Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

পঞ্চগড়ে বাস চাপায় ইজিবাইকের চালকসহ নিহত ৭

পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৮ নভেম্বর, ২০১৯, ৭:১৫ পিএম

পঞ্চগড়ে বাসচাপায় ইজিবাইকের চালকসহ মারা গেছেন ৭ জন। গতকাল শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের মাগুড়মারী চৌরাস্তা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ভজনপুর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধারের সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাদের ধাওয়া করে। পঞ্চগড় থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌছলে বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে পড়েন তারা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। দুর্ঘটনার পরই স্থানীয়রা প্রায় তিন ঘণ্টা পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনার পরই বাসের চালকসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। হাইওয়ে পুলিশ বাসটি আটক করেছে।

নিহতরা হলেন তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকার ডাকবদলী গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে লাবু (২৭) এবং তার নব বিবাহিত স্ত্রী মুক্তি (১৮), পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের চেকরমারী গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে অটোচালক রফিক (২৮), একই উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের সুরিভিটা বদিনাজোত গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে আকবর আলী (৭০) ও তার স্ত্রী নুরিমা বেগম (৫৭), সাতমেরা ইউনিয়নের রায়পাড়া গ্রামের মফিজউদ্দিনের ছেলে মাকুদ হোসেন (৪৩) এবং একই ইউনিয়নের সাতমেরা ইউনিয়নের সাহেবীজোত গ্রামের আকবর আলীর স্ত্রী নার্গিস (৪০)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে কাজী এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাস পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া যাচ্ছিল। বাসটি পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের আমতলা স্থানে পৌছলে একটি ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে ভজনপুর থেকে জগদলের দিকে আসা একটি ইজিবাইককে চাপা দেয়। এসময় বাসের নীচে আটকে থাকা ইজিবাইকটিকে প্রায় একশ গজ টেনে হিচড়ে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ৫ জন। আহত দুইজনকে আশংকাজনক অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারাও মারা যায়।

সড়ক দূর্ঘটনায় ৭ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, দূর্ঘটনার পরই বিক্ষুদ্ধ লোকজন মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ আমি সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করার পর তারা আশ্বস্ত হয়ে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। ঘটনার পরই চালক পালিয়ে যাওয়ার কারণে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে বাসটি আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ