Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলছে

ঢাকা-চট্টগ্রামের কাঁচাবাজার

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

 রাজধানীর বাজারে নিত্যপন্যের দাম বেড়েই চলছেই। এমনিতেই পেঁয়াজের বাজার আগুন। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। আর শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমছে না। উল্টো সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম বেড়েছে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, শান্তিনগর অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া যায়।
নতুন করে কিছু সবজির দাম বাড়ায় চারটি সবজির কেজি বিক্রি হচ্ছে একশ টাকা বা তার বেশি দামে। দুয়েকটি বাদে বাকি সবগুলোর দামও একশ টাকার কাছাকাছি। সবজির এমন দাম শুনে বিরক্ত হচ্ছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এদিকে কাঁচাবাজার দেখা গেছে, শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমের পাশাপাশি সব ধরনের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এরপরও কোনো সবজির দাম কমেনি। উল্টো কিছু সবজির দাম বেড়েছে। নতুন করে দাম বেড়ে বেগুনের কেজি কিছু কিছু বাজারে ১০০ টাকায় উঠেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬০-৭০ টাকা কেজি। তবে এখনও কিছু কিছু বাজারে বেগুনের কেজি ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের সঙ্গে নতুন করে দাম বেড়েছে গাজর ও পাকা টমেটোর। মানভেদে গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০-১২০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৮০ টাকা কেজি। আর গত সপ্তাহে ১২০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে ১৪০-১৬০ টাকা।
নতুন করে দাম না বাড়লেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শীতের আগাম সবজি শিম, মুলা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি। শিমের দাম গত সপ্তাহের মতো ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা পিস। ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে পাতাকপি। মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪০ টাকা। শীতের আগাম সবজির সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লাউ, করলা, ঝিঙে, বরবটি, পটল, ঢেঁড়স, উসি, ধুন্দুলসহ সব ধরনের সবজি। গত সপ্তাহের মতো ছোট আকারের লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পিস।
করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বরবটি। চিচিংগা, ঝিঙা, ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। এ সবজিগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটলের দাম বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সবজির কোনো ঘাটতি নেই। আড়তে গেলে সব ধরনের সবজি চাহিদা অনুযায়ী কেনা যাচ্ছে। কিন্তু দাম বেশি। যে কারণে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে যে হারে বাজারে সবজি আসছে তাতে দাম কমে যাওয়া উচিত।
কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, হঠাৎ করে দুদিন বৃষ্টি হয়েছে। এতে নষ্ট হয়েছে সবজির কিছু ক্ষেত। এ কারণে সবজির দাম এখনও কিছুটা চড়া। তবে আমাদের ধারণা শিগগিরই সবজির দাম কমে যাবে। সবজির দাম বাড়ার পেছনে কোনো কারসাজি নেই এমন দাবি করে তিনি বলেন, কাঁচামাল মজুত করে রাখা যায় না। একদিনের মাল আর একদিন নিয়ে গেলেই পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পেঁয়াজের মতো মজুত করে রেখে সবজির দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। সবজির দাম স্বাভাবিক নিয়মেই বাড়ে-কমে।
ক্রেতাদের দাবি, বাজারে কার্যকরী মনিটরিং নেই। যে কারণে হুটহাট করে একটার পর একটা পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। দুম-দাম করে পণ্যের দাম বাড়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে কোনো বিশেষ চক্র এভাবে একটার পর একটা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে কি-না তা ক্ষতিয়ে দেখা উচিত। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে বেশিরভাগ সময় কোনো রকমে একটু সবজি নিয়ে ভাত খেতে হয়। আমাদের মতো গরিব মানুষের এ কষ্ট বোঝার কেউ নেই।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নিত্যপণ্য

১৭ অক্টোবর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন