Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

বিশ্ব দেখবে ওয়ান সিটি টু টাউন

নুরুল আবছার তালুকদার, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) থেকে | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দৃশ্যমান হচ্ছে কর্তফুলী তলদেশে বঙ্গবন্ধু ট্যানেলের আনোয়ারা অংশে ৫ শ’ ৫০ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় পাতাল পথ বঙ্গবন্ধু ট্যানেলের মোট দৈর্ঘ্য ৩.৪ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে ৩ শ’ ৬০ মিটার অংশেরও বেশি খননের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে টিউবের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৪ শ’ ৫০ মিটার। নদীর তলদেশে ৯৪ মিটার দীর্ঘ ও ২২ হাজার টন ওজনের ট্যানেলের বোরিং মেশিন (টিবিএন) দিয়ে চলছে খননের মূল কাজ। এভাবে দ্রæত গতিতে এগিয়ে চলছে দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু ট্যানেলের নির্মাণ কাজ। ট্যানেল নির্মাণ কাজের সাথে সাথে চলছে আনোয়ারা অংশে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ। উপজেলার পশ্চিম প্রান্তে ডিএপি সারকারখানা ও কাফকোর মাঝামাঝি চর এলাকায় শুরু হয়ে চাতরী চৌমুহনী বাজারের দক্ষিণ পাশে পিএবি সড়কে এসে এ অ্যাপ্রোচ সড়ক শেষ হবে।

সরেজমিনে অ্যাপ্রোচ সড়ক এলাকায় দেখা যায়, ডিএপি সারকারখানা হতে চাতরী চৌমুহনী বাজারের দক্ষিণের পিএবি সড়ক পর্যন্ত পুরো এলাকা জুড়ে চলছে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ কাজের মহাযজ্ঞ। বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে সড়ক। ভেঙে ফেলা হয়েছে অ্যাপ্রোচ সড়কে পড়া এলাকাবাসীর বাপ দাদার বসত ঘরবাড়ি। ট্যানেলের মুখে নিচু এলাকায় ওভারব্রিজের মাধ্যমে মেইন সড়কের সাথে মিলিত হবে এ অ্যাপ্রোচ সড়ক। ইতোমধ্যে ওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য ফ্লাইওভারের পিলার তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্থদের পুনবার্সন কাজও চলছে সমান তালে। প্রদান করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ ৬৪ জনকে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। এ বছরে শুরু হবে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য আবাসন নির্মাণ কাজ। ট্যানেল ও অ্যাপ্রোচ সড়ক চালু হলে আনোয়ারা হবে নতুন শহর। চট্টগ্রাম শহর হবে পুরাতন শহর। আর বিশ্ব দেখবে সাংহায়ের আদলে ওয়ান সিটি টু টাউন। অ্যাপ্রোচ সড়কে জায়গা ছেড়ে দেওয়া বৈরাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বেলু বলেন, বাপ দাদার ভিটা বাড়ি সড়কের জন্য ছেড়ে দেয়ার মনে দুঃখ থাকলেও এলাকার উন্নয়ন ও বাকি জমির দাম বৃদ্ধি হতে দেখে দুঃখকে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের আশায় মুছে ফেলেছি। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর ট্যানেল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। এরপর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল খনন কাজ উদ্বোধন করে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪শ ৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন অর্থায়ন করবে ৪ হাজার ৮শ কোটি টাকা। কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২০ সাল। এদিকে অ্যাপ্রোচ সড়ক দৃশ্যমান হওয়ার সাথে সাথে বেড়ে চলছে আশপাশের জমির দাম। ছুটে আসছে দেশ বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ছোট বড় উদ্যোক্তারা। ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে ছোট বড় বেশ কয়েকটি কারখানা।
আনোয়ারা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি অধ্যাপক এম. এ. মান্নান চৌধুরী বলেন, আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্বপ্ন ছিল আনোয়ারা-কর্তফুলীকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক করা। তার এ স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় তারই সুযোগ্য পুত্র ভূমিমন্ত্রী আলহাজ সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি নিরলস প্রচেষ্টায় আনোয়ারা-কর্তফুলীতে একের পর এক ছুঁটে আসছে দেশ বিদেশের ছোট বড় উদ্যোক্তারা। গড়ে তুলছেন শিল্প কারখানা। বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন প্রয়াত বাবার স্বপ্ন। এ ট্যানেল ও অ্যাপ্রোচ সড়ক চালু হলে আনোয়ারার দৃশ্য পাল্টে যাবে। মুছে যাবে বাপ দাদার ভিটা বাড়ি ছেড়ে দেয়া এলাকাবাসীর দুঃখ।



 

Show all comments
  • মোঃআইনুদ্দীন ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৭:৩১ এএম says : 0
    আমি লেখাটি পড়ে সবকিছু বুঝতে পারছি না,,বিনীত অনুরোধ যদি এই সড়ক সমপর্কে ভিডিও করে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করতেন তাহলে আমার মতো এতো আক্ষেপ আগ্রহ নিয়ে বসে থাকা মানুষও বিষয়টি ভালো করে বুজে শান্তি পেত।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ