Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

কুমিল্লায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পানিমিশ্রিত দুধ বিক্রেতাদের প্রতারণার শিকার রোজাদাররা

প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সাদিক মামুন, কুমিল্লা থেকে : রোজা আসলেই গরুর দুধের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। রোজাদার পরিবারগুলো খাঁটি গরুর দুধের আশায় এক বাজার থেকে আরেক বাজার ঘুরে বেড়ান। কিন্তু খাঁটি ও ভেজালমুক্ত গরুর দুধ কি এসব ক্রেতাদের হাতে মিলে। একবাক্যে বলা যায় মিলে না। আর যা মিলে তাতে পানি মেশানোই বেশি থাকে। বিশেষ করে এবারের রোজায় পানিমিশ্রিত দুধ ঘরে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে রোজাদারদের। কেবল রোজাই নয় সারা বছরই কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জের রাজবাড়ি কম্পাউন্ড, চকবাজার তেরিপট্টি মোড়, শাসনগাছা বাদশা মিয়ার বাজার, পদুয়ার বাজার এলাকায় খাঁটি গরুর দুধের নামে ক্রেতাদের কাছে পানিমিশ্রিত দুধ বিক্রি করে প্রতারণা করে আসছে পাইকারি ও খুচরা দুধ বিক্রেতারা।
কুমিল্লা নগরীর ওইসব স্থানে রোজার শুরুতে পাল্লা দিয়ে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে গরুর দুধের দাম। খাঁটি বলে বিক্রি করলেও বেশিরভাগ বিক্রেতাই অসাধু প্রকৃতির। তারা প্রতি কেজি দুধে আড়াইশ গ্রাম পানি মিশিয়ে বিক্রি করে থাকে। কুমিল্লার সোয়াগঞ্জ, চৌয়ারা, বরুড়া, বাগমারা, সদরের পাঁচথুবি, আমড়াতলি এলাকা থেকে খাঁটি গরুর দুধ সংগ্রহ করে বেপারিরা। তারপর দুধে পরিমাণমত পানি মিশিয়ে তা বিক্রি করে পেশাদার দুধ বিক্রেতাদের কাছে। এসব বিক্রেতারা আবার ওই পানি মেশানো দুধে ফের পানি মিশিয়ে বাজারে এনে বিক্রি করে। বিক্রেতাদের কিড়াকসমের পাল্লায় পড়ে পানিমিশ্রিত দুধই খাঁটি ভেবে কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। এভাবে কুমিল্লায় গরুর দুধ বিক্রির স্থানগুলোতে চলছে ক্রেতা ঠকানোর প্রতিযোগিতা।
রোজার শুরু আগ থেকে কুমিল্লা নগরীর যেসব স্থানে গরুর দুধ বিক্রির পসরা বসে থাকে সেখানে খাঁটি দুধের অস্তিত্ব রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছেন ক্রেতারা। এরিই পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জের রাজবাড়ী কম্পাউন্ড এলাকায় দীর্ঘদিনের পুরনো দুধ বাজারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। কুমিল্লা সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপালী মÐল রাজগঞ্জের দুধবাজারে অভিযান চালিয়ে তিন দুধ ব্যবসায়িকে অর্থদÐ দেন। এসময় কুমিল্লা জেলা মার্কেটিং অফিসার মো. জাকারিয়া ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সেনিটেশন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। অভিযান চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপালী মÐলের উপস্থিতিতে সেনিটেশন কর্মকর্তা ল্যাকটোমিটার ব্যবহার করে দুধের ঘনত্ব নির্ণয় করতে গিয়ে দেখেন দুধে পানি মেশানো হয়েছে। এসময় তিন দুধ ব্যবসায়ী বলেন, তারা সোয়াগাজী (সোয়াগঞ্জ) ও চৌয়ারা বাজারের বেপারিদের কাছ থেকে দুধ কিনে রাজগঞ্জ এনে বিক্রি করেন এবং কিছু দুধ দেশওয়ালীপট্টি ঘোষের দোকানে বিক্রি করেন। পানি সেখান থেকেই মেশানো হয়।
একপর্যায়ে দুধ বিক্রেতারা স্বীকার করেন তারাও মাঝেমধ্যে দুধে পানি মিশিয়ে থাকেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপালী মÐল তিন দুধ বিক্রেতাকে আর্থিক জরিমানা করেন। এসময় তিনি বলেন, খাদ্যে এভাবে ভেজাল মেশালে মানুষ সুস্বাস্থ্য নিয়ে জীবন নির্বাহের নিশ্চয়তা কিভাবে পাবে? তাই মানুষের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে একই দিনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপালী মÐল নগরীর কান্দিরপাড়ে সিটি রেস্তোরাঁ, রানীর বাজার এলাকার শ্যামা হোটেলে নোংরা পরিবেশে ও বাসিপচা উপাদানে ইফতার তৈরির অপরাধে উভয় প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন