Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার , ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

রাজকোটে ‘বদলে যাওয়া’ বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

বিশ্বের অন্যতম দূষিত নগরী ছেড়ে বাংলাদেশ দলের এবারের ঠিকানা ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরগুলো একটি। দিল্লি থেকে গতপরশুই রাজকোটে পৌঁছেছেন মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকুর রহিমরা। পরিবেশের মতো পরিবর্তন এসেছে দলের আবহেও। দিল্লির জয়ে সবার ভেতরের গুমোট ভাব কেটে গিয়ে বইছে স্বস্তির সুবাতাস।

প্রথম ম্যাচের আগে অনুশীলনের ফাঁকে মোসাদ্দেক হোসেন বলেছিলেন, তিনটি ম্যাচই জিততে চায় দল। অতীত রেকর্ড আর সাম্প্রতিক বাস্তবতা বলছিল, সেটি ¯্রফে কথার কথা। কিন্তু দিল্লিতে জয়ের পর মনে হচ্ছে, অসম্ভব নয় কিছুই! সেই বিশ্বাস ছড়িয়ে গেছে দলেও। প্রথম ম্যাচের জয়ে দারুণ বোলিং করা আমিনুল ইসলামের কণ্ঠে তাই ম্যাচ শেষে ছিল সেই বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি। আর গতকাল দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির ভেন্যু রাজকোটে পৌঁছে সেই রেশ টেনে বদলের এক গল্পই শোনালেন আরেক তরুণ তুর্কি আফিফ হোসেন।

কিছু দিন আগেও বাংলাদেশকে মনে হচ্ছিল ভেঙে পড়া এক দল। শরীরী ভাষায় ছিল হতাশার বিজ্ঞাপন। ঝুলে পড়া কাঁধ দেখে প্রতিপক্ষ বুঝে নিতো সবটা। সেই দলকেই ভারতের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দেখা গেল অন্য চেহারায়। মাঠে দেখা গেল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এক দলকে। এই বদলে যাওয়ার পেছনের গল্পটা শোনালেন তরুণ অলরাউন্ডার আফিফ।

দিল্লিতে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের শরীরী ভাষায় ছিল যেন বারুদ। প্রায় প্রতিটি বলের পিছনে ছুটছিলেন তিন-চার জন করে ফিল্ডার। ব্যাটিং-বোলিংয়েও ছিল হাল না ছাড়া মানসিকতা। উজ্জ্বীবিত বাংলাদেশকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি দেশের মাটিতে শক্তিশালী ভারত। রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাঠে দলের অনুশীলন শেষে আফিফ জানালেন, আগ্রাসী ফিল্ডিং দিয়ে শুরুতেই ভারতকে চমকে দেওয়া ছিল তাদের পরিকল্পনার অংশ, ‘দলের পরিকল্পনা ছিল,ফিল্ডিংয়ে সবাই আগ্রাসী থাকব। মাঠে সেটাই করার চেষ্টা করেছি। ফিল্ডিংয়ের ব্যাপারে অনেক জোর দেওয়া হচ্ছে, যেন প্রত্যেকটা সুযোগ কাজে লাগাতে পারি।’

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যে অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে তাতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কাজটা সহজ ছিল না অধিনায়ক ও কোচের জন্য। ভগ্ন মনোবলের দলকে মাহমুদউল্লাহ ও রাসেল ডমিঙ্গো কিভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন, জানালেন আফিফ, আমাদের অধিনায়কের বার্তা ছিল, যে যেটা সবচেয়ে ভালো পারে, সেটাই করতে হবে। একটা দল হিসেবে খেলতে হবে। এটাই ছিল আমাদের প্রতি তার বার্তা। কোচ আমাদের বলেছেন, সব সময় মন খুলে খেলতে। যে যেভাবে খেলতে পছন্দ করে, তাকে সেভাবে খেলার স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে বলেই এভাবে খেলতে পারছে।’ কোচ-অধিনায়কের আন্তরিক প্রচেষ্টার সঙ্গে মিলেছে খেলোয়াড়দের নিজের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালনের চেষ্টা, ‘সবাই নিজের জায়গা থেকে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই পরিকল্পনাই ছিল দলের। আমরা অনুশীলনে এভাবেই চেষ্টা করেছি।সবাই এক সঙ্গে থেকেছি।’

দলকে এক হয়ে খেলতে সাহায্য করেছে তারুণ্যও। মাশরাফি বিন মুর্তজা বেশ আগেই ছেড়েছেন টি-টোয়েন্টি। নিষেধাজ্ঞার জন্য নেই সাকিব আল হাসান। পারিবারিক কারণে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। দলে তরুণ ক্রিকেটারের ছড়াছড়ি। আফিফ জানান, সিনিয়র খেলোয়াড়রা দারুণভাবে আগলে রেখেছেন তাদের, ‘আমাদের সিনিয়র খেলোয়াড়রা জুনিয়রদের অনেক সহায়তা করছেন। এটা আমাদের চাপহীন ও ভীতিহীন ক্রিকেট খেলতে অনেক সাহায্য করেছে। তারা সব সময় সহায়তা করে যাচ্ছেন। আশা করি সামনেও কোনো সমস্যা হবে না।’

দিল্লিতে জিতে আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। সিরিজ জেতার ভাবনা মনে এনে নিজেদের অহেতুক চাপে ফেলার কোনো কারণ তারা দেখছেন না। ঠিক রাখতে চান প্রক্রিয়া, এরপর দেখতে চান ফল। শুধরে নিতে চান আগের ম্যাচের ভুল, ‘ড্রেসিংরুমের অবস্থা ভালো। আমরা পরের ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিজেদের খেলা নিয়ে ভাবছি। নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করার পর দেখা যাবে। আপাতত সবার জায়গা থেকে আমাদের সেরা পারফরম্যান্সটা করার চেষ্টা করব। ম্যাচ জিতলে আসলে তেমন ভুল বের হয় না। এরপরও ব্যক্তিগতভাবে যার যে ভুল-ত্রুটি ছিল, সে সেগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবে।’

বাংলাদেশ যতটা চনমনে মেজাজে, ততটাই চাপে থাকার কথা ভারতের। তবে প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবছেন না তারা, জানালেন আফিফ, ‘আমরা জানি না, ওরা চাপে আছে কি না। তবে প্রথম ম্যাচে জেতার পর আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী আছি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে ভালো অনুভব করছি। এটা পরের ম্যাচে আমাদের আরও ভালো খেলতে সাহায্য করবে।’

আগামীকাল সন্ধ্যায় এই রাজকোটেই হবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। ভেন্যু সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাঠ। এখান থেকে আরব সাগরের দূরত্ব ১৯০ কিলোমিটার। প্রায়ই তাই সাইক্লোনের কবলে পড়তে হয় গুজরাটের এই অঞ্চলকে। সেই আশঙ্কা ছিল এই ম্যাচেও। তবে আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মাহা’ অনেকটা দুর্বল হয়ে গুজরাটের আশপাশের এলাকা থেকে সরে গেছে। গত দু’দিনে রাজকোটে মেলেনি ঘূর্ণিঝড়ের কোনো আভাস। এমন কি গতকাল সকাল থেকেই কড়া রোদে পুড়ছে শান্ত শহরটি। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু শাহ জানিয়েছেন, ‘আবহাওয়ায় নেই কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার। হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, ম্যাচ প- হওয়ার শঙ্কা খুবই কম।’

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাংলাদেশ


আরও
আরও পড়ুন