Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার , ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

ভারতের সাথে কি চুক্তি হয়েছে জানতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেবে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ নভেম্বর, ২০১৯, ৯:৩৫ পিএম

ভারতের সাথে সম্পাদিত চুক্তিসমূহের বিস্তারিত জানতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেবে বিএনপি। শনিবার রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেন, ভারতে প্রধানমন্ত্রী যে চুক্তিগুলো সম্পাদন করে এসেছেন এই চুক্তিগুলো অবিলম্বে দেশবাসীর কাছে প্রকাশ করার জন্য আহবান জানানো হচ্ছে। আজকে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেবো তথ্যগুলো জানানো জন্য যে, কি ধরনের চুক্তি হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য অধিকার যে আইন আছে সেই আইনকে সামনে নিয়ে আমরা তথ্য কমিশনের কাছেও চিঠি দেবো –চুক্তির বিষয় গুলো জানার জন্য। কারণ আমরা মনে করি, এ চুক্তিগুলো সম্পর্কে দেশবাসীর মধ্যে অনেক জিজ্ঞাসা আছে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে প্রশ্ন জড়িত হয়েছে। আপনারা জানেন যে, ফেনী নদীর পানি দেয়ার বিষয়ে যে চুক্তি হয়েছে তাতে আমাদের পানি দিতে কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু আমাদের যে বড় সমস্যা তিস্তা নদীর পানি সদস্যা দীর্ঘকাল হয়ে গেলো তার কোনো সমাধান হচ্ছে না।

খালেদা জিয়া তেমন অসুস্থ নন যে তাকে বিদেশে নিতে হবে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এরকম বক্তব্যে প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ দেশনেত্রীর শারীরিক অবস্থা কেমন আছে- সেই অধিকার উনার নেই। কারণ উনি কি ডাক্তার? উনি ডাক্তার নন, তিনি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটা বলছেন।

আমরা বলছি যে, রাজনৈতিক দৃষ্টি থেকে বাইরে আসুন, মানবিক হোন। বিষয়টাও এখন সাধারণ বন্দিরাও সুচিকিতসা পাওয়ার অধিকার আছে। যেখানে দেশনেত্রী একেবারে সুস্থ অবস্থায় কারাগারে গেছেন হেটে। সেখানে তিনি এখন বিছানা থেকে নিজে উঠতে পারেন না। এটা বাস্তবতা। সেই কারণে আমরা বলি এরকম মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অর্থই হচ্ছে প্রকৃত সত্য থেকে দূরে রাখা। যে কথাটা আমরা আশঙ্কা করছি এভাবে দেশনেত্রীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য এই কাজ গুলো তারা করছে। ওবায়দুল কাদের সাহেবের একথা বলায় আমরা একেবারে বিস্মিত হয়েছি। উনি যখন অসুস্থ হয়েছে তাকে আমরা হাসপাতালে দেখতে গেছি, তিনি বিদেশে গেছেন আমরা তার আশু মুক্তি কামনায় দোয়া করেছি।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিএসএমএমইউ‘র পরিচালকের বিবৃতি ‘অসত্য’ দাবি করে এর স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নিন্দা জানানো হয় বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ, তিনি প্রায় পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন। অলমোস্ট তিনি ক্রিটিক্যাল স্টেইজ। এখন তিনি নিজে কিছুই করতে পারেন না, তাকে সহযোগিতা করতে হয়। এ বিষয়টাকে কেনো পিজি হাসপাতালের পরিচালক গোপন করেছে তা বোধগম্য নয়। আমরা অবিলম্বে দেশনেত্রীর স্বাস্থ্যের সঠিক তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।
খোকার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের দলের অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘকাল বিদেশে অবস্থান করছেন এবং দুরাগ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অতি সম্প্রতি তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখন তিনি হাসপাতালে, তিনি জীবন-মৃত্যুর মাঝামাঝি।সভায় তার আশু রোগ মুক্তির জন্য দোয়া চেয়েছে এবং একই সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে তার জন্য দোয়া করার আহবান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে অসুস্থ স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া ও আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানী শাহজাহান সিরাজ অত্যন্ত অসুস্থ তাদেরও আশু রোগমুক্তি কামনা করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর বাংলাদেশের নীতির বিপক্ষে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের শরনার্থীদের স্থানান্তরের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নীতির বিরোধী। যেখানে আমরা সব সময় বলছি যে, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে। আপনারা আবার স্থায়ীভাবে তাদেরকে রাখার জন্য আপনারা(সরকার) চরের মধ্যে গিয়ে চমতকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। এর অর্থ হচ্ছে যে, আমরা মেনে নিচ্ছি প্রকারান্তরে রোহিঙ্গারা এখানে থাকবে।আমরা মনে করি এটা সম্পূর্ণ স্ববিরোধী। এই সিদ্ধান্ত মিয়ানমারের যে লক্ষ্য সেই লক্ষ্যের দিকে সরকার যাচ্ছে বলে আমরা মনে করি।”

বড় দুর্নীতিকে আড়ালে শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ক্যাসিনো স্ক্যান্ডালসহ দুর্নীতির বিষয়ে যে শুদ্ধি অভিযান এটাকে সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মনে করি যে, এটা(শুদ্ধি অভিযান) মূল দুর্নীতিকে অর্থাৎ জাতীয় দুর্নীতিকে আড়াল করার জন্য এই ছোট-খাটো দুর্নীতিগুলোকে সামনে নিয়ে এটাকে আড়াল করা হচ্ছে। সমগ্র জাতি আজকে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। সরকারের লোকেরা সরাসরি এই দুর্নীতির সাথে জড়িত। আমরা মনে করি, দুর্নীতি দমন কমিশন তো সব সময় নিরপেক্ষ থাকে না। সেজন্য নিরপেক্ষ একটা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই দুর্নীতির তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।

বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘বিচার বিভাগের যে নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা এখন নেই বললে চলে। ইতিমধ্যে নিয়োগ চলছে পুরোদমে। সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগে ৯জন বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা মনে করি যে, দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে এসব নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে বিচারপতি নিয়োগ দিলে সুষ্ঠু বিচার হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে বলে আমরা মনে করি না। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলীয় নিয়োগগুলো আরো বেশি করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করবে বলে আমরা মনে করি। ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে হাইকোর্টে দায়েরকৃত মামলাগুলোর অবিলম্বে উচ্চ আদালতের ব্যবস্থা গ্রহনের দাবির পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। ভোলায় পুলিশের গুলিতে নিহত ঘটনার পর সাধারণ মানুষের ওপর মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন চালানোর ঘটনার নিন্দা জানান তিনি। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক হয়।

বৈঠকে মহাসচিব ছাড়া খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিএনপি


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ