Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার , ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

সীতাকু-ে ফসলে পোকা দমনে জমিতে আলোকফাঁদ স্থাপন

শেখ সালাউদ্দিন, সীতাকু- (চট্টগ্রাম) থেকে | প্রকাশের সময় : ৮ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

সীতাকু- উপজেলায় ফসলে পোঁকা দমনে বর্তমানে পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের ২৯টি ব্লকে ১৪৫টি আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। এতে সুফল পাবেন উপজেলার ১৯হাজার কৃষি পরিবার। এ আলোক ফাঁদ স্থপনের মাধ্যমে পোঁকা সনাক্ত করনে মাঠে নেমেছে কৃষি বিভাগ।

সীতাকু- উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার রঘুনাথ নাহার দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, সার্বক্ষনিক উপজেলায় কর্মরত উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগন সন্ধ্যা বেলায় মাঠে আলোক ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে পোঁকা সনাক্ত করন এবং পোঁকা দমনের কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে উপজেলার পোঁকা আক্রমণ প্রবণ মাঠগুলো চিহ্নিত করে আলোক ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে পোঁকার উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। তাছাড়া এমন কিছু পোঁকা আছে যেমন বাদামী গাছ ফড়িং আলোর প্রতি সংবেদনশীল তাই আলোক ফাঁদ স্থাপন এর মাধ্যমে এ পোঁকার উপস্থিতি নির্ণয় এবং ব্যবস্থার মাধ্যমে তাৎক্ষনিক পোঁকা দমন করে ফসল রক্ষা করা সম্ভব। প্রতিটি ব্লকে ৫টি করে আলোক ফাঁদ স্থাপণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ৮০টি ব্লকে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। এতে করে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহের সঞ্চার ঘটেছে।

বাড়বকু- ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিন, সালমা সুলতানা ও শিরিন আক্তার বলেন, কৃষকদের মাঝে আলোক ফাঁদ স্থাপনে পোঁকা সনাক্ত করণ এবং দমন করা বিষয়ে সম্প্রতি অনেক সারা পড়েছে। বর্তমানে কৃষক পরিবারগুলো আলোক ফাঁদ ব্যবহারের বিষয়ে কৃষকদের উদ্বোদ্ধ করা হচ্ছে। এখানে প্রায় ১০০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান ও বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ করেছেন এমন কৃষক আড়াই হাজার হবে। এতে করে সবজিতে কোনো প্রকার কীটনাশকও ব্যবহার করার প্রয়োজন হচ্ছে না। প্রাকৃতিক নিয়মেই পোকা দমনের কাজ চলছে। ফলে ফসলের উৎপাদনও ভাল হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এক কৃষক মোহাম্মদ রফিক বর্তমানে আমন মৌসুমে বিআর জাত ২২ ধানের চাষ করেছেন তিনি। আলোক ফাঁদ ব্যবহারে তারা অনেক সুফল পাচ্ছেন। আগের মত ধান ও সবজিতে পোঁকা মাকড় বসতে দেখা যাচ্ছেনা। কৃষি বিভাগ আলোক ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে পুরো উপজেলায় কৃষক পরিবার অনেক উপকৃত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

২নং বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল ব্লকে দায়িত্বে থাকা পিপাস কান্তি চৌধুরী বলেন, তার ব্লকে আলোক ফাঁদ ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। সন্ধ্যার পর কৃষদের সাথে নিয়ে পোঁকা সনাক্ত করন এবং পোঁকা দমনের কাজে বের হতে হয় তাকে। কৃষকরাও অনেক আগ্রহে দলবদ্ধভাবে ছুঁটে আসেন। মাত্র ৩টি খুটির মাথাকে উপরের দিকে এক সাথে বেঁধে তার একটু নিছে লাইট অথবা চার্জ লাইট বেঁধে নিচের দিকে বড় গামলায় সাবান মিশ্রিত পানি দিয়ে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়। এতে গামলায় সাবান মিশ্রিত পানির মধ্যে ক্ষতিকারক পোঁকা মাকড় পড়ে মারা যায়। এতে করে খুব সহজেই পোঁকা দমন করা সম্ভব হয়।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ