Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

মিয়ানমারে এনএলডির ক্ষমতায় থাকা অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নির্ভরশীল

প্রকাশের সময় : ২১ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) মতে, ২০১৫ সালে মিয়ানমারের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা ৮.৬ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সর্বশেষ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ বছর মিয়ানমারের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৮.৪ শতাংশ হবে বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আশা করছে, যা এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলে দ্রুততম। পূর্ববর্তী ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রেক্ষিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য মিয়ানমারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। তাই নয়া সরকার ঘোষণা করেছে যে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম কয়েক মাসের জন্য সরকারের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে ‘১০০ দিনের পরিকল্পনা’ গ্রহণ করা হবে।
সদা পরিবর্তনশীল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এনএলডি সরকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার জোরদার, দেশীয় অর্থনৈতিক বেসরকারীকরণ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের শিল্প উৎসাহিতকরণ এবং গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্য দূরীকরণে কৃষি বিনিয়োগ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখবে।
এনএলডি সরকার ক্রমবর্ধমান বিপুল বিদ্যুৎ চাহিদা মিটাতে ক্ষুদ্র ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে এবং অধিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস, পানি, পরিষ্কার কয়লা ও অন্যান্য পরিষ্কার জ্বালানি ব্যবহার করবে। এদিকে আঞ্চলিক সংযোগে সাহায্য করতে অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুততর করবে, মূল্য স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে, বিদেশী বিনিয়োগের ঝুঁকি হ্রাস করবে, বলিষ্ঠ বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করবে এবং তার শিল্প কাঠামোর রূপান্তর ঘটানোর সুবিধার জন্য বিদেশী প্রযুক্তি ও পুঁজির পূর্ণ সুবিধা কাজে লাগাবে।
তবে ইতিমধ্যে অগ্রগতি লাভ করা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে মিয়ানমার বহু সমস্যার সম্মুখীন।
সর্বপ্রথমেই উল্লেখ্য, মিয়ানমার মুদ্রাস্ফীতির শিকার। ২০১৫ সালে দেশটির মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ১১.৩ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা ৯.৫ শতাংশে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অধিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আকর্ষণের জন্য কিভাবে একটি নমনীয় ও নিরাপদ বিদেশী বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়, পাশাপাশি দেশের শিল্প অবকাঠামো জোরদার এবং উৎপাদন বাড়ানো নয়া সরকারের জন্য একটি বড় সমস্যা।
এছাড়া মিয়ানমারের অর্থ ব্যবস্থার আধুনিকায়নেরও আরো সংস্কার প্রয়োজন। দ্রুত বিকাশমান ব্যাংকিং খাতের উপর সরকারের তত্ত্বাবধান জোরদার করা প্রয়োজন। বিদেশী ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ সমস্যা মোকাবেলায় সাহায্য করতে পারে, তবে ঝুঁকি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে সংস্কার কাজ ধাপে ধাপে করা প্রয়োজন।
আরো কথা হচ্ছে, বিদেশী পুঁজি ব্যবস্থাপনা ত্রুটিহীন নয় এবং বিনিয়োগের ভবিষ্যতও অস্পষ্ট। মিয়ানমারে একটি পরিপক্ব ও সুষ্ঠু বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা দেশে জমির আকাশ ছোঁয়া মূল্য ও ত্রুটিযুক্ত অবকাঠামোর কারণে বিপুল ব্যয়ের সম্মুখীন। এর ফল হিসেবে অনেকেই মিয়ানমারের বাজারে প্রবেশে অনিচ্ছুক।
মিয়ানমারের ভৌগোলিক অবস্থান চীনের কাছে দেশটির গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমলেও মিয়ানমারে চীনের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের পরিমাণ বেশ উঁচুতে। ‘ওয়ান বেল্ট , ওয়ান রোড’ কাঠামোর আওতাধীন উদ্যোগে দু’দেশের মধ্যে অবকাঠামো, কৃষি, নির্মাণ শিল্প, পর্যটন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যা দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সাহায্য করবে। তবে নিজস্ব অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত ওয়াশিংটনের মিয়ানমারের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার মত অতিরিক্ত শক্তি নেই।
প্রতিবেশী হিসেবে মিয়ানমার ও ভারত একে অপরের উপর নির্ভরশীল। দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সমিতির (সার্ক) সাথে আসিয়ানের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে মিয়ানমার অপরিহার্য।
এনএলডি সরকারের পূরণযোগ্য অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। জনসমর্থনেই অং সান সুকি ও তার এনএলডি জয়লাভ করেছে। জনগণের জীবনযাত্রার মানের কতটা উন্নতি করতে পারে তার উপরই নির্ভর করেেছ কতদিন তারা টিকে থাকতে পারবে। মিয়ানমারের জনগণ এনএলডির উপর উচ্চ আশা স্থাপন করেছে। দলটি দেশের অর্থনীতি ও নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যর্থ হলে জনগণের আস্থা হারানোর ঝুঁকি সৃষ্টি হবে।
এনএলডিকে বাস্তবভিত্তিক নীতি দ্বারা তার দেশশাসনে অবস্থান সংহত করতে হবে। তবে সু কি নিজেসহ এনএলডির উচ্চ নেতারা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অনভিজ্ঞ। কারণ তারা কেউই ক্ষমতায় ছিলেন না। স্বল্প সময়ের মধ্যে মন্ত্রিসভায় যোগ্য রাজনীতিবিদদের সমাবেশ ও কার্যকর প্রশাসনিক টিমের প্রশিক্ষণ প্রদান হবে এনএলডির পরীক্ষা। সূত্র গ্লোবাল টাইমস।
* নিবন্ধ লেখক ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রফেসর।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমারে এনএলডির ক্ষমতায় থাকা অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নির্ভরশীল
আরও পড়ুন