্য যারা তদবির করেন তাদের সাবধান করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এটাকে দুর্নীতি ও অপরাধ আখ্যায়িত করে বলেন, শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় কী হয় আমরা জানি। সেই কারণে আমরাও বলেছি, সবকিছু কম্পিউটারাইজড করতে হবে। কম্পিউটারই বলে দেবে, রহিম কোথায় যাবে, করিম কোথায় যাবে।

ক্রাইটেরিয়া ফিস্কড করবেন, কম্পিউটার বলে দেবে কে কোথায় যাবে। বদলি প্রক্রিয়া অনলাইনে হবে, কোনো তদবির চলবে না। তদবির এক ধরনের অপরাধ। তদবির একটা দুর্নীতি। তদবিরবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সকালে রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজামান জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত রাজশাহীতে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

তদবিরবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘তদবির আর ঘুষ খাওয়া একই। যে কারণে কিছু কিছু তদবিরবাজকে আমি ধরেছি। জেলে ভরেছি। আমি এটা হুঁশিয়ারি দিতে চাই। আপনি হাওরে কেন যাবেন না, আপনি চাকরি করতে এসেছেন? আপনাকে হাওরে যেতে হবে।’
দুদকের কেউ হাত বেঁধে রাখেনি উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিক্ষকের পেনশন নিতে গিয়ে কী ভোগান্তি! সেটা আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি। যারা অপরাধী তাদেরকে আমরা ধরেছি। আমরা ঘুষ হাতেনাতে ধরেছি। আমাদের কেউ হাত বেঁধে দেয়নি। আমরা যেকোনো লোককেই ধরতে পারি। দুর্নীতি করলেই ধরা হবে। কোনো অনুমতি নিয়ে আমরা কাউকে ধরব না। আমরা সেটা দেখিয়ে দিয়েছি। ধরে ধরে জেলে পুরাটা দুদকের বড় কাজ না। দুদকের বড় কাজ হচ্ছে, দুর্নীতি যেন না হয় সেই কাজটা করা। আমি গত সাড়ে তিন বছরে দেখলাম, অনেক দুর্নীতিবাজ ধরে জেলে পুরা হলো। কিন্তু লাভের লাভ তেমন কিছুই হলো না। শেষ পর্যন্ত আমার কাছে মনে হয়েছে, যে আমরা দুটো জায়গায় মনে হয় কাজ করতে হবে। একটা হচ্ছে প্রাইমারি স্কুল, আরেকটা হাইস্কুল।’

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল-হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এএফএম মনজুর কাদির ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক হামিদুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুস সালাম। সভায় রাজশাহী প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। মুক্ত আলোচনায় তারা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের নানা দিক তুলে ধরেন।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন