Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

দুর্নীতির সুড়ঙ্গে সরকারের পতন ঘটবে

খোকার স্মরণসভায় মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দুর্নীতির যে সুড়ঙ্গে এ সরকার পড়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। দুর্নীতির এত বড় সুড়ঙ্গেই তাদের পতন হতে বাধ্য। অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের শেষ মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে গতকাল তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এই স্মরণসভার আয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম।

মওদুদ আহমদ বলেন, আপনারা অনেকেই মনে করেন, আমরা রাস্তায় নামতে পারছি না, আন্দোলন করতে পারছি না। সেজন্য বুঝি সরকারের পতন হবে না। কিন্তু আমি নিরাশ নই, হতাশ নই। অতীতে আমরা যেভাবে সরকারের পতন করেছি সেভাবে সব সময় সরকার পতন হয় না। আমি মনে করি, বর্তমান সরকার তাদের নিজেদের কারণে তারা তাদের পতন ডেকে নিয়ে আসবে। কারণ, দুর্নীতিতে যে শিকড়, সুড়ঙ্গ তারা তৈরি করেছে সেই সুড়ঙ্গ থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারবে না। এই ক্যাসিনো ও অস্ত্র মামলায় সম্রাট, শামীমসহ যাদের ধরেছেন, আপনারা (সরকার) মনে করছেন এদের বিচার করলেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ঠিক হবে না। এটা তো একটা আইওয়াশ মাত্র, এটা দেশের জনগণ জানে। এ সরকারের দুর্নীতির সুড়ঙ্গ এত বড় হয়েছে যে, তাদের পতন হতে বাধ্য।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী অনেকের স্মৃতিচারণ করেছেন। জাসদের একজন নেতা মারা গেছেন, তার জন্য কথা বলেছেন। কিন্তু ক্ষণিকের জন্য সাদেক হোসেন খোকার নাম উল্লেখ করেন নাই। কেন করেন নাই? শুধু কি এটাই কারণ যে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সাদেক হোসেন খোকা প্রধানমন্ত্রীকে হারিয়েছিলেন? সেই কারণে কি তার কথাটা তার (প্রধানমন্ত্রী) মনে আসেনি? আমরা তো প্রধানমন্ত্রীকে একটা বিরাট মনের মানুষ হিসেবে দেখতে চাই। তার তো এরকম হীনম্মন্যতা থাকার কথা নয়। তার উচিত ছিল সাদেক হোসেন খোকার স্মরণে কিছু বক্তব্য দেয়া। তিনি বলেন, আমরা লজ্জা পেয়েছি যে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী এতজনের কথা বললেন, কিন্তু সাদেক হোসেন খোকার কথা বললেন না। যা হোক, সাদেক হোসেন খোকা আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যতদিন বেঁচে থাকবে আমরা তাকে স্মরণ করব।
মওদুদ বলেন, সাদেক হোসেন খোকা একজন সাহসী, সৎ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাংলাদেশকে ভালোবাসতেন, দেশপ্রেমিক নেতা ছিলেন। তার অবদান এ দেশের মানুষ কখনও ভুলবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তাকে যে সম্মান দেখানো উচিত ছিল, সে সম্মান আমরা দেখাতে পারিনি।

মওদুদ আহমদ বলেন, দেশের সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের যত সম্পত্তি জবরদখল করা হয়েছে, আমরা যদি তার হিসাব নেই তাহলে দেখব এই সরকার সা¤প্রদায়িক, অসা¤প্রদায়িক নয়। এই সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর চরমভাবে অত্যাচার করেছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলÑ জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করি, এ সরকারের পতন হওয়ার আগে যেন আমার মৃত্যু না হয়। রব বলেন, মানুষের কণ্ঠরোধ করে, স্বাধীনতা হরণ করে বেশিদিন যদি ক্ষমতায় থাকেন, আমি কিন্তু বলতেছি না কী হবে। তবে মানুষ যদি রাস্তায় নেমে যায় আপনাদের কিন্তু খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ছাত্রের গুÐামির প্রতিবাদ করায় শিক্ষককে পানিতে ডুবানো হয়েছে, এটা কি? চার মাস থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকা অবস্থায় থেকেই তারা আন্দোলন করছে। একজন ভিসি, এক মহিলার যদি লজ্জা না থাকে, যদি আপনি ভুলও না করেন তারপরও দায়িত্বে থাকেন কিভাবে? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যদি দুর্নীতি খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে ব্যবস্থা নেবেন। আপনি ব্যবস্থা নিয়েন তার আগে ভিসিকে সরান একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, তারপরে ব্যবস্থা নেন। আসামিকে ক্ষমতায় রেখে কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হয় না। কী আশ্চর্য ব্যাপার, দেশের প্রধানমন্ত্রী কথা বলছেন উল্টাপাল্টা।

স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, কৃষক দলের সদস্য এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ