Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার , ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

বালাগাল উলা বিকামালিহি কাসাফাদ্দোজা বিজামালিহি

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- “এবং (এই রাসূল (সা.) তাদের ওপর হতে তাদের ভারি বোঝা এবং শৃঙ্খল (অধীনতার) যা তাদের ওপর (নাফরমানীর কারণে আরোপিত) ছিল, তা দূরীভ‚ত করেছেন (এবং তাদেরকে স্বাধীনতার নেয়ামত দ্বারা সমৃদ্ধশালী করে তুলেছেন)।” (সূরা আ’রাফ : আয়াত : ১৫৭)।
মহানবী (সা.)-এর দুনিয়ায় তাশরিফ আনয়ন হলো মজলুম মানবতার জন্য নাজাত এবং মুক্তির শুভবার্তার দিন। তার সৌভাগ্যপূর্ণ জন্ম সুন্দরতম মুহ‚র্ত ছিল, যার আনন্দ সারা কায়েনাতে উদযাপন করা হয়েছিল। তার আবির্ভাব একজন মুমিনের জিন্দেগির সবচেয়ে বড় খুশির ও আনন্দের বিষয়। আল্লাহ রব্বুল ইজ্জত তার আবির্ভাবকে উম্মাতের জন্য বহু বড় এহসান দ্বারা বিশ্লেষণ করেছেন। সেই দিন যখন সাইয়েদুল আম্বিয়া (সা.)-এর শুভ জন্ম হলো এবং তার মুবারক আবির্ভাব দ্বারা বিশ্বমানবতাকে সমৃদ্ধ করা হলো, ইহা সকলের জন্যই তাজীম ও তাকরীমের যোগ্য। পবিত্র আবির্ভাবের সেই শ্রেষ্ঠতম দিন এতখানি উপযুক্ত যে, আমরা সেই দিন শ্রেষ্ঠ নেয়ামত লাভের ওপর সর্বোতভাবে শোকরগুজার হয়ে যাবো এবং তার সম্মানের জন্য নিজেদের দিল ও প্রাণকে রাস্তার বিছানায় পরিণত করব এবং ইহাকে প্রত্যেক লভ্য জায়েয তরিকায় প্রাণবন্ত সম্মান, বিশ্বাস ও মহব্বতের প্রেরণায় অবগাহন করে জশন-এর সুরতে খুব আড়ম্বরের সাথে উদযাপন করব। উপরোল্লিখিত হাদিসসমূহ দ্বারা হুজুর (সা.)-এর মিলাদ উদযাপনের আরও একটি দলিল এবং প্রমাণ পাওয়া যায়। কেননা, হুজুর (সা.) হযরত মূসা (আ.)-এর সাথে সম্পর্কের কারণে সেই দিনটি উদযাপন করেছেন এবং স্বয়ং রোজা রেখেছেন। এর দ্বারা কোনো বড়দিন উদযাপন করার বৈধতা খোদ সুন্নাতে মোস্তফা (সা.)-এর দ্বারা প্রমাণিত হয়। আর ঈমানদারদের জন্য মিলাদে মোস্তফা (সা.)-এর দিনের চেয়ে, আর কোনো দিন কি বড় হতে পারে? সুতরাং সেই বেলাদতের দিনকে উদযাপন করাও সুন্নাতে মোস্তফা (সা.)-এর অনুসরণ করারই শামিল। কোনো কোনো মানুষের মনে এই প্রশ্নের উদয় হতে পারে যে, ইহুদিরা নিজেদের আজাদির দিনকে। অর্থাৎ আশুরার দিনকে রোজা রেখে উদযাপন করত তবে, মিলাদুন্নবী (সা.)-এর দিনকে ঈদের দিনের মতো উদযাপন করা হয় ঠিকই, কিন্তু এই দিন রোজা রাখা হয় না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর এই যে, কোনো মুবারক দিনকে আনন্দের দিন হিসেবে উদযাপন করা সুন্নাত। ইহাকে শরীয়তের সীমার মধ্যে রেখে অন্যভাবেও উদযাপন করা যায়। ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখত বলে এর অর্থ এই নয় যে, এই দিনের উদযাপনকে রোজা রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করতে হবে এবং এই দিনকে রোজা রাখা ছাড়া অন্য কোনোভাবে উদযাপন করা যাবে না। উল্লিখিত হাদিসসমূহে এই কথার প্রতি কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না। বাস্তবতা এটাই যে, ইহুদিরা এই আনন্দের সময় একটি অতিরিক্ত নেক আমল হিসেবে রোজা রাখত এবং ঈদের দিনের মতো উদযাপন করত।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ