Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

বাজার দরে চাষিরা নাখোশ

আখের বাম্পার ফলন

মো. রিয়াজ, বোরহানউদ্দিন(ভোলা) থেকে | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ভোলার বোরহানউদ্দিনে বাম্পার ফলনেও আখ চাষির মুখে হাসি নেই। এর কারণ হিসেবে কৃষকরা জানান, এ বছর গত বছরের তুলনায় বাজার মূল্য অনেকটা কম। কৃষি অফিস জানায়, কৃষকদের কিছু প্রতিকূল অবস্থার কারণে যথাসময়ে ছত্রাকজনিত রোগ রেড রটের ঔষধ না দেয়ায় ওই আখ বিভিন্নস্থানে লাল রঙ হয়ে যায়। ফলন ভালো হওয়া সত্তে¡ও ক্রেতাদের ওই আখ কিনতে আগ্রহ কম থাকে।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে এ বছর ১ শত ৩৩ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। হেক্টর প্রতি ৪৫ মেট্রিক টন আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া অনুকূল আবহাওয়া,সঠিক পরিচর্চার কারণে আশানুরুপ ফল পাওয়া গেছে। তবে সব কৃষক যদি যথাসময়ে রেড রট প্রতিরোধ করতে পারতো তাহলে তারা অধিক লাভবান হতো। বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইন্সস্টিটিউটের সরেজমিন বিভাগ চিবিয়ে খাওয়া আখ চাষের উপর চাষিদের স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করেছে।
উপজেলার সব এলাকায় আখ চাষ হলেও এর সিংহভাগ উপজেলার বড়মানিকা ও কুতুবা ইউনিয়নের উৎপাদন হয়। বড়মানিকা ইউনিয়নের তিন নাম্বার ওয়ার্ডের বর্গাচাষি ইসহাক, মো. রাশেদ, খোরশেদ আলম, আব্দুল মালেক ও কামাল হোসেন জানান, বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইন্সস্টিটিউটের সরেজমিন বিভাগ গত বছরের পৌষ মাসে রঙ বিলাস ও অমৃত জাতের বীজ আখ সরবরাহ করেছে। এছাড়া তারা নিজেরা সংগ্রহ করে সিও-২০৮ জাতের আখ ও বোম্বাই-২০৮ জাতের চাষ করেছেন।

আখ চাষি মো. ইসহাক জানান, ৪৬ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করে তার ৫৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পুরো ক্ষেত তিনি ঠিকা ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে ফেলেছেন। মো. রাশেদের ৬০ শতাংশে আখ চাষ করে খরচ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। বিক্রি করেছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ৪০ শতাংশ চাষ করে আব্দুল মালেক ও কামাল হোসেন উভয়ের খরচ পড়েছে ৫০ হাজার টাকা, বিক্রি করেছেন ৮০ হাজার টাকা।
কুতুবা ইউনিয়নের ছয় নাম্বার ওয়ার্ডের ছোটমানিকা গ্রামের আখ চাষি জামাল দালাল ৪৮ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করে খরচ পড়েছে ৬০ হাজার টাকা, বিক্রি নেমেছে ৯৬ হাজার টাকা। ৪০ শতাংশে আখ চাষ করে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে হাবিব ফরাজীর, বিক্রি নেমেছে ৮০ হাজার টাকা।

আখ চাষিরা জানান, শুধু ইসহাক গত বছরের ন্যায় দাম পেয়েছেন। অন্যান্য কৃষকরা গত বছরে প্রতি চার শতক থেকে ১২ হাজার টাকার আখ বিক্রি করেছেন। কিন্তু এ বছর ওই পরিমান জমি থেকে ৮ হাজার টাকার আখ বিক্রি করতে পেরেছেন।
কৃষকরা আরো জানান, কৃষি অফিসের লোকজন তাদের নানা পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন। কৃষকরা আরো জানান, আখ বিক্রি ছাড়াও প্রতি ৮ শ’ আখ খেত থেকে পরিবহনে তুলে দিলে ২ হাজার টাকা করে বাড়তি আয় হয়।
বড়মানিকা ইউনিয়ন অংশের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানান, আখ চাষিদের পাশে থেকে সব সহায়তা করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, আখচাষে ঝুঁকি কম, মূলধন কম কিন্তু লাভ বেশী। কৃষকরা যথাসময়ে রেড রটের স্প্রে করলে আরো লাভবান হতো। এছাড়া একটা পর্যায় পর্যন্ত এর সাথে একাধিক ফসল করা যায়। বর্তমানে চিবিয়ে খাওয়া জাতের আখ চাষকে জনপ্রিয় করতে উদ্ধুদ্ধকরণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ