Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

পুলিশি বাধা : ফেনী নদীর উৎপত্তিস্থলে যেতে পারেনি বিশেষজ্ঞ টিম

মাটিরাঙ্গার (খাগড়াছড়ি) তাইন্দং থেকে ফিরে, মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন | প্রকাশের সময় : ৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | আপডেট : ৮:৫৯ পিএম, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

ফেনী নদীর উৎসস্থল ভগবান টিলার ফেনী ছড়া যাওয়ার পথে তাইন্দংয়ের বটতলী এলাকায় পুলিশি বাধার মুখে পড়ে মাওলানা ভাষানী অনুসারী পরিষদের বিশেষজ্ঞ টিম।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভাষানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর নেতৃত্বে ২২ সদস্যের প্রতিনিধি দল নদীর উৎসস্থল খাগড়াছড়ির আচালং-তাইন্দংয়ের বটতলী থেকে ফেনী ছড়ার দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা তাইন্দং ছড়া পরিদর্শন করেন।

এ সময় তারা স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তারা স্থানীয় বাঙ্গালী পাহাড়ীদের সঙ্গে ফেনী নদীর উৎস বিষয়ে চলমান বিতর্ক সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। এ সময় ভাষানী অনুসারীরা খোলামেলা মতবিনিময় করেন। প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মহাসচিব নঈম জাহাঙ্গীর, গণদলের চেয়ারম্যান ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী, পানি বিশেষজ্ঞ ও জল পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. ম ইনামুল হক, ইউনূছ মৃধা, ফরিদ উদ্দিন, মোঃ ইসমাইল, কে. এম রকিবুল ইসলাম রিপন এবং ভাষানী অনুসারী পরিষদের ফেনী ও স্থানীয় সদস্যরা। আজ বুধবার সকালে বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দলটি ফেনী নদীর আমলী ঘাট থেকে মহুরী প্রজেক্ট পর্যন্ত নদী পথে পরিদর্শন করবেন। এরপর বিকেলে ফেনীতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

ভাষানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতের সাথে ফেনী নদীর পানি চুক্তি করেছে তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আমরা সেটি লক্ষ্য করে আজকে ভাষানী অনুসারী পরিষদ নেতৃবৃন্দ পানি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ফেনী নদীর উৎপত্তিস্থল পরিদর্শন করি এবং আমরা নিশ্চিত হয়েছি ফেনী নদী কোন আন্তর্জাতিক নদী নয়। এটি বাংলাদেশের নদী। কজেই অমিমাংসিত ৫৪ টি অভিন্ন নদীর হিস্যার ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ফেনী নদীর পানি দেয়া আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। গণদলের চেয়ারম্যান ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম মাওলা চৌধুরী বলেছেন, ফেনী নদীর উৎস বাংলাদেশের ভূখন্ডের মধ্যে।

কিন্তু দু-দেশের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক অটুট রাখতে সম্পাদিত ১.৮২ কিউসেক পানি চুক্তিকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু গেল ১০/১২ বৎসর ধরে অবৈধভাবে উচ্চ ক্ষমতাস¤পন্ন ৩৬টি পাম্পের মাধ্যমে নদী থেকে পানি তুলে নিয়ে যাওয়ার চলমান প্রক্রিয়া পানি চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়ার পর চলমান প্রক্রিয়া বন্ধ হবে কিনা এটি এখন বাংলাদেশের মানুষের প্রশ্ন।
পানি বিশেষজ্ঞ ও জল পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. ম ইনামুল হক বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ সরকার সাব্রæম শহরের বাসিন্দাদের পানি সরবরাহের জন্য ১.৮২ কিউসেক পানি উত্তোলনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু আমাদের উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে বিজিবি মারফৎ জানা যায়, ভারত ৩৬টি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পাম্পের মাধ্যমে ৭০ কিউসেকের বেশী পানি কোনরকম সমঝোতা ছাড়াই উত্তোলন করে যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 



 

Show all comments
  • Eakub Sharif ৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১১:০৮ এএম says : 0
    ফেনী নদীর উৎপত্তি স্থান পার্বত্য চট্রগ্রামে সেখানে যেতেও ভারতের বাধা !
    Total Reply(0) Reply
  • Md Alomgir ৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১১:০৮ এএম says : 0
    কেন বাধা ?
    Total Reply(0) Reply
  • প্রিন্স আপন ৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১১:১০ এএম says : 0
    এরা কি আমাদের দেশের পুলিশ ?
    Total Reply(0) Reply
  • কাওসার আহমেদ ৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১১:০৯ এএম says : 0
    দেশের স্বার্থে কাজ করলে সেখানে বাধা আসবেই
    Total Reply(0) Reply
  • জাবেদ ৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১১:১০ এএম says : 0
    কিছু বলার নেই
    Total Reply(0) Reply
  • Anwar Hossain ৬ নভেম্বর, ২০১৯, ৯:৩৫ পিএম says : 0
    ভারতের দালালে দেশটা ভরে গেছে,, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এখন চরম হুমকির মুখে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ